advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ঋণ পরিশোধ করেও এনজিওর মামলায় গ্রেপ্তার

মায়ের জন্য কাঁদছে ৬ মাসের কন্যা

গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর প্রতিনিধি
২৭ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২১ ০৮:১৬ এএম
advertisement

শ্রীপুর উপজেলার বারতোপা বাজারের একটি কাপড়ের দোকানি নুরুল আমীন। তার স্ত্রী শাহনাজ পারভীন স্বামীকে সহায়তার জন্য স্থানীয় টিএমএসএস নামের একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। বিনিয়োগ করেছিলেন স্বামীর ব্যবসায়। প্রতিমাসে ৯ হাজার ৫০০ টাকা করে কিস্তিও পরিশোধ করতেন নিয়মিত। তবে মাঝখানে নানা প্রতিবন্ধকতায় দুটি কিস্তি দিতে পারেননি। তবে সংস্থার কর্মীর পীড়াপীড়িতে দুই মাস পরই সেই দুই কিস্তি পরিশোধ করে ঋণ পরিশোধের সনদ নেন শাহনাজ পারভীন।

২০১৭ সালে এমনভাবে একটি ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ করার পরও এনজিওর মামলার ফাঁদে আটকে আছেন শাহনাজ পারভীন। গতকাল বিকালে ছয় মাসের শিশু রেখে পরোয়ানা মূলে শাহনাজ পারভীনকে গ্রেপ্তার

করে থানায় নিয়ে আসে শ্রীপুর থানাপুলিশ। এর পর থেকেই মায়ের জন্য কাঁদছে এই শিশুটি।

শিশুটির বাবা নুরুল আমীন বলেন, আমরা ঋণ গ্রহণ করে পরে দুটি কিস্তি পরিশোধ করতে কিছুটা সময় লাগে। দুই মাস পরই ঋণের টাকা পরিশোধ করি। এ সময় এনজিও আমাদের ঋণ পরিশোধের প্রত্যয়নও দেয়। যদিও পরে তারা আমার স্ত্রীর নামে মামলা করে। এ মামলার বিষয়ে আমরা কেউ কিছু জানতাম না। হঠাৎ করে শ্রীপুর থানাপুলিশ গিয়ে আমার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে।

তিনি আরও বলেন, সমস্যা হয়েছে আমার ছয় মাসের শিশু ফাতেমার জন্য। সে এখনো তার মায়ের দুধ ছাড়া কিছুই খায় না। বিকাল থেকেই তার মায়ের জন্য সে কান্নাকাটি করছে। করোনার এই মহামারীর সময় এমন অমানবিকতায় পড়ব তা ভাবতেই পারছি না।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার পরিদর্শক অপারেশন গোলাম সারোয়ার বলেন, এনজিও টিএমএসএসের মামলায় আদালতের পরোয়ানা মূলে শাহনাজ পারভীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

এ বিষয়ে টিএমএসএস শ্রীপুর শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল আলীম বলেন, শাহনাজ পারভীন নামের বর্তমানে আমাদের কোনো সদস্য নেই, তবে পূর্বে ছিলেন। তার কাছে আমাদের কোনো দেনা-পাওনা নেই। তবে তার বিরুদ্ধে কেন মামলা হলো, তা তিনি বলতে পারবেন না। তার পূর্বে যিনি দায়িত্বে ছিলেন, বিষয়টি তার জানা থাকতে পারে।

টিএমএসএসের গাজীপুর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আতাউর রহমান বলেন, মামলা ও নারীকে আটকের বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। তবে জরুরিভাবে স্থানীয় ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম বলেন, এনজিওর ঋণের টাকা পরিশোধের পরও মামলা ও শিশু রেখে একজন নারীকে আটক সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

 

 

 

 

 

 

advertisement