advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বস্তি ছেড়ে গ্রামে ফিরলে মিলবে ঘর, খাবার

বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট হস্তান্তরে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ আগস্ট ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৩ আগস্ট ২০২১ ১০:৫৪ পিএম
advertisement

শহর ছেড়ে বস্তিবাসীদের কেউ গ্রামে ফিরলে ঘরবাড়ি করে দেওয়ার পাশাপাশি ৬ মাসের খাবার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বস্তিবাসীদের জন্য রাজধানীর মিরপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে নির্মিত ফ্ল্যাট উদ্বোধন ও হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আজকে ৩০০ পরিবারকে ৩০০ ফ্ল্যাট দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ফ্ল্যাট দেব। তবে বস্তিতে যেমন ভাড়া দিয়ে থাকেন, তেমনি ভাড়া দিয়ে থাকতে হবে। সেটা মাসিক, সাপ্তাহিক এবং দৈনিক- যার যেমন সুুবিধা সেভাবে হতে পারে। আর কেউ গ্রামে যেতে চাইলে সে ব্যবস্থাও করব। গ্রামে ঘরবাড়ি করে দেব। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পাবেন এবং ছয় মাসের খাবারও বিনামূল্যে পাবেন।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে গতকাল মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি সরকারি

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত ফ্ল্যাটও উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কয়েকজন বস্তিবাসীর মাঝে ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার স্বাগত ভাষণ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলায় আমরা কাজ করছি। জাতির পিতা তা-ই করতে চেয়েছিলেন। তার যে স্বপ্ন, সেটি পূরণ করাটাই একটা দায়িত্ব এবং সেটিই হচ্ছে বাংলাদেশের উন্নতি। কারণ তিনি যেভাবে চিন্তা করেছেন তার থেকে ভালো চিন্তা আর কেউ করতে পারে না। আমি তার বড় মেয়ে হিসেবে সবসময় তার কাছে এ কথা শুনেছি। তিনি বলেছেন, কিভাবে বাংলাদেশকে সাজাতে চান। শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই আগস্ট মাসে বস্তির মানুষগুলো যে থাকার একটা সুন্দর জায়গা পাবে- এটিই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলাদেশ, যে দেশের প্রত্যেকটি মানুষ সুন্দর ও উন্নত জীবন পাবেন। আমরা মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। কিন্তু আমি জানি জাতির পিতা বেঁচে থাকলে দেশ স্বাধীন হওয়ার ১০ বছরের মধ্যেই দেশের মানুষ উন্নত জীবন পেত। প্রত্যেকটি গ্রাম এবং ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত উন্নত হতো। সে কাজটাই আমরা এখন করে যাচ্ছি।

জাতির পিতা স্বাধীন বাংলাদেশে ভূমিহীনদের ঘর করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সাড়ে তিন বছর একটা রাষ্ট্রের জন্য কম সময়। তখন তো একটা প্রদেশ ছিল, সেটা দেশে উন্নীত করা এবং তা গড়ে তোলা, এটা তিনি করে গেছেন। কিছু বেঈমান-মোনাফেকের জন্য তার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সবসময় একটি কথাই বলতেন, ‘আমার জীবনের একমাত্র কামনা বাংলাদেশের মানুষ অন্ন পাবে, বস্ত্র পাবে, তারা উন্নত জীবনের অধিকারী হবে।’ সরকারপ্রধান বলেন, প্রথমে ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন কমপ্লেক্স করে দিয়েছি। যাতে এক জায়গা থেকে সব সেবা পাওয়া যায়। পরে উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন করে দিয়েছি। এখন মাদারীপুরে জেলা কমপ্লেক্স করে দিলাম। এক ছাদের নিচে সব সরকারি সেবা পাবে মানুষ। সব জেলা ও উপজেলায় কমপ্লেক্স করে দেব। অফিসারদের থাকার জন্যও ফ্ল্যাট করে দেব।

যে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে তার কাজ, তাদের জীবনমান উন্নত করাকেও কর্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের নিয়ে আমরা কাজ করব, তাদের ভালো-মন্দও তো দেখতে হবে। কাজেই আমি সরকার গঠন করে উদ্যোগ নিয়েছিলাম, সবাইকে ফ্ল্যাট করে দেব। সুন্দর পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করে দেব, যাতে কর্মকর্তারা ভালোভাবে কাজ করতে পারেন।

এ সময় তিনি বলেন, পূর্বাচলে যাদের জমির মালিকানা ছিল, তাদের একটা করে প্লট করে দেওয়ার কথা ছিল। সেটা কেউ করেনি। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নামমাত্র মূল্যে তাদের প্লটগুলো দিয়েছে। আমাদের একটা লক্ষ্য আছে। বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রত্যেকের একটা ঠিকানা হবে এবং যারা বস্তিতে বসবাস করছেন তাদের জন্যও একটি সুষ্ঠু আবাসন ব্যবস্থা আমরা করে দেব।

advertisement