advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

নোয়াম চমস্কিকে লাইভে এনে তোপের মুখে তরুণ (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ জুন ২০২১ ২২:৩৬ | আপডেট: ২৩ জুন ২০২১ ২২:৫৯
ফেসবুক লাইভে মিরাজ রিপন ও নোয়াম চমস্কি
advertisement

আধুনিক ভাষাতত্ত্বের জনক ও প্রখ্যাত দার্শনিক নোয়াম চমস্কিকে ফেসবুক লাইভে শিডিউল ও সাক্ষাৎকার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন মিরাজ রিপন নামে চট্টগ্রামের এক তরুণ। ওই ফেসবুক লাইভে এসে বিব্রত হয়েছেন চমস্কি। শিডিউলের সময় থেকে একঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেন নোয়াম চমস্কি। পরে মাত্র ৫ মিনিট লাইভে থেকেই তিনি বিদায় নেন।

নোয়াম চমস্কির মতো একজন বিখ্যাত ব্যক্তিকে বিব্রত করার পাশপাশি মিরাজ রিপন নামে ওই তরুণ সমালোচিত হন তার ফেসবুক লাইভে এক পোশাকের দোকানের পৃষ্ঠপোষকতা ও সেটির নাম প্রকাশ করে। 

জানা গেছে, বিভিন্ন সময় নানাধরনের মেইল আদান প্রদানের পর চমস্কিকে ফেসবুক লাইভের জন্য রাজি করাতে সক্ষম হন মিরাজ রিপন। আজ বুধবার রিপনের ফেসবুক লাইভের জন্য শিডিউল দেন চমস্কি। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস সময় রাত ৮টায় অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডে লাইট সেভিংস না বুঝে রিপন একঘণ্টা দেরি করেন। ওদিকে বসে থাকতে থাকতে অধৈর্য হয়ে চমস্কি মেইল করেন, am waiting, Are we scheduled for now?

রিপন প্রশ্নটা না বুঝেই মেইলটি ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে বলেন, 'চমস্কি ইন্টারভিউ এর জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছেন!' এরপর একঘণ্টা পরে লাইভে সংযুক্ত হয়ে কয়েকটি প্রশ্ন করেন মিরাজ রিপন। চমস্কি তার প্রশ্নও ঠিক মতো বোঝেননি। তারপরও দুটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি বিদায় নেন, কেননা তার অন্যত্র শিডিউল দেওয়া ছিল। ৫ মিনিটেই ওই লাইভ শেষ হয়ে যায়।

ফেসবুকে লাইভটি দেখে নেটিজেনরা মিরাজ রিপনের কর্মকাণ্ডে ক্ষিপ্ত হন। অনেকেই বলছেন, নোয়াম চমস্কির মতো বিশ্বখ্যাত একজন পণ্ডিতের মর্ম এই তরুণ বোঝে নাই। যদি বুঝতো তাহলে মোহর ফ্যাশনের স্পন্সর লাগাত না। এই ছেলে নোয়াম চমস্কির নাম জানে তার খ্যাতির কিছু বিষয় হয়তো জানে কিন্তু তার লেভেলটা এখন পর্যন্ত অনুধাবন করতে পারেনি। এটা আমাদের দেশের জন্য অসম্মানজনক ঘটনা।

ফেসবুক লাইভে তার শারীরিক ভাষা নিয়েও নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন। নেটিজেনরা বলছেন রিপন মিরাজ চমস্কি চমস্কি বলে যাচ্ছিলেন। তিনি হয়তো জানেন না পশ্চিমা সংস্কৃতি অনুযায়ী কারো নাম ধরে ডাকতে হলে তার পূর্বে, মিস, মিসেস বা মিস্টার যোগ করতে হয়। যেটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্র-পত্রিকায় দেখা যায়।

হাসনাত এ কালাম নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ৫ মিনিট যাবৎ আজাইরা কিছু প্রশ্ন করসে, খাতা দেখে দেখে। তাও ভুলভাল ইংরেজিতে, ভালোমতো বাক্য গঠন না কইরাই। সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে- এই যে জোরপূর্বক ৫ মিনিটে যে কয়েকটা প্রশ্ন করসে- ওই সময় অনুষ্ঠানের স্ক্রলে লিখে রাখসে- Sponsor by Mohur Fashion House. এই ফ্যাশন হাউজ আবার ওই আয়োজক উপস্থাপকের দোস্তের অনলাইন শপ।

আফলাতুন কায়সার জিলানি নামের একজন লিখেছেন, এটি সত্যি দুঃখজনক। আমি মনে করি প্রথমে আপনার ভালোমতো শেখা উচিত আন্তর্জাতিক পণ্ডিতদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়। তারপর আপনি তাদের ইন্টারভিউয়ের জন্য অনুরোধ করতে থাকুন।

সাজিদ কবির নামের একজন বলেছেন, আপনাকে যখন রিশিডিউলের জন্য প্রশ্ন করা হয়েছিল তখনই আপনার রাজি হওয়া উচিত ছিল।

জুফের ইসলাম নামের একজন বলেছেন, আপনার সময় জ্ঞান নেই। এটা আমাদের জাতির জন্য লজ্জাজনক। আপনার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন...

প্রথমের দিকে নিজের অবস্থান নিয়ে তর্কে মেতে উঠলেও শেষ পর্যন্ত সকলের নিকট ক্ষমা চেয়েছেন ওই তরুণ। ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নোয়াম চমস্কি বিখ্যাত একজন স্কলার। আজকের শোতে আমার যথেষ্ট ভুল ছিল, আমি টাইম ম্যানেজমেন্ট বুঝিনি এবং সময় নিয়ে সচেতন ছিলাম না। পাশাপাশি আমি যে হোমওয়ার্ক করেছি সেখানেও হয়তো ভুল ছিল। যা আপনারা মেনে নিতে পারেননি। এটির জন্য আমি নিঃশর্তে ক্ষমা প্রার্থনা করছি আপনাদের কাছে। আমি নতুন, আগ্রহী শিখতে, আমি শিখছি, আরো শিখাবেন আমাকে। নতুন হিসেবে আমাকে ক্ষমা করবেন।’

রিপন বলেন, ‘প্রফেসর নোয়াম চমস্কির সাথে কথা হয়েছে তিনি আবারও আমার সাক্ষাৎকারে আসবেন। তাকেও আমি দুঃখ প্রকাশ করেছি। আমি শো'র খুব প্রস্তুতি নেব। এবং আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন আগামী শো’র জন্য। প্রশ্ন তৈরি করতেও সহযোগিতা করবেন আশা করছি। আমার ভুলগুলোর জন্য দুঃখিত বাংলাদেশের দর্শকের কাছে। আমাকে আপনারা শিখাবেন সে প্রত্যাশা।’

এর আগে আরেক পোস্টে রিপন বলেন, ‘আমি একটা জায়গাতে বসে ফাইট করছি। একা। যদিও আপনার মতো দালানের প্রাচ্যের অক্সফোর্ড, হাজার একরের স্কলাররা আমাকে পড়ান না বা ইংরেজি ভাষাতে আমি কথা বলতে জানি না। কিন্তু আমাকে যারা পড়ান তারা ভুলভাবে হলেও নোয়াম চমস্কিকে রিচ করার মতো সাহস দেন। এরপরও কিন্তু আমি আপনাদের দেখালাম যে কেউ একজন আপনাদের জন্য ফাইট করছে। সেটা আমি। কোথাও একটা শূন্য জায়গা থেকে করছি। যারা ৫০ বছরে করেছে, আমি সেটা শুরুতে করছি। আপনারা সমালোচনা করেন আমি সেটাকে নিচ্ছি কারণ আমি চাই মানুষ বলুক। আমি বিশ্বাস করি মানুষ আমাকে ভালোবাসে, আমাকে অনুপ্রাণিত করে।’

আমি বিসিএস দেওয়ার জন্য দৌড়াচ্ছি না, ট্রেন্ড ভাঙছি, ইগো ভাঙছি যারা আমাদের কন্ট্রোল করে, বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাদের চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি। হ্যাঁ ভুল আমার, কিন্তু লেসন নেওয়ার জায়গাও আমার। আমি এক্সকিউজ দিচ্ছি না, আমি বর্ণনা করছি না। আমার ভুল আছে। কিন্তু আমার শিক্ষা নেওয়ার জায়গাও আছে।

এদিকে নোয়াম চমস্কি বাংলাদেশে ‘প্রথমবার’ লাইভে আসছেন এমন কথা প্রচার করেছেন চট্টগ্রামের তরুণ রিপন মিরাজ। এটি সত্য নয়, বাংলাদেশে প্রথমবার গ্যোটে ইনস্টিটিউটে মহাশ্বেতা দেবীর সঙ্গে লাইভ ভিডিওতে কথা বলেছেন চমস্কি। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি উৎসব ছবিমেলা-৫ আয়োজনের প্রথমদিন কথা বলেছেন চমস্কি। ওই ভিডিও কথোপকথনে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামা আলোকচিত্রী শহীদুল আলম। তিনি বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

খ্যাতিমান আলোকচিত্রী শহীদুল আলম ফেসবুক লাইভের প্রতিক্রিকায় মিরাজ রিপনকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি লিখেছেন যে ‘নোয়াম চমস্কির আকস্মিক কিছু কর্মসূচির’ কারণে আপনার অনুষ্ঠানে থাকতে পারেননি। এটি মিথ্যা। আপনি নির্বোধের মতো ও ক্ষমার অযোগ্য ভুল করেছেন এবং তার (চমস্কি) ওপর দোষ না চাপিয়ে আপনার তা স্বীকার করা উচিত। এটি খুবই অনৈতিক। তাঁকে অনুষ্ঠান থেকে চলে যেতে হচ্ছে জেনেও আপনি যেভাবে অনুষ্ঠান চালিয়েছেন তা অত্যন্ত অসম্মানজনক ও বিব্রতকর। দয়াকরে ‘প্রথম বারের মতো বাংলাদেশের সঙ্গে’ যে ট্যাগ আপনি লিখেছেন তাও মুছে ফেলুন। আপনি জানেন যে এটি অসত্য এবং আপনি জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন।

advertisement