advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

আওয়ামী লীগের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক

ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান
২৪ জুন ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ জুন ২০২১ ১১:৩৬ পিএম
advertisement

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল নয়। বরং বহু লড়াই-সংগ্রাম অতিক্রম করা, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির হাতে নেতাকর্মীদের হত্যা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়া দলটি ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠিত করেছে। শুধু তা নয়, ওই স্বাধীন দেশের জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন, যুদ্ধবিধস্ত স্বাধীন দেশকে পুনর্গঠন এবং পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির কাছ থেকে দেশকে পুনরুদ্ধার করে আলোর পথে পরিচালিত করা, বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করা- এর সবকিছুই হয়েছে অসাম্প্রদায়িক মতাদর্শে বিশ্বাসী ঐহিত্যবাহী সংগ্রামী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের হাত ধরে। এটিই সত্যি, অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগের হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ ও বাংলাদেশের জনগণের মুক্তি নিহিত। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনের ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তী সময়ে এই রাজনৈতিক দলটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও বিশ্বের অন্যতম অসাম্প্রদায়িক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৭২ বছর পূর্ণ করে ৭৩ বছরে পদার্পণ করেছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাস, ঐহিত্য, লড়াই, সংগ্রাম- এর সবকিছুই মানুষের জানা। এ কারণেই আমি অতিসংক্ষেপে দলটির ইতিহাস সম্পর্কে তুলে ধরছি। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান ধারণকারী দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতৃত্বে ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শামসুল হক। ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আইয়ুবের সামারিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৪-এর দাঙ্গার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ১৯৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, একাত্তর সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া, মুজিবনগর সরকার গঠন, যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হারিয়ে নেতাকর্মীদের শোকের সাগরে ভাসা, বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে ঘুরে দাঁড়ানোর নিরন্তর প্রচেষ্টা, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসা ও আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ, পরে নির্বাচনের মাধ্যমে জয়লাভ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার ১১ বছরেরও বেশি সময় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং টানা তৃতীয়বারের মতো ও বাংলাদেশে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন, জঙ্গিবাদ দমন, যুদ্ধাপরাধের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের বিচার ও খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা- এসবই আওয়ামী লীগের অতীত ও বর্তমান ইতিহাস।

বাংলাদেশ আজ মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বৈদেশিক রিজার্ভ রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশে নারীদের গড় আয়ু ৭৫ ও পুরুষের ৭১ বছরে উন্নীত হয়েছে। মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর চিন্তাচেতনা থেকে নেওয়া ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বিপ্লব ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ গৃহীত সঠিক নীতি অনুসরণ এবং পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই দেশে শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস পেয়েছে, মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি পেয়েছে, শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে, ছোঁয়াচে ও মহামারী রোগে মানুষের মৃত্যু অনেকাংশেই কমেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ আজ পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের মেগাপ্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করছে।

জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকায় এবং সরকার পরিচালনার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। দলটির চলমান উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক এই কামনা করছি।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান : চেয়ারম্যান, বক্ষব্যাধি বিভাগ ও কোষাধ্যক্ষ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

advertisement