advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে রূপগঞ্জের ৩০৩ পরিবারের

সহিদুল করিম বিপ্লব, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
২৪ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২১ ১১:১০ পিএম
advertisement

রূপগঞ্জ উপজেলার অসহায় ও দরিদ্র ১৫০ পরিবার স্বপ্নের ঘর পেয়ে বসবাস শুরু করলেও অপেক্ষায় রয়েছে আরও ১৫৩ পরিবার। সেই ঘরগুলোর নির্মাণকাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। নির্মাণকাজ শেষ হলেই ঘরগুলো দ্রুত দুস্থ ও ভূমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হবে। বিষয়টির প্রতি খোঁজ রাখছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন।

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় রূপগঞ্জে ৩০৩ পরিবার পাচ্ছে দুই শতক জমি ও ১ লাখ ৭১ হাজার টাকায় নির্মিত একটি টিনশেড দুই কক্ষের ঘর। এর মধ্যে মুড়াপাড়া দড়িকান্দি এলাকায় ২০টি ও কাঞ্চনের বিরাব এলাকায় ১৩১টি ঘর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া বিরাব এলাকায় আরও ১০০টি ও আধুরিয়া এলাকায় ৪৫টি ঘরের নির্মাণকাজ চলছে। পূর্বাচলে বিদ্যুৎ দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে একই পরিবারের ৪ জন নিহতের ঘটনায় বেঁচে ফেরা এক সদস্যকে বিদ্যুৎ বিভাগের অর্থায়নে একটি ঘর করে দেওয়া হয়েছে। মাত্র ১ লাখ ৭১ হাজার টাকায় ঘর নির্মাণের পর ভিটির জন্য বালু, বিদ্যুৎ সংযোগ, পয়নিষ্কাশন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করাটা কঠিন হয়ে পড়ছিল। এ মূহূর্তে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও মাসকো গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর। পাটমন্ত্রী এ প্রকল্পের জন্য ১০ লাখ টাকা ও আব্দুস সবুর কাঞ্চনের বিরাব এলাকায় ২৩০টি ঘরের জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করে পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ নির্মাণ করে দেন। ভালোমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি করায় ঘরগুলো খুব মজবুত রয়েছে। ঘর নির্মাণ নিয়ে কারও অভিযোগ নেই।

কথা হয় ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রুনা বেগমের সঙ্গে। তার স্বামী মারা গেছেন বহু আগে। ছিল না থাকার ঘরবাড়ি। ভিক্ষা করে এবং মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে এক ছেলে কাদির হোসেন ও এক মেয়েকে মানুষ করেছেন। বহু কষ্টে মেয়েকে বিয়ে দেন। কাদির বিয়ে করার পর মাকে ফেলে রেখে তার পরিবার নিয়ে ঢাকা থাকেন। ছেলে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার পর রুনা বেগম কখনো থেকেছেন মানুষের বাড়ির বারান্দায়, আবার কখনোবা মানুষের রান্নাঘরে। ভাবেননি কখনো নিজের জমিতে ঘরে থাকতে পারবেন। নিজের ঘর ও জমি ছিল স্বপ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রায়ণ প্রকল্পে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো রুনা বেগমের। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওয়তায় রুনা বেগম পেয়েছেন নিজের নামে দুই শতক জমি ও টিনশেডের দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি ঘর। সঙ্গে রয়েছে একটি গোসলখানা ও টয়লেট। বৈদ্যতিক সংযোগ ও পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তার এ স্বপ্ন পূরণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

শুধু রুনা বেগম নন, ইউসূফ ও সজীমুন, পঙ্গু শফিকুল আলমসহ ১৫০টি পরিবারের সরকারি অর্থে নির্মাণ করা ঘর পেয়ে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় আরও ১৫৩ পরিবার।

কথা হয় ঘর পাওয়া শ্রমিক ইউসূফের সঙ্গে। তিনি জানান, এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। ২০ বছর ধরে মুড়াপাড়া নগর এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। তার বাপ-দাদার ভিটেমাটি নেই। তিনি মালবাহী জাহাজ থেকে ময়দা, আটা, ডাল ওঠানো-নামানোর কাজ করে দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করতে পারেন। কখনো আয় হতো, আবার কখনো বন্ধ থাকত। এ আয় থেকেই সংসার চালানো ও প্রতিমাসে প্রায় ৪ হাজার টাকা বাড়িভাড়া দিতে হতো। কখনো ভাবেননি নিজের ঘরে থাকতে পারবেন। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়ে তাদের মতো অনেক অসহায় মানুষকে ঘর দিয়েছেন। ইউসুফ মিয়া এ ঘটনাগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে তার চোখে পানি চলে আসে। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ্ নূসরা জাহান বলেন, অসহায়দের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্প ২-এর আওতায় ৩০৩টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সরেজমিন উপস্থিত থেকে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করায় ঘরগুলো খুব মজবুত হয়েছে। ১৫০টি পরিবার ঘর বুঝে পেয়েছে। বাকিদেরও খুব দ্রুত ঘরগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তবে একটি ঘরে সামান্য ত্রুটি দেখা দিলেও তা তাৎক্ষণিক ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। যারা এখানে থাকছেন আমরা প্রতিনিয়ত তাদের খোঁজ রাখছি। উপকারভোগীরা অনেক সন্তুষ্ট।

এ ব্যাপারে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার জননী। তার মন সাধারণ মানুষের জন্য সব সময় কাঁদে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে যত মানুষকে ঘর দিয়েছেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সবার সহযোগিতায় রূপগঞ্জের ভালোমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে করায় ঘরগুলো ভালো আছে।

advertisement