advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

অস্ত্র মামলায় সেই গাড়িচালক মালেকের ৩০ বছর কারাদ-

আদালত প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০২:৫৫ এএম
advertisement

নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আব্দুল মালেক বাদলকে ৩০ বছরের কারাদ- দিয়েছেন আদালত। অস্ত্র আইনের মামলায় দুটি ধারায় তাকে ১৫ বছর করে দ- দেওয়া হয়। তবে দুটি দ-ই একসঙ্গে ভোগ করতে হবে বলে কারাগারে থাকতে হবে ১৫ বছর। গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর ৪ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর মালেককে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

রায় ঘোষণার পর মালেকের স্ত্রী, মা ও বোনরা আদালত অঙ্গনে আহাজারি করেন। আর আদালতে থেকে নামিয়ে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে মালেক বলেন, কোনো অস্ত্র তার কাছে পাওয়া যায়নি। মিথ্যা মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। আসামিপক্ষের অ্যাডভোকেট

শাহিনুর ইসলাম বলেন, তারা ন্যায়বিচার পাননি। তাই উচ্চ

আদালতে আপিল করবেন।

রায় প্রদানকারী আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সালাহউদ্দিন হাওলাদার জানান, অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় অবৈধ অস্ত্র রাখার জন্য সর্বনিম্ন ১০ বছর এবং সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদ- এবং ১৯(এফ) ধারায় অবৈধ গুলি রাখার জন্য সর্বনিম্ন ৭ বছর এবং সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদ-ের বিধান রয়েছে। আসামি মালেককে আদালত প্রত্যেক ধারায় ১৫ বছর করে কারাদ- দিয়েছেন।

মামলাটি ঢাকার এক নম্বর মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে ছিল। তিনি চার্জশিটভুক্ত ১৩ সাক্ষীর সবার সাক্ষ্য গ্রহণ করে গত ৬ সেপ্টেম্বর অবশিষ্ট অংশ বিচারের জন্য বর্তমান আদালতে পাঠান। অস্ত্র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব ১-এর এসআই মেহেদী হাসান চৌধুরী গত ১১ জানুয়ারি আদালতে মালেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন। ১১ মার্চ চার্জগঠনের পর ২৪ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

অবৈধ অস্ত্র, জাল নোটের কারবার ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে ড্রাইভার মালেককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ জাল টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানায় র‌্যাব। এর পর তার বিরুদ্ধে র‌্যাব অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা করে।

কয়েক দফা রিমান্ড শেষে ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর পর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন। রাজধানীর তুরাগে মালেকের রয়েছে ২৪টি ফ্ল্যাটবিশিষ্ট সাততলার দুটি বিলাসবহুল বাড়ি। একই এলাকায় রয়েছে ১২ কাঠার প্লট। এ ছাড়া হাতিরপুলে ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কর্মচারী হলেও মালেক ছিলেন প্রভাবশালী। তিনি অধিদপ্তরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ ও বদলি নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার কথামতো কর্মকর্তারা কাজ না করায় তাদের নানাভাবে হয়রানি বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মালেক নিজে ব্যবহার করতেন পাজেরো জিপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনেক গাড়িচালকের তেল চুরির টাকার বেশিরভাগই মালেকের পকেটে যেত বলে অভিযোগ রয়েছে।

advertisement
advertisement