advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

অন্ধকার পথে যেন আলোহীন যাত্রা

হোসনেয়ারা ইসলাম মৌ
১৪ জুলাই ২০২১ ২০:২২ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২১ ২০:২২
advertisement

করোনাভাইরাস আমাদের যেভাবে ঘিরে রেখেছে, তা থেকে পরিত্রাণের উপায় এখনো কেউ আবিষ্কার করতে পারেনি। আগামী দিনে কী হবে, সেই উত্তরও যেন নেই কারও কাছে। এ যেন এক আজানা গন্তব্যে অন্ধকার রাতে আলোহীন যাত্রা। যে পথে শুধু ভয় আর হাহাকার। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আকুতি আমাদের সবার মাঝেই। বিশ্বজুড়ে করোনামুক্তির সেই চাওয়া হৃদয়ে হৃদয়ে ঘুরছে। কিন্তু সেই ডাকে কোনো সাড়া মিলছে না।

সাধারণ মানুষের জীবন একেবারে কিট-পতঙ্গের সমর্যায়ে নেমে এসেছে। করোনায় মৃত্যু, আগুনে পুড়ে মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যু, সেপটিক ট্যাংকের গ্যাসে মৃত্যু-রোজকার পত্রিকা মেলে ধরলে সাধারণ মানুষের এমন অপমৃত্যু যেন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনার আঘাতে নিম্নজীবি মানুষের আয় রোজগার কমে যাওয়ার দরুণ সেসব পরিবারের শিশুরাও এখন রাস্তায় নেমেছে।  

করোনা সংক্রমণ শুরুর পর টিকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছিল, টিকা নিলে আবার মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। কিন্তু সেই তত্ত্ব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। টিকা আবিষ্কারের পর উন্নত বিশ্বে এখনো করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু হচ্ছে। নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে মৃত্যুর। এই মৃত্যুর হিসাব যেন শুধুই গণনা। কিন্তু প্রতিটি মৃত্যুর মধ্যে যে একেকটি প্রাণের বিয়োগ, প্রিয়জন হারানোর শোক, সেই ব্যথা বোঝানো কঠিন।

গত বছর বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকেই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। যদিও পরবর্তীতে স্বল্পপরিসরে অনলাইনে পাঠদান চালু হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও সক্ষমতার দিকে খেয়াল করলে সহজেই বোঝা যায়, আমরা কতটা পিছিয়ে। অনলাইনে পাঠদান করা আমাদের কাছে নতুন বিষয়। এই পদ্ধতির সঙ্গে যেমন অনেক শিক্ষক পরিচিত নন, তেমনি শিক্ষার্থীদের বিশাল একটা অংশ অনলাইনে পাঠদানের বাইরে রয়ে গেছেন।

দেশে চলমান লকডাউনের মধ্যেও প্রতিদিন করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে। ১২ জুলাই করোনা সংক্রমণে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এক দিনে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৭৬৮ জন। এমন পরিস্থিতিতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে চালু হবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি।

১২ জুলাই ইউনিসেফ ও ইউনেস্কো জানিয়েছে, বিশ্বের ১৯টি দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। এর ফলে ১৫ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমন অবস্থায় সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় নামার তোয়াক্কা না করে এবং টিকাদান বাধ্যতামূলক না করেই দ্রুত স্কুলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর ও ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অড্রে অ্যাজুলের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটা চলতে পারে না। বন্ধের ক্ষেত্রে স্কুলগুলো সবার শেষে এবং পুনরায় খোলার ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে থাকা উচিত।’

সংস্থা দুটির আহ্বানে বাংলাদেশ কবে সাড়া দিতে পারবে, তা করোনা সংক্রমণের কম-বেশির ওপর নির্ভর করছে। করোনা সংক্রমণ কমা সাপেক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলেও গ্রামের শিক্ষার্থীদের ফেরানো কঠিন হবে। কেননা দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

এই পরিস্থিতি যে শুধু প্রাথমিক, মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে-তা নয়, স্নাতক পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনার বাইরে রয়েছেন। তাই আগামীতে শিক্ষার্থীদের আবার পড়াশোনায় ফেরানো অনেক কঠিন হবে। হয়তো অনেককে আমরা এই তালিকায় আর পাবো না।

তবে আশার কথা হলো, হয়তো করোনা মহামারি একদিন বিদায় নেবে। তখন আবার সব স্বাভাবিক হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার মুখরিত হবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায়। পৃথিবীব্যাপী আবার শিক্ষার আমাদের আলো দেখাবে।

তবে করোনা থেকে মুক্তি না মেলা পর্যন্ত অন্ধকার পথেই যাত্রা করতে হবে। এ পথে অবশ্যই আমাদের সচেতন থাকতে হবে, অন্যদের সচেতন রাখতে হবে। এ ছাড়া আপাতত কোনো উপায় নেই…।

হোসনেয়ারা ইসলাম মৌ : সাবেক শিক্ষার্থী, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী

advertisement