advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

অপরিবর্তিত সবজির দাম অস্বস্তি মাছের বাজারেও

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২১ ০৯:৩১ এএম
advertisement

রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ধরনের সবজি। অপরদিকে ঈদের আগে বেড়ে যাওয়া মাছের দাম এখনো বেশ চড়া। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁও, মালিবাগ, রামপুরা, হাতিরঝিলসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির সরবরাহ বাড়লেও দামে এর প্রভাব পড়েনি। অনেকটা আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদের আগের মতো এখনো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর ও টমেটো। কেজিপ্রতি গাজর রাখা হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকা। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। করলা ও বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, চিচিঙ্গা ও ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং পটোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। পেঁপের কেজি রাখা হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। কাঁচাকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। আবার ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ কিনতে খরচ হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজি।

মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. মোকাদ্দেস হোসেন বলেন, ঈদের আগে অনেক ব্যবসায়ী গ্রামে চলে যাওয়ায় বাজারে অনেক দোকানই বন্ধ ছিল। এখন প্রায় সব দোকানই খুলেছে। বাজারে সবজির সরবরাহও বেড়েছে কিন্তু দাম খুব একটা কমেনি। গেল সপ্তাহের দামেই বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে। আরেক বিক্রেতা মো. সোহেল বলেন, শীতের সবজি শেষ হলে বাজারে এমনিতেই সবজির দাম বেশি থাকে। তার ওপর বেশ কয়েকটি সবজির মৌসুম এখন শেষের দিকে হওয়ায় দাম অনেক চড়া। তা ছাড়া লকডাউনের কারণে সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। সব মিলিয়ে দাম বাড়তি রয়েছে। ঈদের আগে থেকেই মাছের বাজারে অস্বস্তি ছিল, যা এখনো চলছে। সরবরাহ বাড়লে সবজির মতো মাছের দামেও এর প্রভাব পড়েনি। বাজারে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি। মৃগেল ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং পাবদা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া চিংড়ি মাছের দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া চিংড়ি এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকায়। সব থেকে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশ। এ মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা। তেলাপিয়ার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা।

কারওয়ানবাজারের মাছ বিক্রেতা স্বপনচন্দ্র বলেন, মাছের সরবরাহ বেড়েছে, তবে লকডাউনের কারণে পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেনি। এ ছাড়া অনেকের বাসায় এখনো কোরবানির মাংস রান্না হচ্ছে। ফলে মাছের চাহিদা কমেছে। এক কথায় মাছের বাজার এখন মন্দা। ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না, তাই সর্মনিম্ন লাভেই মাছ ছেড়ে দিচ্ছি।

এদিকে গত সপ্তাহে গরু ও খাসির মাংসের দোকান বন্ধ থাকলেও এখন প্রায় সবই খুলে গেছে। গরুর মাংস আগের মতোই ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া আগের মতো ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকায়। কারওয়ানবাজারের মাংস বিক্রেতা মো. জসিম বলেন, কোরবানির পর মাংসের চাহিদা অর্ধেকের নিচে নেমে যায়। এ সময় আমাদের ব্যবসা নেই বললেই চলে। ব্যবসা কমে যাওয়ায় আমরাও গরু জবাইয়ের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি। একই বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী মো. আমির উল ইসলাম বলেন, কোরবানির ঈদের পর মুরগির চাহিদা কম থাকে, তাই দামেও এর প্রভাব পড়ে। কিন্তু এবার লকডাউনের কারণে রাজধানীতে মুরগি কম ঢুকছে। কাপ্তান বাজারেও সরবরাহ কমেছে। সে জন্য মুরগির দাম ততটা কমেনি এবার।

advertisement