advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বানের পানি নেমে চকরিয়ায় ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন

মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়া (কক্সবাজার)
২ আগস্ট ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১ আগস্ট ২০২১ ১০:৩০ পিএম
advertisement

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পাঁচ দিন পানিবন্দী ছিল চকরিয়া উপজেলার লাখো মানুষ। শুক্রবার থেকে মাতামুহুরী নদীতে পানি কমছে। পানি নামছে বিভিন্ন এলাকা থেকে। তবে দুর্ভোগে পড়েছেন বানবাসি মানুষ। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও রাস্তার পাশে আশ্রয় নেওয়া লোকজন বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। এদিকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর জেগে উঠছে ক্ষতবিক্ষত গ্রামীণ সড়কগুলো। বন্যার তা-বে এগুলো চলাচলের অনুপোযুগী হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে পানিতে ডুবে থাকায় এখন আর পানি উঠছে না নলকূপগুলোয়। এতে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে পড়েছে বন্যাকবলিত মানুষ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা মেলে এসব দৃশ্যের। সরকারের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের উদ্বৃতি দিয়ে জানান, পাঁচ দিনের টানা বর্ষণ ও ঢলে তলিয়ে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। বানবাসি মানুষ খুব কষ্টে আছেন। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে যে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে তা খুবই অপ্রতুল। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

টানা বর্ষণ ও ঢলে উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার সবকটি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়। সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, ডুলাহাজারা, ফাঁসিয়াখালী, চিরিংগা, খুটাখালী ও পৌরসভা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় ভেসে উঠছে শুধু ক্ষতচিহ্ন।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর মাঠ পর্যায়ে হিসাব করেই জানা যাবে ক্ষতির পরিমাণ।

ঘর হারানো পরিবার ও ভেঙে যাওয়া সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ সচলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় খাবার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য ৪ টন চাল ও শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ২৮ টন চাল ও শুকনো খাবার বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যাদুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া, আমাশয়, জ্বরসহ পানিবাহিত নানা রোগব্যাধি। বন্যাদুর্গত মানুষের চিকিৎসা সহায়তায় উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার জন্য মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে থেকেও বিশেষ ব্যবস্থায় দুর্গতদের দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

advertisement