advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ডা. এমএ কাদেরী
তার জীবনাদর্শ অনুপ্রাণিত করবে

ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ
২৯ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২১ ১০:৫১ পিএম
advertisement

আজ ২৯ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এমএ কাদেরীর ১৭তম মৃত্যুবাষির্কী। অধ্যাপক এমএ কাদেরীর পুরো নাম অধ্যাপক ডা. মাজহার আলী কাদেরী। কিন্তু তিনি অধ্যাপক এমএ কাদেরী নামেই সর্বজন পরিচিত। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তৎকালীন আইপিজিএমআরে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালে আইপিজিএমআরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হলে তিনি প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

অধ্যাপক ডা. এমএ কাদেরীর গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলায়। ১৯৪১ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগরীর নবাব সিরাজউদ্দৌলা রোডস্থ পৈতৃক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম শহরেই তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। ১৯৫৭ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন কৃতিত্বের সঙ্গে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৫৯ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে আইএসসি পাস করার পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএসে ভর্তি হন। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অনুষ্ঠিত এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় সারাদেশের মধ্যে স্বর্ণপদকসহ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তা সত্ত্বেও সরকারবিরোধী ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আইয়ুব-মোনায়েম সরকার তাকে স্কলারশিপ থেকে বঞ্চিত করে এবং চার বছরের জন্য উচ্চশিক্ষায় বিদেশ যাওয়া বন্ধ করে দেয়। ১৯৬৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৬৮ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হাউস সার্জন, সিনিয়র হাউস সার্জন ও ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চতর শিক্ষার জন্য ডা. এমএ কাদেরী বিলেত যান এবং এমআরসিপি ডিগ্রি অর্জন করেন।

অধ্যাপক এমএ কাদেরী ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় পাবনা-৫ (সদর উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বকুল মৃত্যুবরণ করেন। পরে ওই শূন্য আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এমএ কাদেরীর সময় ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) হিসেবে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করি। তার মতো ব্যক্তির সান্নিধ্যে কাজ করে কর্মজীবনে অনেক কিছু শিখেছি। আজ আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য। তাই এদিনে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি অধ্যাপক ডা. এমএ কাদেরী স্যারকে এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত গুণী শিক্ষক, চিকিৎসক, রোগীর প্রতি অত্যন্ত দরদি মনের অধিকারী ও দক্ষ প্রশাসক। শিক্ষক হিসেবে তার ছাত্রছাত্রীদের অন্তর দিয়ে ভালোবাসতেন, ¯েœহ করতেন। কিন্তু শিক্ষার মান ও নীতি-আদর্শের কাছে কোনোদিন আপস করেননি। তিনি রোগীদের প্রতি অত্যন্ত দরদি ও যত্নবান ছিলেন। রাতেও তিনি হাসপাতালে নিয়মিত রাউন্ড দিতেন।

একজন ভালো শিক্ষকের যত গুণ থাকা প্রয়োজন, অধ্যাপক ডা. এমএ কাদেরীর মধ্যে এর সবই ছিল। তার শিক্ষাদানের পদ্ধতি ছিল অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে বাস্তবে রূপ দিতে তার অবদান অসামান্য। মানবিক গুণাবলিতেও ছিলেন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু কথায় নয়, বাস্তবেই তার গুণগুলো ধারণ করতেন।

বহুগুণের অধিকারী অধ্যাপক এমএ কাদেরীর জীবনাদর্শ আগামী দিনের পথ চলতে সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রেসিডেন্সি কোর্স চালুসহ এমডি এবং ডিএমডি কোর্স চালুর প্রচেষ্টা করেন।

প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলযাত্রায় অধ্যাপক ডা. এমএ কাদেরীর অবদান অপরিসীম। তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে গেছেন। তার নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে আমরা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাব- আজকের দিনে এটিই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ : উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

advertisement