advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

অজিদের নামানোর নায়ক নাসুম

সুসান্ত উৎসব
৪ আগস্ট ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৩ আগস্ট ২০২১ ১০:৫৪ পিএম
advertisement

অনিন্দ্য সুন্দর রাত- ফ্ল্যাড লাইটের আলোয় আলোকিত মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম চত্বর। সবুজ ঘাসের গালিচায় মাহমুদউল্লাহ-সাকিবদের বিজয় উদযাপন। টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারানোটা তো চাট্টিখানি কথা নয়। বাংলাদেশ পেরেছে। নাসুম-মাহেদী-সাকিবদের ঘূর্ণি জাদুতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ। আর তাতেই অজিদের বিপক্ষে অধরা জয়টা ধরা দিয়েছে হাতের মুঠোয়। ১৩১/৭ রানের পুঁজি নিয়েও বোলারদের নৈপুণ্যে বাংলাদেশ ম্যাচটি জিতেছে ২৩ রানে। ওয়ানডে, টেস্ট, টি-টোয়েন্টি- তিন সংস্করণেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ২৩ রানের জয়ে দলের খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।

প্রথমবার দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে অজিদের বিপক্ষে চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেললেও কখনো জয়ের স্বাদ পাওয়া হয়নি টাইগারদের। এবার মাহমুদউল্লাহদের সামনে দারুণ সুযোগ ছিল। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ব্যাটিংটা ভালো না হলেও

বোলাররা ছিলেন উজ্জ্বল। বিশেষ করে নাসুম আহমেদ। ১৩১ রান তাড়ায় ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই অ্যালেক্স ক্যারির উইকেট হারায়। ইনিংসের প্রথম বলেই অজি ওপেনারকে বোল্ড করে টাইগারদের আনন্দের উপলক্ষ্য এনে দেন মাহেদী হাসান। দলীয় ১১ রানের মধ্যে প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যান- ক্যারি, ফিলিপে ও হেনরিকসের উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যান সফরকারীরা। চতুর্থ উইকেটে ওয়েড-মার্শ জুটি কিছু সময় প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তারা স্কোরকার্ডে ৩৮ রান জমা করেন। ওয়েড (১৩) ও মার্শকে (৪৫) ফেরান নাসুম। ৮৪ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে ‘অক্সিজেন’ দেওয়ার শেষ চেষ্টা চালান মিচেল স্টার্ক। তিনি ১৪ বলে ১৪ রান করেন। তবে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা। জয়ের জন্য শেষ ১২ বলে তাদের দরকার ছিল ৩১ রান। শেষ ওভারে ২৮। মোস্তাফিজের করা ওভারে ৪ রানের বেশি তুলতে পারেননি হ্যাজেলউড-স্টার্ক জুটি। শেষ বলে স্টার্ককে বোল্ড করে তুলির শেষ আঁচড় দিয়েছেন কাটার মাস্টার। ১০৮ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ম্যাচসেরা নাসুমের শিকার ১৯ রানে ৪ উইকেট। মোস্তাফিজ-শরিফুল পেয়েছেন দুটি করে উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি অভিযান শুরু করল বাংলাদেশ। আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুদল। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দিবারাত্রির ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়।

বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটির কাছে প্রত্যাশা ছিল বেশি। কিন্তু হতাশ করেছেন সৌম্য সরকার। টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ দলীয় ১৫ রানে প্রথম উইকেট হারায়। জিম্বাবুয়ে সফরের টি-টোয়েন্টিতে উজ্জ্বল ছিলেন সৌম্য। সিরিজসেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। ফর্মের সেই ধারাটা অস্ট্রেলিয়া সিরিজে প্রথম ম্যাচে ধরে রাখতে পারলেন না। হ্যাজেলউডের লেগ স্টাম্পের বাইরের বলটা পেছনে সরে গিয়ে কাট করতে চেয়েছিলেন; ফলাফল বলটা সরাসরি স্টাম্প ভেঙে দেয়। অথচ বলটা ছেড়ে দিলে ওয়াইড হতো। ৯ বলে ব্যক্তিগত ২ রানে আউট হন সৌম্য। তবে ইনিংসের শুরুতে নাইমের ছক্কা হাঁকানোটা ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিল। স্টার্কের করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকান এ ওপেনার। তবে পাওয়ার প্লেতে মন্থরগতিতে ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। ৩৬ বলের মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ডট দিয়েছেন ২২টি। ৬ ওভার শেষে টাইগারদের সংগ্রহ ছিল ৩৩/১। বাংলাদেশের ইনিংসে সব মিলিয়ে ডট বল ছিল ৪৭টি। এ কারণেই দলীয় সংগ্রহটা ছিল নাজুক! ২০ ওভারে ১৩১/৭।

অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা যতটা না ভালো বোলিং করেছেন, তারচেয়ে বেশি খাপার ব্যাটিং করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা! নাইম শেখ ২৯ বলে ৩০ রান করেছেন। তবে তার আউট হওয়ার ধরণাটা ছিল দৃষ্টিকটু। জাম্পার স্টাম্প বরাবর আসা বলটা রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন এই ওপেনার। দলীয় ৩৭ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ জুটি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তারা সর্বোচ্চ ৩৬ রান স্কোরকার্ডে জমা করেন। মাহমুদউল্লাহ তো রীতিমতো টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করেছেন। ২০ বলে ২০ রানে আউট হন তিনি। বাংলাদেশ যে দলীয় সংগ্রহটা পেয়েছে তাতে সাকিবের অবদান ৩৩ বলে ৩৬ রান। এটিই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ছয়ে নামা আফিফ ১৭ বলে তিনটি চারের সাহায্যে ২৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। তবে জিম্বাবুয়ে সফরে সোহান (৩) ও শামীম পাটোয়ারী (৪) দারুণ ব্যাটিং করলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিবর্ণ ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া ৩ পেসার নিয়ে মাঠে নেমেছিল। তাদের পেসারদের সফলই বলতে হবে। কেননা ৭ উইকেটের মধ্যে ছয়টিই তো পেয়েছেন স্টার্ক (২), হ্যাজেলউড (৩) ও টাই (১)। একটি উইকেট শিকার করেছেন লেগ স্পিনার জাম্পা।

অস্ট্রেলিয়া দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে বাংলাদেশ সফরে এসেছে। ক্যারিবিয়ানদের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজটা জিতলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে হেরেছে। এই দলটিতে স্মিথ, ওয়ার্নার, ম্যাক্সওয়েলরা নেই। উইন্ডিজ সফরেই চোট ছিটকে দিয়েছে বাংলাদেশ সফরের অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চকে। তার বদলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ম্যাথু ওয়েড। বাংলাদেশ সফরে আসার আগ থেকেই একগাদা শর্ত দিয়েছে তারা। বিসিবিও সব শর্ত মেনেই সিরিজ আয়োজন করেছে। এ সফরটা মূলত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুত করতেই। তবে বাংলাদেশ দলের জন্য এটি ঐতিহাসিক জয়। কেননা অজিদের বিপক্ষে খুব একটা খেলার সুযোগই পান না টাইগাররা। পঞ্চম সাক্ষাতে এসে প্রথমবার জয়ের স্বাদ পেলেন টাইগাররা। আজ দ্বিতীয় ম্যাচটি জিতে সিরিজে লিড বাড়িয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন মাহমুদউল্লাহ-সাকিবরা।

advertisement