advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবলীগ নেতাকে গুলি, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৭:২৬ পিএম | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:১৫ পিএম
যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টার মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

রাজধানীর খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার মামলায় দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ। গতকাল শুক্রবার কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার আমড়াতলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবলীগ নেতা সাইফুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালায় আসামিরা।

আজ শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, গত ১৫ মে যুবলীগ নেতা সাইফুলকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গতকাল মো. মনিরুজ্জামান সুমন ও  মো. ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে রেমন্ড টেইলার্সের সামনে রাস্তায় সুমন ও তার সহযোগীরা সাইফুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশে গুলি চালিয়ে মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পরে গুলিবিদ্ধ সাইফুল নিজেই একটি সিএনজিতে উঠে ঢাকা মেডিকেলে গেলে যান। এরপর খবর পেয়ে তার স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজনরা হাসপাতালে যান। এই ঘটনায় গত ১৬ মে সাইফুলের স্ত্রী সবুজবাগ থানায় নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলা তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, ‘এই মামলার তদন্ত চলাকালীন গতকাল শুক্রবার কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার আমড়াতলী এলাকা হতে সুমন ও ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে রাজধানীর খিলগাঁও থানার ত্রিমোহনী এলাকা হতে দুটি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার কর হয়েছে।’

আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম, কচি, রিপন ও সুমন ছোটবেলার বন্ধু ছিলেন। তারা একসঙ্গেই রাজনীতি শুরু করেন। সাইফুল দলীয় পর্যায়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। রিপন ও সুমন দলীয় পর্যায়ে পদ-পদবী না পাওয়ায় তাদের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল সৃষ্টি হয়।

এরপর থেকে তারা পৃথক পৃথক গ্রুপ তৈরি করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। রিপন গ্রুপের সদস্য বাশারকে হত্যার ঘটনার মামলার এক নম্বর অভিযুক্ত ছিলেন সাইফুল।

সাইফুল এই মামলায় দীর্ঘদিন জেলে থাকার কারণে সুমন গ্রুপ এলাকায় একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতে থাকে। কিন্তু সাইফুল জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সুমন গ্রুপ ও রিপন গ্রুপ এলাকায় তাদের আধিপত্য বিস্তার কমে যাওয়ার ভয়ে উভয় গ্রুপ একত্রিত হয়ে সাইফুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

ঘটনার বর্ননা দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাফিজ আক্তার জানান, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনায় দিন রিপন, কচি, সুমন ও ইমনসহ ১২/১৩ জন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় রিপন সাইফুলকে দুই রাউন্ড গুলি করে এবং গ্রেপ্তারকৃত সুমন এক রাউন্ড গুলি করেন। এরপর সবাই পালিয়ে যান।

এই মামলায় এজাহারনামীয় মোট নয়জন অভিযুক্তের মধ্যে ইতোপূর্বে  মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ওরফে কচি,  রাসেল তালুকদার ওরফে চাপাতি রাসেল,  মো. উজ্জ্বল তালুকদার ও মো. আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে  আদালতে পাঠানো  হয়েছে। পলাতক রিপনসহ অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ঢাকা মহানগরের যেকোনো এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কোনো গুলির ঘটনা ঘটলে কাউকে ছাড় দেওযা হবে না। এরূপ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় অস্ত্র আইনে একটি পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

advertisement