advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

চীন ও তাইওয়ানের ‘সীমাহীন ভ্যাকসিন যুদ্ধ’

অনলাইন ডেস্ক
২৩ জুলাই ২০২১ ০৮:৫০ পিএম | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২১ ১২:৪৫ এএম
প্রতীকী ছবি : সংগৃহীত
advertisement

গত বছর পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো করোনভাইরাস মহামারির সংক্রমণ রোধে সাফল্যের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছিল। বর্তমানে একই দেশগুলো করোনার পুনরায় সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ভাইরাস প্রতিরোধে এসব দেশের প্রাথমিক সফলতা দেখালেও করোনার ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম এখানে দেরিতে শুরু হয়েছে।

চীন সফলভাবে ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে এনেছে, জনগণকে টিকা দিয়েছে এবং দেশের অর্থনীতিকে ঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পেরেছে। এশিয়ার এই জায়ান্টের সরকার (চীনের) তাত্ক্ষণিকভাবে করোনাভাইরাস রোগীদের জন্য বিশেষ হাসপাতাল স্থাপন করেছে এবং প্রচুর পরিমাণে আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে। চীনের নিজস্ব ভ্যাকসিনগুলো সম্পূর্ণ উত্পাদনাধীন এবং প্রতিদিন ২৫ মিলিয়নের বেশি ডোজ প্রদান করছে। চীন যে গতির সঙ্গে তার নাগরিকদের টিকা দিচ্ছে তা বিশেষভাবে আকর্ষণীয় কারণ, তুলনামূলকভাবে ভারত দিনে পাঁচ মিলিয়ন ডোজ এবং জাপান দিনে এক মিলিয়ন ডোজ টিকা দিচ্ছে।

এর বিপরীতে, তাইওয়ানের একটি তথাকথিত ‘এমভিপি’ (মিনিমাম ভাইয়বল প্রোডাক্ট) ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। পাইলটরা করোনার আলফা ধরণ তাইওয়ানে নিয়ে এসেছে। তাইওয়ানের একটি হোটেল কর্মীদের মধ্যে আলফা ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে কমিউনিটি সংক্রমণ ঘটে। দেশটি ভ্যাকসিন কার্যক্রমও মন্থরগতিতে গিয়েছে। গত ২৩ জুনের মধ্যে এর মোট জনসংখ্যার মাত্র ৭ শতাংশকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল জার্মানির বায়োএনটেক থেকে ফাইজার ভ্যাকসিন কেনা বিলম্ব করা। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট তসই ইনগ-ওয়েন তাইওয়ানের বলেছেন, ‘আমরা মূল জার্মান প্লান্টের সঙ্গে চুক্তিটি সমাপ্ত করার পর্যায়ে ছিলাম। তবে চীনের হস্তক্ষেপের কারণে এখন এটি সম্পন্ন করার উপায় নেই।’

ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) তৎকালীন আন্তর্জাতিক বিষয়ক প্রধান লাই আই-চুংয়ের মতে, ‘চীন বলেছে তারা তাইওয়ানকে চীনা ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে প্রস্তুত। তবে চীনের ভ্যাকসিন ব্যতীত অন্য যেকোনো কিছুতে আমাদের বাধা দিতে সবর্ত্র কাজ করে চীন। বেইজিংয়ের হস্তক্ষেপের কারণে তাইওয়ান সরকার এবং বায়েএনটেকের মধ্যে গত বছরের আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ওই সময় আমরা একটি চুক্তি সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে ছিলাম।’

বায়োনেটেক এবং সাংহাই ফসুনের মধ্যে চুক্তির ফলে তাইওয়ানসহ ‘গ্রেটার চীন’ বাজারে বেইজিংকে ফাইজারের টিকা বন্টনের একচেটিয়া অধিকার দেয়। এর অর্থ হলো, সাংহাই ফসুন ব্যতীত অন্য কোনো দেশ বা কোম্পানি ফাইজার ভ্যাকসিন তাইওয়ানের কাছে বিক্রি করতে পারবে না।

তাইওয়ানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী চেন শিহ-চুং বলেন, ‘বাইরের সমস্যার কারণে তাইওয়ান আবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। চুক্তিতে কোনো সমস্যা ছিল না। সমস্যা ছিল চুক্তির বাইরে।’

চীনের কার্যক্রম তাইওয়ানকে বিক্ষুব্দ করেছে যেহেতু তাইওয়ান তার দেশের জন্য সুরক্ষিত পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন খুঁজছে। চীন সরকারের তাইওয়ান বিষয়ক অফিস জানিয়েছে, তারা তাইওয়ানকে চীনা উত্পাদিত ভ্যাকসিন সরবরাহ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তাইওয়ানে করোনা প্রতিরোধে সহায়তা করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে চায় চীন।

এদিকে চীনের উত্পাদিত ভ্যাকসিনের ব্যাপারে তাইওয়ানের নাগরিকদের চরম অবিশ্বাস রয়েছে। চেন শিহ-চুঙের ভাষায়, ‘আমাদের ব্যবহারের জন্য চাইনিজ টিকাগুলো খুবই ভয়ঙ্কর।’

তাইওয়ানের পত্রিকা গ্লোবাল ভিউজ পরিচালিত জনমত জরিপ অনুসারে, ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতারা তাইওয়ানে প্রস্তুতকৃত ভ্যাকসিন চেয়েছেন। ৩২ শতাংশ আমেরিকান বা ইউরোপীয় তৈরি ভ্যাকসিন পছন্দ করেছেন। আর মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ নাগরিক চীনের ভ্যাকসিনের ব্যাপারে মত দিয়েছেন।

সূত্র : জাপান টাইমস

advertisement