advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

আইন প্রণয়ন ও রেগুলেটরি অথরিটি গঠন শিগগির

ই-কমার্স প্রতারণা # বিজ্ঞাপনে সতর্কীকরণ বার্তা দিতে বাণিজ্যের চিঠি তথ্যে ইউনিক আইডেনটিফিকেশন নম্বর না থাকলে ব্যবসা বন্ধ

আবু আলী
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:৩২ পিএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

ই-কমার্স গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণে চার মন্ত্রীর বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পরদিন বৃহস্পতিবার থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আগামী রবিবার থেকে ‘ডিজিটাল ই-কমার্স অ্যাক্ট’ প্রণয়ন ও রেগুলেটরি অথরিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির ব্যাপারে গ্রাহকদের সতর্ক করতে ‘বিজ্ঞাপনে সতর্কবার্তা’ ব্যবহার নিশ্চিত করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) কাছেও চিঠি পাঠিয়ে সদস্যদের সতর্ক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতারণার বিরুদ্ধে আগাম ব্যবস্থা নিতে শতভাগ কমপ্লায়েন্স ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইউনিক বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর (ইউবিআইএন) দেওয়ার কাজও শুরু করতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান মো. হাফিজুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, ই-কমার্স বাণিজ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও গ্রাহক প্রতারণা বন্ধে কাজ শুরু করেছে। প্রতারণা ও জালিয়াতি বন্ধে গ্রাহক সচেতনতার বিকল্প নেই। এ জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে

বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ই-কমার্স সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রচারে বাধ্যতামূলক সতর্কবার্তা প্রচারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আইন প্রণয়ন ও রেগুলেটরি অথরিটি গঠনের কার্যক্রম কবে নাগাদ শুরু হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহেই কাজ শুরু হবে।

সূত্র জানিয়েছে, এখন আইনের নানা দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ই-কমার্সের ব্যবসায় শুরুর করার আগে কোম্পানিগুলো থেকে জামানত রাখা যায় কি না সে বিষয়টিও ভাবছেন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আসছে, সেগুলো ভোক্তা অধিকার, প্রতিযোগিতা কমিশনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে যাতে সমাধান করা যায় সে উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। সব অভিযোগ মনিটরিংয়ের জন্য কোনো সেন্ট্রাল কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে।

ই-ক্যাবের জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ তমাল আমাদের সময়কে বলেন, ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের চিঠির আলোকে সংগঠনের সব সদস্য প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন থেকে প্রমোশন যে কোনো বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক বার্ত দেওয়ার বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। সংগঠনের তরফ থেকে গ্রাহকদের সকর্তবার্তা দিতে একটি ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। আশাকরি এর মাধ্যমে গ্রাহক সচেতনতা বাড়বে। এতে গ্রাহকের প্রতারণা কমে আসবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতারণা ঠেকাতে শতভাগ কমপ্লায়েন্স ই-কমার্স নিশ্চিত করতে সব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে ইউনিক বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর (ইউবিআইএন) দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হচ্ছে। আর যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইউবিআইএন নম্বর নেবে না, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) মাধ্যমে সেগুলো বন্ধ করে দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানিয়েছে, ই-কমার্স ব্যবসার নামে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকাসহ বেশকিছু কোম্পানি গ্রাহকদের প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। বিপুল পরিমাণ ডিসকাউন্টের লোভ দেখিয়ে অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্য কিংবা রিফান্ড কোনোটাই দিচ্ছে না তারা।

এ ধরনের অনিয়ম ও প্রতারণার রাস্তা বন্ধ করে সম্ভাবনাময় খাতটির প্রতি আস্থা ফেরাতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি মনিটরিং টিম তাদের কার্যক্রম আরও জোরদার করবে।

ফেসবুককেন্দ্রিক ছোট ছোট ই-কমার্স উদ্যোগ কিংবা বৃহৎ কোম্পানি সবাইকে ইউবিআইএন-এর জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। অনলাইনেই ইউবিআইএন নম্বর সরবরাহ করবে মন্ত্রণালয়। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এটুআই ও আইসিটি ডিভিশন একটি সফটওয়্যার ডেভেলপ করেছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে ১৯ হাজার ৩০৪টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৩২২টি অভিযোগ ছিল ইভ্যালিসহ ১৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ সময়ে ইভ্যালির বিরুদ্ধে ৭ হাজার ১৩৮টি এবং ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ২ হাজার ৬৪৩টি। এ ছাড়া ফেসবুক পেজভিত্তিক ই-কমার্সগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়েছে ৪ হাজার ৯৮২টি।

advertisement