advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

লাশ দেখতেও এলো না কেউ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুমনের সৎকার হলো শ্রীমঙ্গলে

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
৩১ জুলাই ২০২১ ০৮:১৯ পিএম | আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২১ ০৮:২৪ পিএম
advertisement

করোনার উপসর্গ নিয়ে রাজধানীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার ফান্দাউক গ্রামের সুমন আচার্য (৩৮)। অ্যাম্বুলেন্সে তার মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হলেও মরদেহ সৎকারে এগিয়ে আসেনি বাড়ির লোকজন বা আত্মীয়-স্বজনদের কেউ। দীর্ঘ সময় বাড়ির উঠানেই পড়েছিল মরদেহ। অবশেষে খবর পেয়ে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা দেহ সৎকার কমিটি মরদেহ সৎকারের উদ্যোগ নেয়। পরে আজ শনিবার সকালে শ্রীমঙ্গল পৌর শ্মশানে সুমনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের সুমন আচার্য গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার ডিএনসিসি হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। তার দুই বছরের এক ছেলে ও  ছয় বছরের এক মেয়ে রয়েছে।

সুমন আচার্যের স্বজন রনি আচার্য জানান, ঢাকা থেকে লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তার বাড়িতে নিয়ে গেলে কেউ সাড়া দেয়নি। পাড়া-প্রতিবেশীও কেউ এগিয়ে আসেনি। নিরুপায় হয়ে তিনি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের দেহ সৎকার কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই কমিটির কথামতো মরদেহ শ্রীমঙ্গল পৌর শ্মশানে নেওয়া হয়। আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে শ্রীমঙ্গল দেহ সৎকার কমিটির সঞ্জয় রায় রাজু, সুখদেব, দ্বীবস মজুমদার বাবলু আচার্য, ছোটন চৌধুরী, অর্জুন দাশের নেতৃত্বে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা দেহ সৎকার কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় বলেন, ‘শুক্রবার রাত ১টার দিকে বাবলু আচার্য নামে একজন ফোন করে মৃত ব্যক্তির ঘটনা বলেন। তখন আমি তাকে বলি, আমাদের দেহ সৎকার কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে গ্রীন সিগন্যাল পেলে  লাশ নিয়ে চলে আসবে। কিন্তু সে এ কথা না শুনে রাতেই লাশ নিয়ে পৌর শ্মশান ঘাটে চলে আসে। শনিবার সকালে অনেকেই উপস্থিত থেকে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ একটা ভুলের স্বর্গে বাস করছে। জীবিত করোনা রোগী আর মৃত ব্যক্তির মধ্যে যে ব্যবধান আছে সেটা মানুষে বোঝে না। করোনায় কেউ মারা গেলে তিন ঘণ্টার কোনো ঝুঁকি থাকে না।’

advertisement