advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বড়দের শতভাগ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পিছিয়ে

আবু আলী
২৫ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২১ ১১:৪৩ পিএম
advertisement

করোনার কারণে দেশের অর্থনীতি সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বড় ছোট সব উদ্যোক্তাই বিপদে। স্বল্প আয়ের মানুষ তো চরম দুর্দশায়। এ রকম পরিস্থিতিতে সরকার গত বছরের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত দু’ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ

ঘোষণা করে। এক ধরনের প্যাকেজ হলো অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের, অন্যটি সামাজিক সুরক্ষার। কিন্তু অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্যাকেজ থেকে অনেকেই স্বল্প সুদে ঋণ নিতে পারলেও বড় একটা অংশ আবার পারছে না।

বিদায়ী বছরে বড় উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ পূরণ হলেও কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি ৪৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এরই মধ্যে ৩৯টি বেসরকারি বাণিজ্যিক

ব্যাংককে নতুন করে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ১৬ হাজার ১২০ কোটি টাকা। ৯টি সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে তিন হাজার ৩০ কোটি টাকার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বড়রা যে করেই হোক টিকে থাকার চেষ্টায় কারখানা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ছোট অনেক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আবার ঋণ নেওয়ার আগে পরিশোধ বিষয়ে বেশ উদ্বিগ্ন থাকে। বড় গ্রাহকদের

সে তুলনায় উদ্বেগ কম। বাংলাদেশে এ যাবৎ বিশেষ ছাড়ে ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলের সুবিধার বেশিরভাগই বড় গ্রাহকরা পেয়েছেন। অন্যদিকে, বরাবরের মতো ব্যাংকারদের মধ্যেও ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ঋণ দিতে অনীহা

রয়েছে। এসএমই উদ্যোক্তাদের অনেকে ব্যাংকে গিয়ে ঋণ পাননি এমন অভিযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকারদের অনেকে অবশ্য বলছেন, উপযুক্ত গ্রাহক না পাওয়ায় তারা ঋণ দিতে পারছেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিদায়ী অর্থবছরে ২০ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করতে পেরেছে ১৫ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে তহবিল সংকটে পড়া ১৫টি ব্যাংক

ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় ধার নিয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। আবার এসব ঋণের বিপরীতে সরকারকে সুদের ওপর ৫ শতাংশ হারে ব্যাংকগুলোকে ভর্তুকি দিতে হবে

প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা। প্রণোদনার বাইরে নতুন উদ্যোক্তাদের তেমন কোনো ঋণ বিতরণ না করায় ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত তহবিল রয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তেমন কোনো ধার নিতে হয়নি

বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংককে।

এদিকে বড় উদ্যোক্তাদের প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার শতভাগই বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। কিন্তু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ বিতরণে অনীহার বিষয়ে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে ঋণ

বিতরণ করলে তার বেশিরভাগই আদায় হয়; বিপরীত চিত্র বড় উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে।

নতুন অর্থবছরে আবার ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রচলিত ৩০টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক দেবে ১০ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা এবং ৯টি ইসলামী ব্যাংকের পাঁচ

হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

ব্যাংকিং খাতে চলতি অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংককে (আইবিবিএল) দুই হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এর পরের অবস্থান ব্র্যাক ব্যাংক, এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং তৃতীয় অবস্থানে

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংককে (ইউসিবিএল) এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধনের পাশাপাশি মেয়াদি ঋণ বিতরণ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে শুধু এক বছরের জন্য সুদ

হারের ভর্তুকি পাবেন উদ্যোক্তারা। অর্থাৎ ১০০ টাকা ঋণ দিলে সরকার উদ্যোক্তাদের ৫ শতাংশ সুদ হারে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। বাকি ৪ শতাংশ সুদ গ্রাহক বহন করে থাকে। তিন বছর মেয়াদি ঋণ দিলে এক বছরের জন্য

সুদ হারে ভর্তুকি পাবেন উদ্যোক্তারা।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাসনীয়া আজাদ লাভলীর প্রতিষ্ঠান মানচিত্র। তিনি প্রণোদনার ঋণের জন্য বেইলি রোড ও পল্টনের দুটি ব্যাংক শাখায় গিয়ে তিনি ঋণ পাননি। দুটি শাখা থেকেই তাকে জানানো হয়েছে, সিএমএসএমই খাতের

জন্য নির্ধারিত প্রণোদনার ঋণ আপাতত তারা দিচ্ছেন না। তবে চাইলে তিনি জামানত দিয়ে নিয়মিত সুদে ঋণ নিতে পারবেন। এ কারণে তিনি ঋণ নেননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ছোট উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণের জন্য নানাভাবে চাপ তৈরি করা হচ্ছে। পিছিয়ে থাকা ব্যাংকগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, বৈঠকসহ নানাভাবে বলা হচ্ছে। এর

পরও যথাসময়ে ঋণ বিতরণ শেষ না হওয়ায় তিন দফা সময় বাড়িয়ে এখন নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার জন্য শিগগিরই ব্যাংকগুলোকে আরও কঠোর বার্তা দেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিভাগীয়, জেলা ও শাখা পর্যায়ে নতুন লক্ষ্যমাত্রা বণ্টন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধান কার্যালয় থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে তদারকি

করতে হবে। আর বিভাগীয় পর্যায় থেকে জেলা পর্যায়ে তদারকি করতে হবে। জেলা পর্যায় থেকে তদারকি করতে হবে শাখা পর্যায়ে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসব নির্দেশনা পরিপালনের বিষয়টি

ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।

advertisement