advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বিশেষ আইনে নতুন সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন

লুৎফর রহমান কাকন
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:০৯ পিএম | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:০৯ পিএম
পুরোনো ছবি
advertisement

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের আওতায় দেশে আরেকটি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।  চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার এ কেন্দ্র স্থাপন করবে সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাব ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দরপত্র প্রক্রিয়ায় শুধু একটি কোম্পানি যোগ্য হওয়ায় এবং তাদের উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্যহার অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ায় বিশেষ আইনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি খাতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন নীতিমালার আওতায় নির্মাণ, মালিকানা এবং পরিচালনের (বিওও) ভিত্তিতে দেশের চারটি স্থানে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উৎপাদন শুরু হলে এগুলো থেকে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনে নেবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। চট্টগ্রামের বারৈয়ারহাট, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা, নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রতিটি ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ কেন্দ্রগুলো নির্মাণের জন্য পিডিবি ২০১৮ সালে প্রস্তাব দেয়। ওই বছরই এগুলোর স্পন্সর বা নির্মাতা খুঁজতে দরপত্র আহবান করা হয়।

এগুলোর মধ্যে চুয়াডাঙ্গার প্রকল্পটির জন্য জমা পড়া দরপত্রগুলো অযোগ্য বিবেচিত হয়। পরে ২০১৯ সালের জুনে আবার দরপত্র আহবান করা হলে দুইটি দরপত্র পায় পিডিবি। এগুলোর মধ্যে একটি হলো সিঙ্গাপুরের কোম্পানি সাইকেলেক্ট এনার্জি এবং অপরটি হলো বাংলাদেশি দুইটি কোম্পানি- জুলস পাওয়ার ও ডব্লিউএসি লজিস্টিকস এবং চীনা কোম্পানি জিয়াংসু ঝোংটিয়ান টেকনোলজির কনসোর্টিয়াম। মূল্যায়ন কমিটি দুই দরদাতাকেই অযোগ্য ঘোষণা করে। কিন্তু ২০২০ সালে সাইকেলেক্ট কিছু অভিযোগ এনে তাদের দরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করে। পিডিবি তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড সাবস্টেশনের নিকটবর্তী প্রকল্প স্থান পরিদর্শন করে ১৭৫ দশমিক ৮৮ একর জমিতে সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে বলে সুপারিশ প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগে জমা দেয়।

দরপত্রে সাইকেলেক্ট এনার্জি প্রতি কিলোয়াট বিদ্যুৎ ৯ টাকা ৬০ পয়সায় (দশমিক ১২ মার্কিন ডলার) বিক্রির জন্য পিডিবির কাছে প্রস্তাব করে। এটি চট্টগ্রাম এবং নেত্রকোনায় একই ধরণের প্রকল্পের দরদাতাদের দেওয়া মূল্যহারের চেয়ে বেশি। চট্টগ্রামের বারৈয়ারহাট প্রকল্পের জন্য বিবেচিত দরদাতা আইবি ভোগ্ট জিএমবিএইচ ও এজি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম ৮ টাকা ৭৫ পয়সা এবং নেত্রকোণার প্রকল্পটির জন্য বিবেচিত প্যারাগন পোল্ট্রি, সিআরইএস ও হংকংয়ের রাইজেন এনার্জি ৭ টাকা ৩৩ পয়সা প্রস্তাব করেছে।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, যোগ্য বিবেচিত একমাত্র দরদাতা হিসেবে সাইকেলেক্টের দরপ্রস্তাব গ্রহণ করা হলে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ৯ টাকা ৬০ পয়সায় কিনতে হবে। অথচ অন্য প্রকল্পে আরও কম দামে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এমন প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্পের দরপত্রটি বাতিল করার পর বিশেষ আইনে দর কষাকষি করে মূল্যহার কমিয়ে এনে সাইকেলেক্টের মাধ্যমেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চান বিদ্যুৎ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এর আগে জামালপুরে এবং কুমিল্লায় তেলভিত্তিক দুইটি কেন্দ্র নির্মাণের জন্য যোগ্য বিবেচিত একমাত্র দরদাতার প্রস্তাবও বাতিল করে বিশেষ আইনে দর কষাকষি করে মূল্যহার কমিয়ে চুক্তি করা হয়েছিল।

এমন প্রেক্ষাপটে গত ২ সেপ্টেম্বর বেসরকারি খাতে দরপত্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রাপ্ত দর বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০ (সংশোধন ২০১৮) এর আওতায় দরকষাকষির অনুমোদন প্রদানের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়।

ওই সারসংক্ষেপে বলা হয়, দরপত্র কার্যক্রম বাতিল করে দর কষাকষি মূল্যহার কমানোর জন্য নীতিগত সম্মতি প্রদান করা যেতে পারে। এরপর চূড়ান্ত দরপ্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রন্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এতে অনুমোদন দিয়েছেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পর এখন সিঙ্গাপুরের কোম্পানি সাইকেলেক্টের প্রতিনিধির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। শিগগিরই সকল প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে চূড়ান্ত দরপ্রস্তাব তৈরি করা হবে।’

বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কিনে বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করে পিডিবি। বিতরণ কোম্পানিগুলো তা গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করে। এই চক্রে বিদ্যুতের উৎপাদন ও পাইকারি দাম যত কম রাখা যায় খুচরা দামও তত কম নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সংসদে বিশেষ আইন আরও ৫ বছরের জন্য পাস করা হয়েছে। এই আইনে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর ভবিষ্যতে কোনো প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্টরা আইন-আদালতের এখতিয়ারের বাইরে থাকবেন। অর্থাৎ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। সবগুলো রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অনেকগুলো প্রকল্প এই আইনের অধীনে বাস্তবায়িত হয়েছে।

advertisement