advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

স্ত্রীর মর্যাদা দাবি, সালিসেই করলেন বিষপান

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
৪ আগস্ট ২০২১ ০৭:১৪ পিএম | আপডেট: ৪ আগস্ট ২০২১ ০৭:১৪ পিএম
অনশনে থাকা নারী। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে বিষের বোতল হাতে নিয়ে গত ৫ দিন ধরে অনশনরত সুলতানা খাতুন (২৪) সালিসের বৈঠকে বিষপান করেছেন। আজ বুধবার উপজেলার দাড়িয়াপুর এলাকায় স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক সালিস বৈঠকে সঙ্গে থাকা বোতলের বিষ মুখে ঢালেন তিনি।

তবে ওই নারী প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিজ বাড়ি ভুয়াপুর ফিরছেন বলে তার ভাই শামীম আহমেদ দৈনিক আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শনিবার (৩১ জুলাই) থেকে সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর ফালু চাঁনের মাজারপাড় এলাকায় আবদুর রহিমের বাড়িতে স্ত্রীর অধিকার আদায়ের দাবিতে তিনি অনশন করছেন। স্থানীয়রা জানান, সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর ফাইলা পাগলার মাজার এলাকার মৃত মোজাফর আলীর ছেলে আবদুর রহিম ও ভূঞাপুর উপজেলা সদরের আজগর আলীর মেয়ে সুলতানা খাতুন গাজীপুর চৌরাস্তায় একটি এনজিওতে চাকরি করতেন। এ সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরে উভয়ের সম্মতিতে ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে তারা বিয়ে করেন। গাজীপুর চৌরাস্তার ভাওয়াল কলেজ সংলগ্ন একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকতেন। কিছুদিন আগে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে আবদুর রহিম বাসা থেকে চলে আসেন। তিনি ব্যবহৃত মুঠোফোনের নম্বর পরিবর্তন করে গ্রামের বাড়ি দাড়িয়াপুরে অবস্থান করছিলেন। ওই নারী আবদুর রহিমের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। ৩১ জুলাই শনিবার স্ত্রীর অধিকার আদায়ের দাবিতে কাবিননামা এবং বিষের বোতল হাতে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নেন। তার আসার খবর শুনে আবদুর রহিম ও তার পরিবারের লোকজন ঘরে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়েন।

বিষয়টি মীমাংসার জন্যে বুধবার সখীপুরের দাড়িয়াপুর আবাদি বাজার এলাকায় দুইপক্ষের লোকজন নিয়ে সালিসি বৈঠবে বসেন। বৈঠকে দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী আসিফ, সাবেক চেয়ারম্যান শাইফুল ইসলাম শামীম, শিক্ষক সানোয়ার হোসেন, ইউপি সদস্য শাহীন মিয়া এবং ভূয়াপুর থেকে সন্দুলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, অনশনরত সুলতানার বড়ভাই শামীম ও তার পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। সালিসি বৈঠকে মেয়েকে তিন লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে উপস্থিত উভয়পক্ষের সম্মতিতে তাদের ছাড়াছাড়ির সিদ্ধান্ত হয়। উভয়পক্ষ সিদ্ধান্তটি মেনেও নেয়। কিন্তু অভিযুক্ত আব্দুর রহিম একলাখ টাকা নগদ পরিশোধ করে বাকি টাকা দিতে ১০ দিনের সময় চান। পরে ওই নারী হঠাৎ বিষের বোতল বের করে নিজের মুখে ঢেলে দেন। তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী আসিফ দৈনিক আমাদের সময়কে জানান, ওই নারী সুস্থ হলে এ বিষয়ে পরবর্তীতে আবার বসা হবে।

advertisement