advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কাজল দেওয়ায় চট্টগ্রামে গৃহকর্মী নির্যাতন

বান্দরবানে শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনে আইনজীবী দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো ও বান্দরবান প্রতিনিধি
২৪ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২১ ১২:১১ এএম
advertisement

অভাবের তাড়নায় চট্টগ্রাম নগরীর এক চিকিৎসকের বাসায় কাজ করে তসলিমা আক্তার (১৫)। বাসা পরিষ্কার করার সময় ড্রেসিং টেবিলের নিচে একটি কাজল দেখে মেয়েটি তার চোখে মাখে। পরে চোখে কাজল দেখতে পেয়ে তাকে নির্যাতন করেন চিকিৎসক নাহিদা আক্তার রেনু (৩৪)। পরদিন দুপুরে সেলুনে নিয়ে তসলিমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই কিশোরীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে বান্দরবানে এক শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে আইনজীবী দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রওশন আরা নামে এক নারী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় বান্দরবান জজ কোর্টের আইনজীবী সারাহ সুদীপা ইউনুছ ও তার স্বামী কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের অর্গানিয়ার লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ফয়সাল আহমেদকে আসামি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার চিকিৎসক নাহিদা আক্তার রেনু বর্তমানে চমেক হাসপাতালে কর্মরত। তিনি নগরীর মোহরা বালুরটাল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুসের ছেলে রফিকুল হাসানের স্ত্রী। চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বি-ব্লকের ১০ নম্বর রোডের একটি বাসায় থাকেন।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুলাই তসলিমা মাসিক ৩ হাজার টাকা বেতনে রেনুর

বাসায় কাজ নেয়। কাজ নেওয়ার পর থেকে তসলিমার সঙ্গে তার পরিবারকে যোগাযোগ করতে দেননি রেনু। গত ১৮ জুলাই বিকালে তসলিমা ওই চিকিৎসকের বাসা পরিষ্কার করার সময় তার ড্রেসিং টেবিলের নিচে একটি কাজল দেখে সেটি তার চোখে লাগায়। পরে তসলিমার চোখে কাজল দেখতে পেয়ে তাকে প্রচ- মারধর করেন রেনু।

পরদিন দুপুরে এলাকার একটি সেলুনে নিয়ে তসলিমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মাথার সম্পূর্ণ চুল কেটে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় চিকিৎসক রেনুর বাসায় যান ভিকটিম তসলিমার মা। এ সময় চিকিৎসক জানান, তসলিমা তার বাসায় নেই। দুই ঘণ্টা ধরে রেনুর বাসার সামনে অপেক্ষার পর তসলিমাকে বেলকনিতে দেখতে পান তার এক খালাতো বোন। এ সময় কিশোরী বাসার দোতলা থেকে দৌড়ে নিচে নামার চেষ্টা করলে তাকে চড়-থাপ্পড় মেরে রুমে নিয়ে আটকে রাখেন রেনু। এরপর থানায় গিয়ে ঘটনা অবহিত করলে পুলিশ গিয়ে তসলিমাকে উদ্ধার ও চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জখমপ্রাপ্ত হওয়ায় ভিকটিম তসলিমাকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার চিকিৎসককে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, আদালত ওই নারী চিকিৎসককে জামিন দিয়েছেন।

অন্যদিকে বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. সোহাগ রানা বলেন, এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে বান্দরবান সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, মামলার বাদী রওশন আরা সাত মাস আগে শিশু জয়নাব আক্তার জোহুরাকে (৯) বনরুপাপাড়ায় ওই আইনজীবী দম্পতির বাসায় গৃহকর্মীর কাজে দেন। বাড়ির গৃহকর্ত্রী সারাহ সুদীপা ইউনুছ শিশুটিকে মারধর ও নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে গত ২০ জুলাই সকালে শিশুটি ওই বাসা থেকে পালিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পাওয়া গেলে গৃহকর্তা ফয়সাল স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমে ওই গৃহকর্মীকে স্থানীয় অভিভাবক রওশন আরার কাছে দিয়ে আসেন। পরে শিশুটির নির্যাতনের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এ ঘটনায় ২২ জুলাই রওশন আরা ভিকটিমের পক্ষ হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য পাঠায়।

এ বিষয়ে আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ বলেন, এটি একটি ষড়যন্ত্র। সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে আমার ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

advertisement