advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তিতে একটি ‘বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’

ড. রাশিদুল হক
১৯ জুলাই ২০২১ ১১:৪৫ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২১ ১১:৪৫
advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির এক বিজ্ঞপ্তিতে দেখলাম, ভিন্ন ধরনের এক বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি, যা জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় পড়ে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেকোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা তিন বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি থাকলে প্রার্থীগণ সরাসরি ‘পিএইচডি প্রোগ্রামে’ ভর্তি হতে পারবেন। অথচ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই সমমানের ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রথমে দুই বছর ‘এমফিল প্রোগ্রামে’ ভর্তি হতে হবে (সূত্র : প্রথম আলো, ১৯ এপ্রিল, ২০২১)। অর্থাৎ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিজ দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত স্নাতক সম্মান ও স্নাকোত্তর ডিগ্রির প্রত্যক্ষভাবে অবমূল্যায়ন করছে।

এখানে উল্লেখ্য, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উভয়ই সরকার ও ইউজিসি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদপ্রাপ্ত স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের যদি যুক্তরাষ্ট্রের এমনকি প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে সক্ষম হয়, তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে বাধা কোথায়?

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এ ধরনের বৈষম্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক তাদের শতভাগ উপস্থিতিতে (দৈনিক কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা) শিক্ষার্থীদের যত্নসহকারে শিক্ষাদান করেন। কর্মস্থলই হচ্ছে তাদের সার্বক্ষণিক কাজের ক্ষেত্র। তবে এটা অনস্বীকার্য যে, অন্য দেশের ন্যায় প্রাতিষ্ঠানিক সার্বিক মূল্যায়নে আমাদের দেশেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গুণগত মানের অনেক তারতম্য রয়েছে-সেটা সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। 

সেক্ষেত্রে সবার জন্য প্রযোজ্য জিআরই সমমান টেস্টের মাধ্যমে এমফিল নয়, বরং সরাসরি পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি করানোর একটি সাধারণ নীতি অনুসরণ করা যেতে পারে। তাছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে এমফিল ডিগ্রি খুব একটা মূল্যায়িত হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশেই এর প্রয়োজন নেই। ভারতেও প্রবর্তিত ২০২০ জাতীয় শিক্ষানীতিতে এমফিল প্রোগ্রাম সারা ভারতজুড়ে বিলুপ্ত করা হয়েছে। কাজেই অকারণে উঠতি জীবনের দুটা বছর নষ্ট করা কেন!

আমরা এই বৈষম্য যদি এখনই প্রত্যাখ্যান না করি, তাহলে দীর্ঘপ্রত্যাশিত শিক্ষা অর্জনে জাতি মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থেকে পিছিয়ে পড়বে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত মেধাবী শিক্ষার্থীদের যেন সঠিক মূল্যায়ন করা হয় এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য জোরালো দাবি জানাচ্ছি।

অধ্যাপক ড. রাশিদুল হক : উপ-উপাচার্য, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী। সাবেক অধ্যাপক, এমোরি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অব মেডিসিন, আটলান্টা, যুক্তরাষ্ট্র ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

advertisement