advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ঠিকাদারের মামলা গাংনীর তিন সড়কের কাজ চার বছর বন্ধ

ফারুক আহমেদ, গাংনী (মেহেরপুর)
২ আগস্ট ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১ আগস্ট ২০২১ ১০:৩০ পিএম
advertisement

দরপত্র প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা ও কার্যাদেশ প্রদানে গরমিলের অভিযোগে ঠিকাদারের মামলার কারণে গাংনী উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ চার বছর ধরে বন্ধ আছে। এতে এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন লক্ষাধিক মানুষ। ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় সড়ক তিনটিতে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা।

উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বামুন্দী-নওদাপাড়া সড়ক সংস্কারে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা, ধলা-কাজিপুর সড়ক সংস্কারে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা ও মটমুড়া মোহাম্মদপুর সড়ক সংস্কারে প্রায় ৩ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়।

দরপত্র প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা ও কার্যাদেশ প্রদানে গরমিলের অভিযোগে ঠিকাদারের করা মামলার কারণে গত চার বছরেও সড়কগুলো সংস্কার করা যায়নি। তিনটি সড়কেই অসংখ্য বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সড়কগুলো খানাখন্দে পরিণত হওয়ায় প্রতিনিয়ত বাস, ট্রাক, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল উল্টে পঙ্গুত্ববরণ করেছে অনেকেই। ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে। বর্তমানে ওই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে।

এই এলাকা থেকে প্রতিদিন সবজিবোঝাই ট্রাক দেশের বিভিন্ন জেলায় যেত। কিন্তু ভাঙাচোরা হওয়ার কারণে এখন তা বন্ধ।

অটোবাইক চালক জহিরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ চার বছর সড়ক সংস্কার না হওয়ায় অন্তত ১০ বার অটোবাইক উল্টে আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩০ জন। মোটরসাইকেলচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। ট্রাকচালক সাফিরুল বলেন, রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে, লোডগাড়ি তো দূরের কথা, খালি গাড়িও চালানো যায় না।

মামলার বাদী ঠিকাদার জাকাউল্লাহ বলেন, একই দিনে ৯টি সড়ক উন্নয়নকাজের দরপত্রের লটারি হয়। আমার প্রতিষ্ঠান তিনটি কাজ পেলেও দরপত্রে ভুল আছে উল্লেখ করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। এ জন্য আদালতে মামলা করেছি। লকডাউন শেষ হলে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

এলজিইডির গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী গোলাপ আলী শেখ বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি মামলা প্রত্যাহার করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। মামলা প্রত্যাহার করা হলে আগামী দুই মাসের মধ্যে টেন্ডার শেষ করে কাজ শুরু করা হবে।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করছি মামলাটি দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে। মামলা প্রত্যাহারের কিছু দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

advertisement