advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ক্ষুদ্র পশু ব্যবসায়ী ও খামারিদের স্বপ্নভঙ্গ

সানাউল হক সানী
২৪ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২১ ১২:২০ পিএম
advertisement

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে একটু বেশি মুনাফার আশায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীর হাটগুলোতে বিপুলসংখ্যক গরু এনেছিলেন ক্ষুদ্র পশু ব্যবসায়ী ও খামারিরা। কিন্তু তাদের স্বপ্নভঙ্গ। বিক্রি হয়নি প্রত্যাশিত গরু। শেষ দিকে পশুর দাম কমিয়েও মেলেনি কাক্সিক্ষত ক্রেতা। বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করে আনা পশু বিক্রি করতে না পেরে অনেকে তা ফিরিয়ে নিয়ে যান। গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীর বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কেউ কেউ আবার ধার-কর্জ করে পশুর ব্যবসায় নেমেছিলেন। কিন্তু লাভের আশায় গুড়েবালি। এখন মহাজনের ভয়ে বাড়িতেই ফিরছেন না অনেকে।

ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিবছরই বিপুলসংখ্যক গরু ঢাকার হাটগুলোতে নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া অধিক মুনাফার আশায় খামারিরাও পশু নিয়ে আসেন হাটে। ফরিদপুরের ব্যবসায়ী জামিল হোসেন ধারদেনা করে রাজধানীর আফতাবনগর হাটে প্রায় ৫০টি গরু এনেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ২০টি বিক্রি করতে পেরেছেন। বাকি ত্রিশটি বিক্রি না হওয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যান। আবার বিক্রি হওয়া গরুতেও আশানুরূপ লাভ হয়নি বলে জানান এ ব্যবসায়ী। জামিল হোসেন বলেন, ‘বেশি মুনাফার আশায় ধারকর্জের টাকায় অনেক গরু এনেছিলাম। কিন্তু এ বছর গরুর দাম ওঠেনি। ক্রেতাও কম ছিল। এখন

বাকি গরু নিয়ে এলাকায় চলে এসেছি। সব মিলিয়ে লোকসান গুনতে হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। যে ২০টি গরু বিক্রি করেছি, সেখানেও তেমন লাভ হয়নি। নানাজনের কাছ থেকে ধার করেছিলাম, এখন সেই টাকা যে কীভাবে শোধ দেব তা বুঝতে পারছি না।’

রাজধানীর হাটে বিক্রি করতে না পেরে গরু ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন এমন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয়। তারা বলছেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মানুষের কাছে অর্থের সংকট থাকায় অনেকেই এবার কোরবানি দেননি। আবার যার আগে একাই কোরবানি দিতেন, এবার তারা ভাগে দিয়েছেন। এ জন্য গরুর চাহিদা কম ছিল। শুরুর দিকে যেসব ব্যবসায়ী অল্প দামে গরু ছেড়ে দিয়েছেন, তারা অন্তত লস করেননি। কিন্তু যারা বেশি দামের আশায় গরু রেখে দিয়েছিলেন, তাদেরই লোকসান গুনতে হয়েছে বিপুল অঙ্কের টাকা। রাজধানীর পশুর হাটে মূলত মাঝারি ও বড় গরুর চাহিদা বেশি থাকে। কিন্তু এ বছর মাঝারি গরুর চাহিদা কিছুটা থাকলেও বড় গরু তেমন বিক্রি হয়নি।

কোরবানির ঈদের দিন দেখা যায়, অসংখ্য পশুবাহী ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছে। অনেকে আবার নৌপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন ঢাকায় বিক্রি করতে আনা গরু। কুষ্টিয়ার খামারি রফিক উদ্দিন ১৯টি গরু তুলেছিলেন এবার রাজধানীর হাটে। তার গরুগুলো ছিল আকারে অনেক বড়, তিন থেকে ১১ লাখ টাকা দামের। এর মধ্যে মাত্র তিনটি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। বাকিগুলো ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে। রফিক উদ্দিন বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে গরুর খামারের সঙ্গে যুক্ত আমি। এ বছরের মতো এমন ভগ্নদশা কখনই হয়নি। মাত্র তিনটি গরু বিক্রি করেছি। যে লাভ হয়েছে, তাতে ভাড়ার টাকাই ওঠেনি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকার অন্তত ২০ জন খামারির অবস্থাই এমন, যাদের ব্যবসা মূলত কোরবানির গরুর ওপর নির্ভরশীল। এ বছর সবারই বিপুল অঙ্কের টাকা লোকসান গুনতে হলো।’

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার আফতাব উদ্দিন মাঝারি ও বড় আকারের ২৫টি গরু এনেছিলেন রাজধানীর রহমতগঞ্জ হাটে। মৌসুমি এ ব্যবসায়ী গরু কেনার প্রায় অর্ধেক টাকাই ধার করেছিলেন মহাজনের কাছ থেকে। কথা ছিল গরু বিক্রি শেষে টাকা ফিরিয়ে দেবেন লাভসহ। কিন্তু মাত্র সাতটি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। তাতেও লাভ হয়নি খুব একটা। গরুর আনা-নেওয়ার খরচ এবং থাকা-খাওয়াসহ আনুষঙ্গিক ব্যয়েই সেটি খরচ হয়ে গেছে। তাই চোখে অন্ধকার দেখছেন আফতাব উদ্দিন। বাড়িতে অবিক্রীত গরুগুলো পৌঁছালেও গা ঢাকা দিয়েছেন নিজে। মোবাইল ফোনে আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘স্থানীয় বাজারে লোকসানে গরুগুলো বিক্রি করে দিলেও মহাজনদের টাকা শোধ হবে না। কী করব বুঝে উঠতে পারছি না। তাই আপাতত বাড়ির বাইরেই আছি।’

 

 

 

 

advertisement