advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সেপ্টেম্বরে ভাসানচরে কাজ শুরু করবে জাতিসংঘ

আরিফুজ্জামান মামুন
৪ আগস্ট ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৩ আগস্ট ২০২১ ১০:৫৪ পিএম
advertisement

কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় জাতিসংঘ যুক্ত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরসহ এর বিভিন্ন সংস্থা কীভাবে ভাসানচরের কাজের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে, সে সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে। কয়েক দফা আলোচনার পর ওই সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ। আগামী সপ্তাহের যে কোনোদিন সেটি সই হবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র। মূলত ভাসানচরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘ কীভাবে কার্যক্রম চালাবে, সে বিষয়গুলো চার পৃষ্ঠার ওই খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তি সইয়ের পর আগামী মাসেই ভাসানচরে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করবে জাতিসংঘ। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চরম নৃশংসতার শিকার হয়ে বিভিন্ন সময় দেশটি থেকে সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসে। মাঝে দুই দফায় রোহিঙ্গাদের তাদের নিজভূমি রাখাইনে প্রত্যাবাসনের জন্য দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলেও সে প্রক্রিয়া সফল হয়নি। মূলত মিয়ানমারের কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। ফলে বহুদিন ধরেই কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে তারা বসবাস করে আসছেন। সেখানে চাপ কমানোর জন্য রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু করেছে বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। সরকার এখন পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়ন এবং দেশি-বিদেশি সাহায্য সংস্থাকে যুক্ত করে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়া রোহিঙ্গাদের

মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে জাতিসংঘ প্রথম দিকে ভাসানচরে স্থানান্তরের বিরোধিতা করলেও এখন সেখানে যুক্ত হচ্ছে। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ছয় দফায় মিয়ানমারের ১৮ হাজার ৫২১ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে শিশু, নারী ও পুরুষের সংখ্যা যথাক্রমে ৮ হাজার ৭৯০ জন, ৫ হাজার ৩১৯ জন ও ৪ হাজার ৪০৯ জন।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এর আগে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ততার বিষয়ে যে সমঝোতা স্মারক সই হবে তার খসড়া নিয়ে দুই পক্ষ গত মাসে সম্মত হয়েছে। মূলত এরই আলোকে ভাসানচরে কার্যক্রম চালাবে জাতিসংঘ। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকার কর্মসূচি, যাতায়াতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করে কাজের পরিধি ঠিক করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা কার্যক্রম মিয়ানমারের ভাষায় এবং সে দেশের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পরিচালিত হবে। অর্থাৎ রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরে গিয়ে যাতে সেখানকার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে, সেটি বিবেচনায় নিয়ে এটা করা হয়েছে। সেভাবে সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সমঝোতা স্মারকে শিক্ষার মতো কাজের ক্ষেত্রেও ভাসানচরে থাকা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে জীবিকার জন্য তৈরি না করে তাদের আদিনিবাসের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর বিষয়টিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত হওয়া খসড়ায় স্বাস্থ্যগত বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ভাসানচর থেকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে তাদের ভাসানচরে ফিরে যেতে হবে।

শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের অন্যতম প্রধান আপত্তি ছিল রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচলে বিধিনিষেধ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ভাসানচর কতটা ঝুঁকিমুক্ত, রোহিঙ্গাদের অবাধে ভাসানচর থেকে বাংলাদেশের মূল ভূখ-ে চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত, তাদের স্বেচ্ছায় ভাসানচরে নেওয়া হয়েছে কিনা, এ বিষয়গুলো নিয়ে জাতিসংঘের প্রশ্ন ছিল। সরকার কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের কাজ শুরু করে অব্যাহত রাখার একপর্যায়ে সেখানে একটি কারিগরি দল পাঠায় জাতিসংঘ। কাছাকাছি সময়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), ঢাকায় পশ্চিমাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের পর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) দুই সহকারী হাইকমিশনার ভাসানচর সফর করেন। এসব সফরের পর জাতিসংঘের কারিগরি দলসহ প্রতিনিধি দল ভাসানচর নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখায়।

advertisement