advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

আমাদের দেখে শিক্ষা নেওয়া উচিত : নাসরিন

বিনোদন প্রতিবেদক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:১৯ পিএম | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০২:১২ পিএম
নাসরিন। পুরোনো ছবি
advertisement

‘অগ্নিশপথ’ সিনেমার সুবাদে ১৯৯২ সালে রূপালি পর্দায় পা রাখেন নাসরিন। এরপর কাজ করেছেন অসংখ্য সিনেমায়। এক সময়ের পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রীদের একজন তিনি। সবশেষ কাজ করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘আনন্দ অশ্রু’ সিনেমায়। যা এখনো মুক্তির অপেক্ষায়। আর মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার তালিকায় আছে হাসিবুর রেজা কল্লোলের ‘সত্তা’। শাকিব খান ও পাওলি দাম অভিনীত এটি মুক্তি পায় ২০১৭ সালে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়ে নেই এই অভিনেত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেকদিন ধরেই অসুস্থ নাসরিন। ঘুম জটিলতা, পেটে টিউমারসহ নানা রোগে ভুগছেন আইটেম গার্ল’খ্যাত এই অভিনেত্রী। স্বামী সংসার নিয়ে আপাতত বিশ্রামে আছেন তিনি।

দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে নাসরিন বলেন, ‘আমি তো একসময় কাজের মধ্যেই ছিলাম। সেসময় রাতদিন কাজ করেছি। অসংখ্য রাত না ঘুমিয়ে কাজ করেছি। দীর্ঘদিন না ঘুমানোর কারণে, মাথার মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এখন সেই সমস্যা আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘুমের কারণে এখন নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তার মধ্যে আবার পেটে টিউমার হয়েছিল। তা অপারেশন করেছি। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হতে পারিনি। এখনো তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়ে গেছে। আর ওই সময় টিউমারটিও পুরোপুরি সরানো সম্ভব হয়নি। তাই আবার অপারেশন করতে হবে। আমি আসলে এসব নিয়ে নিউজ চাচ্ছি না।’

অসুস্থতার কারণে কি এখন অভিনয় থেকে দূরে আছেন? জানতে চাইলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘বলতে পারেন অসুস্থতা আর এখন সেভাবে কাজের প্রস্তাবও আসে না; তাই অভিনয় থেকে দূরে আছি। আর এখনো তো ইন্ডাস্ট্রিতে কাজও কম। এছাড়াও আরও কিছু কারণ আছে, যার জন্য এখন অভিনয় করা হয় না।’

কারণগুলো কি বলা যায়? উত্তরে নাসরিন বলেন, ‘বলা যাবে না কেন, এখন ইন্ডাস্ট্রিতে সিনিয়র শিল্পীদের মূল্যায়ন তেমন হয় না বললেই চলে! তাই আমাদের ডাকও আসে না। অথচ পাশের দেশেও কিন্তু সিনিয়র শিল্পীদের মূল্যায়ন অনেক। তাদের জন্য ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রও রাখা হয়। এসব বিষয়ে শিল্পী সমিতিতে অনেক কথা হয়েছে। তারপরও কোন লাভ হয়নি। সমিতি অনেকবার উদ্দ্যোগও নিয়েছে, তারপরও কোন লাভ হয়নি। আসলে এখন পুরোনো অনেক পরিচালকরাই ছবি নির্মাণ করছেন না। এখন নতুনরাই কাজ করছেন বেশি। তারা নতুন শিল্পীদেরই প্রাধাণ্য দিচ্ছে। আর সে কারণে আমাদের কদরও কমে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কি চলচ্চিত্রের জন্য কিছু করিনি। এই ইন্ডাস্ট্রির কেউ কি বলতে পারবেন, নাসরিন চলচ্চিত্রের জন্য কিছু করেনি। রাতদিন সময় দিয়েছে। কাজের পর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থেকেছি। প্রডিউসার, পরিচালক যেভাবে বলেছে, সেভাবে কাজ করেছি। কাজকে শ্রদ্ধা করে রাতের পর রাত জেগে কাজ করেছি। কোন চরিত্র বা ছবিতে কীভাবে আমাকে উপস্থাপন করা হচ্ছে, এই বিষয়টি নিয়ে ভাবিনি। ছবি যাতে সুন্দর হয় সে দিকেই নজর দিয়েছি।’

কান্না জড়ানো কণ্ঠে নাসরিন বলেন, ‘এমনও অনেক ছবি করেছি, যেখান থেকে একটা টাকাও পাইনি। তারপরও কখনো কারো কাছে অভিযোগ করিনি। এমনো হয়েছে সকাল ৭টায় সেটে ঢুকেছি পরদিন বাসায় গিয়েছি। আর কত যে না খেয়ে শুটিং করেছি, তারও হিসেব নেই। সেটে এসেও খাবার পাইনি। একজন নায়ক-নায়িকাকে যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, পার্শ্ব অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কিন্তু সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। একজন রিকশাওয়ালা যখন ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন কিন্তু সে কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম নেয়। আমরা কিন্তু সেটাও বলতে পারিনি। এগুলোর প্রভাবই এখন শরীরে পড়েছে।‘

নতুনদের উদ্দেশ্যে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আজকে যারা কাজ করছেন। ছবি নির্মাণ থেকে শুরু করে অভিনয়শিল্পী সবার কথাই বলছি। তারা কি একবারও চিন্তা করে না, তারাও তো একসময় পুরোনো হবে। তখন আবার ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন শিল্পীরা আসবে। ওই সময় আবার পুরোনো শিল্পীদের কদর কমে যাবে। আমাদের মতো তারাও ইন্ডাস্ট্রিতে কাজহীন বা মূল্যহীন হয়ে যাবে! আমাদের মতো তাদেরও কষ্ট পেতে হবে! আর তারা যদি পুরোনো মানুষদের ধরে রাখে, তাহলে তারাও যখন পুরোনো হবে তখন তাদেরও সঠিক মূল্যায়ন হবে। এই নিয়ম তো নতুনদেরই চালু করতে হবে। আমাদের দেখে এই সময়ের শিল্পীদের শিক্ষা নেওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।’

advertisement