advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

তালেবানে বিভক্তি কতটা গভীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:৫৩ পিএম
মোল্লা আবদুল গনি বারাদার। পুরোনো ছবি
advertisement

আফগানিস্তানে গত মাসে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর তালেবানের মধ্যে বড় ধরনের বিভক্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গনি বারাদার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে মারধরের শিকার হয়েছেন- এমন খবর নানা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ওই ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে আসছেন না। এ কারণে জল্পনা আবারও বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ নিয়ে আল জাজিরা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রেসিডেন্ট ভবনে মারধরের পর বারাদারের মৃত্যুর খবর পর্যন্ত এসেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময় তালেবানের পক্ষ থেকে এসব তথ্য অস্বীকার করা হয়। এমনকি যখন বারাদার পুনরায় ভিডিওবার্তা দিলেন, সেটিও পূর্ব ধারণকৃত। ওই বার্তায় বারাদার দাবি করেছেন, তালেবানের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে, তা একটি পরিবারের চেয়েও বেশি মজবুত। শেষ পর্যন্ত বারাদার মৃত বা আহত কিনা তা নাকচ করতে গত সোমবার তার সঙ্গে জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের বৈঠকের ছবি প্রকাশ করা হয়। তবে কূটনীতিক ও রাজনীতিক সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, তালেবানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিভক্তির বিষয়টি খুবই সত্যি। এমনকি এ বিভক্তি পরবর্তী সময় আফগান জনগণের জন্য দুর্ভোগ বয়ে নিয়ে আসবে।

একজন লেখক যিনি গত ২০ বছর তালেবান সংক্রান্ত খবর পরিবেশন করেছেন, তার মতে, এই বিভক্তি হলো তালেবানের মধ্যে রাজনীতি ও সামরিক অংশের মধ্যে বিরোধের ফল। উভয়পক্ষই দাবি করেছে- মার্কিনবিরোধী বিজয় তাদের জন্যই হয়েছে।

তালেবানের সঙ্গে কয়েক দশকের সম্পর্কিত একটি রাজনীতিক সূত্র জানিয়েছে, তালেবানের এ বিভক্তি ক্ষমতা থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত বিস্তৃত। তালেবানের যেসব সদস্য বিভিন্ন শহর দখল করেছে, সেই সময় তারা সাবেক কর্মকর্তাদের বাড়িঘর দখল করেছে বা তাদের হেনস্তা করেছে। কিন্তু তালেবানের মুখপাত্র এবং অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, আমরা আমাদের সব সদস্যকে নির্দেশ দিয়েছি- তারা কোনো বাড়িতে প্রবেশ করবে না। এমনকি কোনো সাবেক সেনা বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের বাড়িতেও দরজার কড়া নাড়বে না। ১৭ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদ এসব বিষয় বলেন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানের মধ্যে এখন কট্টরপন্থি ও উদারপন্থিদের মধ্যে মতবিরোধ প্রকট হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণার পূর্ব মুহূর্তে পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনীর (আইএসআই) প্রধান জেনারেল ফাইয়াজ আহমেদ কাবুল সফর করেন। সেখানে তিনি নতুন সরকারকে ‘অংশগ্রহণমূলক’ করার তাগিত দেন। সরকারে যেন শিয়া, নারী ও অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি থাকেন সেই পরামর্শ দেন। কিন্তু তালেবানের মধ্যে কট্টরপন্থি নেতৃবৃন্দ সেটি নাকচ করে দেন। যে কারণে এখনো তালেবান সরকারে কোনো নারী প্রতিনিধি দেখা যায়নি। এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কয়েকবারই আফগান সরকারকে ‘অংশগ্রহণমূলক’ করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি।

তালেবান অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে তারা জাতিসংঘের স্বীকৃতি চাইছে। কিন্তু শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিভক্তি থাকলে বিশ্ব সম্প্রদায় আরও মুখ ফিরিয়ে নেবে।

advertisement