advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

শতবর্ষী কালুরঘাট সেতু
দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল যাচাই করবে বুয়েট

মো. মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৪৪ পিএম
advertisement

কর্ণফুলী নদীর ওপর শতবর্ষী কালুরঘাট সেতু দিয়ে দ্রুতগতির ট্রেন ও যানবাহন চলাচলের উপযোগিতা যাচাই করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ অক্টোবর ওই বিভাগের তিন শিক্ষক সেতুটি পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে পুরনো সেতুর নকশাসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু সরবরাহ করেছে রেলওয়ে।

জানা গেছে, জরাজীর্ণ কালুরঘাট সেতুটি বয়সের ভার আর অসংখ্য যানবাহনের চাপে ক্রমশ নুয়ে পড়ছে।

দ্বিতীয় সেতু না হওয়া পর্যন্ত এই সেতু দিয়ে রেল ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে রেল কর্তৃপক্ষ। দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজ শেষে ২০২২ সালে যাত্রী পরিবহন শুরু হতে পারে। ওই এলাকায় নতুন আরেকটি সেতুন নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটি চালু হতে অন্তত ৭ বছর লাগবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, নতুন সেতু না হওয়া পর্যন্ত কালুরঘাট সেতুকে মেরামতের মাধ্যমে শক্তিশালী করে সেটির ওপর দিয়ে দ্রুতগতির ট্রেন চালানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সেটি সম্ভব হবে কিনা তা অধিকতর যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাই বুয়েটের মাধ্যমে উপযোগিতা যাচাই করতে চলতি বছরের জুন মাসে রেলের মহাপরিচালক বরাবর চিঠি দেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী সুবক্তগীন। এর পর ২১ জুন সেতুর পরামর্শক সেবার জন্য আর্থিক ও কারিগরি প্রস্তাবনা পাঠাতে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগে চিঠি দেন পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) মো. আহসান জাবির। গত ১ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে কারিগরি উপযুক্ততা যাচাই করতে বুয়েটকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়।

১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বার্মা ফ্রন্টের সৈন্য পরিচালনা করতে কর্ণফুলী নদীতে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ১৯৩০ সালে ব্রুনিক অ্যান্ড কোম্পানি ব্রিজ বিল্ডার্স এটি নির্মাণ করে। মূলত ট্রেন চলাচলের জন্য ৭০০ গজ লম্বা সেতুটিতে ১৯টি স্প্যান রয়েছে। ১৯৩০ সালের ৪ জুন এটি উদ্বোধন করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পুনরায় বার্মা ফ্রন্টের যুদ্ধে মোটরযান চলাচলের জন্য ডেক বসানো হয়। ১৯৫৮ সালে সব রকম যানবাহন চলাচলের যোগ্য করে সেতুটির বর্তমান রূপ দেওয়া হয়। বর্তমানে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পর্যন্ত রেললাইন রয়েছে। এই রুটে ট্রেন চলাচলের সময় সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার গতিতে ছোট লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) দিয়ে চালানো হয়। কক্সবাজারের ট্রেন চলাচল শুরু হলে অতিরিক্ত এক্সেল লোড বিশিষ্ট বড় লোকোমোটিভ লাগাতে হবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সুবক্তগীন আমাদের সময়কে বলেন, কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। দ্রুতগতির ট্রেন চালানোর জন্য কালুরঘাট সেতুর পাশে আরেকটি নতুন সেতু নির্মাণ হবে। কিন্তু সেটি চলাচলের উপযোগী হতে অন্তত ৫ বছর লাগবে। তাই পুরনো সেতুকে মেরামতের মাধ্যমে শক্তিশালী করে দ্রুতগতির ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য আমরা বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে। ৭ অক্টোবর বুয়েটের তিনজন শিক্ষক পরিদর্শনে আসবেন।

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) আহসান জাবির বলেন, পরামর্শক কমিটি পুরনো সেতুর নকশা পাঠানো হয়েছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী সব কিছু সরবরাহ করেছি। তিনি বলেন, পরামর্শক কমিটি সেতুটির নিরাপত্তা, কত ওজন নিতে পারবে, কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে এবং অতিরিক্ত কোনো কিছু সংযোজন করতে হবে কিনা সে বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। এর পর আমরা কাজ শুরু করব।

advertisement