advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ডিসিসিআইয়ের মন্তব্য
ঘোষিত মুদ্রানীতি সম্প্রসারণমূলক তবে গতানুগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২১ ০৯:৩১ এএম
advertisement

কোভিড আক্রান্ত অর্থনীতির এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত মুদ্রানীতিটি কমবেশি সম্প্রসারণমূলক ও সংকুলানমুখী, তবে গতানুগতিক ধারার। সামগ্রিক অর্থনীতিতে কোভিডের নেতিবাচক প্রভাব থেকে বের হয়ে আসার প্রতি এবারের মুদ্রানীতিটি বিশেষ নজর দিয়েছে বলেও মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন মন্তব্য করা হয়েছে।

ডিসিসিআই বলছে, ২০২২ সাল নাগাদ সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা কিছুটা আশাবাদী। কোভিডের কারণে আশানুরূপ বিনিয়োগ হচ্ছে না বিধায় ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি না সামগ্রিক অর্থনীতি এবং বেসরকারি খাত ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত নাও হতে পারে।

গত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের পেছনে ব্যয় করার জন্য ১ দশমিক ২৮ ট্রিলিয়ন টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। আর এই অর্থ জোগান দিতে সরকারকে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে আর তাতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ২০২১ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ছিল ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। বিনিয়োগ না হওয়া, দুর্বল অর্থনীতি, কোভিডে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ধস বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কম হওয়ার অন্যতম কারণ। প্রায় ৯০ শতাংশ সিএমএসএমই স্বল্প সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং নতুন বিনিয়োগেও তেমন আগ্রহী নয়।

ডিসিসিআই আরও বলছে, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিনিয়োগের রিটার্ন অথবা সঞ্চয়পত্র, পোস্টাল সেভিংস, পেনশনার সেভিংস সার্টিফিকেট প্রভৃতির ক্ষেত্রে প্রদেয় সুদের হার যৌক্তিক হারে ব্যাংকিং ইনস্ট্রুমেন্ট যেমন এফডিআরের মতো ব্যাংক প্রদত্ত সুদের হারের সঙ্গে বা বন্ডের রিটার্নের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কিছুটা কমানো যেতে পারে। তবে এ-বিষয়ক কোনো নির্দেশনা মুদ্রানীতিতে প্রতীয়মান হয়নি। সিএমএসএমই খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে আর্থিক প্রণোদনাসহ অনেক ধরনের নীতিসহায়তা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু ঘোষিত মুদ্রানীতিতে প্রদত্ত সুবিধাদি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তেমন দিকনির্দেশনা বা রোডম্যাপ প্রদান করা হয়নি। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময়হারের বিষয়টি তেমন উদ্বেগজনক নয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে টাকার মানের এ হার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত মুদ্রানীতিটি কিছুটা গতানুগতিক ও ধারাবাহিক এবং এ নীতিতে বেসরকারি খাতকে উজ্জীবিত করতে উদ্ভাবনী কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যায় না। যদিও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার সমন্বয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাদের কার্যক্রমের নজরদারি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

advertisement