advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দিল্লির দাঙ্গা পূর্ব-পরিকল্পিত : হাই কোর্ট

অনলাইন ডেস্ক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৪৯ পিএম | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:৩১ এএম
সংগৃহীত ছবি
advertisement

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া দাঙ্গা কোনো আকস্মিক ঘটনার ফল নয় বরং পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই তা ঘটানো হয়েছে বলে মনে করেন আদালত। গত সোমবার দাঙ্গায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তির জামিন আবেদন বাতিলের সময় দিল্লি হাই কোর্ট এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

৫০ জনেরও বেশি নিহত ও দুই শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার দাঙ্গা প্রসঙ্গে আদালত বলেছেন, ‘২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির দাঙ্গা একটি ষড়যন্ত্র, পরিকল্পিত এবং ঘটানো। আকস্মিক কোনো ঘটনা থেকে এটা হয়নি।’

হাই কোর্টের বিচারপতি দাঙ্গায় দিল্লি পুলিশের একজন হেড কনস্টেবলের মৃত্যুর মামলার বিষয়ে আদেশ দেওয়ার সময় বিচারপতি সুব্রাহ্মনিয়াম প্রসাদ তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি কনস্টেবলের মৃত্যুর মামলায় অভিযুক্ত একজনের জামিন মঞ্জুর করেন এবং অন্যজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতে বহুল বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধী এবং সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এই সংঘাত চরম আকার ধারণ করে উত্তরপূর্ব দিল্লিতে। প্রথম দিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে ধর্মীয় মানদণ্ডের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

এই আইনের বিরোধিতায় ভারতজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রতিবাদ শুরু হলেও তা সহিংস হয়ে ওঠে দিল্লিতে। দিল্লিতে সহিংসতায় কমপক্ষে ৫৩ জনের প্রাণহানি ঘটে; যাদের বেশিরভাগই মুসলিম। এ ছাড়া এতে আহত হয় আরও শত শত মানুষ।

দিল্লি হাই কোর্ট বলেছেন, ‌সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজে বিক্ষোভকারীদের আচরণে কার্যত সরকারের কাজকর্ম বিঘ্নিত করার পাশাপাশি শহরের মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে।

দাঙ্গাবাজরা শহরের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ধ্বংস করেছে উল্লেখ করে বিচারপতি সুব্রাহ্মনিয়াম প্রসাদ বলেছেন, এই কাজের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত যে, শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য দাঙ্গা ছিল পূর্ব-পরিকল্পিত। তিনি বলেন, এটিও পরিষ্কার, অসংখ্য দাঙ্গাবাজ লাঠি, ব্যাট ও অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে মাঠে নেমেছিল।

বিশেষ এই মামলায় দিল্লি পুলিশ এফআইআরে বলেছে, একদল সহিংস জনতা গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি লাঠি, বেইসবল ব্যাট, লোহার রড এবং পাথর নিয়ে উত্তরপূর্ব দিল্লির ওয়াজিরাবাদ এলাকার প্রধান সড়কে জমায়েত হয়েছিল। এফআইআরে বলা হয়, জনতা সহিংস হয়ে ওঠায় পুলিশ বলপ্রয়োগ করে এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের সরিয়ে দেয়।

সংঘর্ষে দিল্লি পুলিশের হেড কনস্টেবল রতন লাল, শাহদারা জেলা পুলিশের উপ-কমিশনার এবং গোকুলপুরী পুলিশ স্টেশনের সহকারী কমিশনার আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকৎসকরা রতন লালকে মৃত ঘোষণা করেন।

দিল্লি হাই কোর্টের ওই বিচারপতি বলেন, অভিযুক্তদের একজন মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে তরবারি বহন করতে দেখা গেছে। তবে অন্য আসামি মোহাম্মদ সেলিম খানকে জামিন দেওয়া হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিল্লির হাই কোর্ট কনস্টেবল রতন লাল হত্যা মামলায় দুজনকে অব্যাহতি এবং অন্য দুজনের জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।

advertisement