advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বঞ্চনা বন্ধ না হলে শান্তি আসবে না

নিরাপত্তা সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

২৪ জুন ২০২১ ০১:১১
আপডেট: ২৪ জুন ২০২১ ০১:১১
advertisement


রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আবারও বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মানুষের বঞ্চনা বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপ যদি আমরা নিতে না পারি; সবার জন্য শিক্ষা ও বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারি; শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। গতকাল বুধবার নবম মস্কো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে এক ভিডিওবার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, কক্সবাজারে এই বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অবস্থান দীর্ঘায়িত হওয়ায় বাংলাদেশের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি হচ্ছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে অনির্দিষ্টকাল এভাবে আশ্রয় দিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বিশ্ব সম্প্রদায়কে তাই আমি অনুরোধ করব, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আমাদের সহযোগিতা করুন।
কোভিড-১৯ মহামারীকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটা শুধু বিপুল মৃত্যু ডেকে আনেনি। অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিয়েছে, সারাবিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দেওয়ার মাধ্যমে সরকার এই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের সব নাগরিককে বিনামূল্যে কোভিড ১৯-এর টিকা দেওয়ার অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সম্ভাব্য সব উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। আমি আপনাদের জানাতে চাই, ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতাও বাংলাদেশের রয়েছে। আমাদের যদি ভ্যাকসিন উৎপাদনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়কেও সহায়তা দিতে পারব।
জলবায়ু সংকটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের যথাযথ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই কিন্তু যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বাংলাদেশ তার একটি। জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময় এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সন্ত্রাস ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করার কথা দৃঢ়তার সঙ্গে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য অংশেও শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করবে, আমি এ আশাই করি।
বিশ্ব সম্প্রদায়কে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করা, অসহায় মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা বন্ধ করা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামরিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

advertisement