advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কারামুক্ত হলেন সেই ঝুমন দাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:১৯ পিএম | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:৩৬ পিএম
দীর্ঘ ৬ মাস কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পরিবার ও স্বজনরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় ঝুমন দাশকে। সংগৃহীত ছবি
advertisement

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুক্তি পেলেন ঝুমন দাশ (২৫)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে তিনি সুনামগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পান। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে তাকে জামিন দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেন।

মুক্তির পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ঝুমন দাশ প্রথমেই প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান এবং বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেন। তার পাশে দাঁড়ানোয় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আর কারা ফটকে ঝুমন দাশের মা নিভারানী দাশ বলেন, ‘৬ মাস ধরে ছেলের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। আজ সেই আশা পূরণ হলো। খুব কষ্টে দিন গেছে, বলে বোঝাতে পারব না। ঝুমন মুক্তি পাওয়ায় আমি খুশি। তবে নিঃশর্ত মুক্তি পেলে আরও বেশি খুশি হতাম।’

মুক্তির পর মায়ের গালে চুমু দেওয়ার মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ দিনের বিচ্ছেদের অবসান ঘটান ঝুমন দাশ। সংগৃহীত ছবি

 

সুনামগঞ্জে ঝুমন দাশের আইনজীবী দেবাংশু শেখর দাশ বলেন, ‘ঝুমন দাশের কারামুক্তিতে তার পরিবারের সঙ্গে আমরাও খুশি। তবে আরও আগেই তার জামিন হওয়া উচিত ছিল। এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঝুমন ন্যায়বিচার পাবেন।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ঝুমন দাশ গত ১৭ মার্চ থেকে সুনামগঞ্জ কারাগারে ছিলেন। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে।

হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হক গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা শহরে এক সমাবেশে বক্তব্য দেন। মামুনুল হকের ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে পরদিন ১৬ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলে ১৭ মার্চ সকালে নোয়াগাঁওয়ে আশপাশের তিনটি গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে মানুষের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

এ ঘটনায় ঝুমন দাশকে ১৬ মার্চ রাতেই আটক করে পুলিশ। পরদিন তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ২২ মার্চ শাল্লা থানায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করে পুলিশ।

পরে তার মুক্তির দাবিতে সুনামগঞ্জ, সিলেট, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হয়। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ তার মুক্তির দাবি জানান। সুনামগঞ্জে ঝুমন দাশ একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও তার জামিন হয়নি। পরে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়।

ঝুমন দাসের মুক্তির দাবিতে এক বছর বয়সী শিশুকে কোলে নিয়ে স্ত্রী সুইটি রানী দাশ। সংগৃহীত ছবি

 

এ দিকে নোয়াগাঁও গ্রামে মানুষের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় থানা ও আদালতে আরও তিনটি মামলা হয়েছিল। এসব মামলায় আসামি প্রায় দুই হাজার। এর মধ্যে ঝুমন দাশের মা নিভারানী দাশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এসব মামলায় এ পর্যন্ত ১১৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বর্তমানে সবাই জামিনে আছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঝুমন দাশ একসময় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পণ্য বিক্রেতার কাজ করতেন। পরে নিজেই প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। তার স্ত্রী সুইটি রানী দাশ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে পড়েন। তাদের এক বছর বয়সী এক ছেলে আছে। এ ছাড়া পরিবারে তার মা, এক ভাই ও দুই বোন আছেন। ঝুমনের আয়েই সংসার চলে।

advertisement