advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

গরু বেচতে না পেরে দিশাহারা পাবনার ব্যবসায়ী ও খামারিরা

‘ম-ল’ ও ‘সুন্দরকে’ নিয়ে বিপাকে বগুড়ার আবু জাফর

প্রদীপ মোহন্ত, বগুড়া ও সুশান্ত কুমার সরকার, পাবনা
২৪ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২১ ১২:১১ এএম
advertisement

ভালো লাভের আশায় গরু নিয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন পশুর হাটে গিয়েছিলেন পাবনা অঞ্চলের খামারি ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেখানে কাক্সিক্ষত দাম নাম পাওয়ায় বেশিরভাগ গরু অবিক্রীত রয়ে গেছে। গাড়ি ভাড়া দিয়ে আবার গরু নিয়ে ফিরতে হয়েছে এলাকায়। কোরবানির হাটে গরু বিক্রি করতে না পেরে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন বেড়া, সাঁথিয়া ও সদর উপজেলার ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে নিজের খামারে ‘ম-ল’ ও ‘সুন্দর’ নামে দুটি ষাঁড় পুষেছিলেন বগুড়ার বাসিন্দা আবু জাফর ম-ল। দেড় টন ওজনের ম-লের দাম চেয়েছিলেন ১৩ লাখ টাকা। আর ১ হাজার ২০০ কেজি ওজনের সুন্দরের দাম প্রত্যাশা করেছিলেন ১০ লাখ টাকা। অথচ দুটি গরু মিলে ১০ লাখ টাকা দাম বলেছিলেন ক্রেতারা। মনের দুঃখে বিক্রি করেননি ম-ল ও সুন্দরকে। এখন বিশাল আকারের এই দুটি গরু নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন আবু জাফর ম-ল।

গরু ব্যবসায়ী ও খামারিদের হিসাব অনুযায়ী- ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পশুর হাট থেকে পাবনা জেলার অর্ধেকের বেশি গরুই ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এসব অবিক্রীত গরু নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন তারা। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা ধার- দেনা করে এবং বাকিতে গরু ক্রয় করে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করতে

না পেরে হতাশার মধ্যে রয়েছেন।

পাবনার বেড়া, সাঁথিয়া ও সদর উপজেলা গরু পালনকারী এলাকা বলে পরিচিত। এ অঞ্চলের খামারি ও ব্যবসায়ীরা এবার কোরবানির হাটকে সামনে রেখে বিপুলসংখ্যক গরু লালন-পালন করেছিলেন। স্থানীয় ও বাইরের গরু ব্যবসায়ীরা ঈদুল আজহার মাসখানেক আগে থেকেই গরু কেনা শুরু করেন। তাদের অনেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী গোয়াল তৈরি করে সেখানে গরুগুলো রেখেছিলেন।

পাবনার সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী মহসিন আলম আমাদের সময়কে জানান, নগদ-বাকিতে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দামে ২টি গরু ক্রয় করে ঢাকার মিরপুরে নিয়েছিলেন। খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। দেড় লাখ টাকায় কেনা গরুর দাম উঠেছে ১ লাখ ৩০ হাজার। ফলে বিক্রি করতে পারেননি। বড় গরুটির কোনো দামই বলেননি কেউ। এতে দুটি গরুই ফেরত আনতে হয়েছে। এখন বাকি টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন গরু পালনকারী। বাড়িতে এনেও গরু দুটির পেছনে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।

উপজেলার চকউগড় গ্রামের খামারি ও ব্যবসায়ী আব্দুল আওয়াল জানান, তার নিজের পালন করা ৪টিসহ মোট ১২টি গরু নিয়ে যান ঢাকায়। কিন্তু আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় ফিরিয়ে আনতে হয়েছে সাতটি গরু। তিনি জানান, করোনার কারণে অর্থনৈতিক মন্দায় গরুর ক্রেতা কম। তাই অধিকাংশ ব্যবসায়ীকে গরু ফিরিয়ে আনতে হয়েছে।

পাবনার বেড়া পৌর এলাকার বৃশালিখা মহল্লার আবু সাঈদ কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ও বাকিতে ৩৩টি গরু কিনেছিলেন। ঈদের তিন দিন আগে গরুগুলো তুলেছিলেন ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার একটি হাটে। লোকসানে ১৩টি গরু বিক্রি করতে পারলেও বাকি ২০টি গরু বিক্রি করতে পারেননি। অবশেষে ঈদের দিন রাতে দ্বিগুণ ট্রাক ভাড়া দিয়ে গরুগুলো বাড়িতে ফিরিয়ে এনেছেন। ঢাকায় আসা-যাওয়া ও পশুর হাটের ভিড়ে গরুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

আবু সাঈদ বলেন, ‘গরুর ব্যবসা করব্যার যায়া আমি শেষ হয়া গেছি। কমপক্ষে ১২ লাখ টাকা লোকসান হয়া যাতেছে আমার। এই অবস্থায় ধারদেনা শোধ করার কোনো উপায়ই দেখতেছি না। ফেরত আনা গরুগুল্যার পেছনে চিকিৎসা ও খাবার বাবদ প্রতিদিন ছয়-সাত হাজার টাকা খরচ হতেছে। ফেরত গরুগুল্যা এখন গলার কাঁটা হয়া দাঁড়াইছে।’

এদিকে বগুড়ার সদর ইউনিয়নের আলাদীপুর (এরুলিয়া) গ্রামের বাসিন্দা আবু জাফর ম-ল তার খামারে ছিল দুটি ষাঁড় গরু ‘ম-ল’ ও সুন্দর। দেড় টন ওজনের ম-লের দাম চেয়েছিলেন ১৩ লাখ টাকা আর ১ হাজার ২০০ কেজি ওজনের সুন্দরে দাম চেয়েছিলেন ১০ লাখ টাকা। দুটি গরু মিলে ১০ লাখ টাকা দাম বলেছিলেন ক্রেতারা। মনের দুঃখে বিক্রি করেননি ম-ল ও সুন্দরকে।

খামারি প্রাণী চিকিৎসক আবু জাফর ম-ল বলেন, এবারের ঈদে বড় গরুর ক্রেতা কম ছিল। তা ছাড়া করোনার কারণে বড় হওয়ায় গরু দুটি হাটে তুলতে পারিনি। এখন বাধ্য হয়ে আগামী কোরবানি ঈদে গরু দুটি বিক্রি করতে হবে।

একই কথা জানালেন আলাদিপুর গ্রামের রুহুল আমিন। তিনি বলেন, কোরবানি ঈদে চারটি ষাঁড় গরু বিক্রির উপযুক্ত ছিল। যার আনুমানিক মূল্য ছিল ৭ লাখ টাকার মতো। কিন্তু করোনা কারণে হাট বন্ধ থাকায় হাটে তুলতে পারেননি। বাড়ি থেকেই একটি গরু ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনটি গরু এখনো অবিক্রীত রয়েছে। অবিক্রীত তিনটি গরু নিয়ে কী করবেন তা নিয়েই চিন্তিত তিনি।

বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এবারের ঈদে বড় গরুর ক্রেতা ছিল না বললেই চলে। দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মূল্যের গরুর ক্রেতা খুব কম ছিল। বেশিরভাগ গরু বিক্রি ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে। যার কারণে বড় গরুগুলো অবিক্রীত রয়েছে। তিনি বলেন, জেলায় কী পরিমাণ গরু অবিক্রীত রয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান তৈরি করার জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করছি খুব শিগগিরই সেই তালিকা প্রস্তুত করতে পারব। এ জন্য মাঠকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

advertisement