advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বালুর লোভে হুমকিতে পদ্মার এপার-ওপার
জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না

১১ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২১ ১১:২৪ পিএম
advertisement

শিল্পায়ন ও নতুন অবকাঠামো নির্মাণে বালু ও পাথর অপরিহার্য। কিন্তু প্রতিনিয়ত পরিকল্পনাহীন বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। ফলে অনেক বড় বড় স্থাপনা ও সড়ক-মহাসড়ক হুমকির মুখে পড়ছে। গতকাল আমাদের সময়ের ‘বালুর লোভে হুমকিতে পদ্মার এপার-ওপার’ শিরোনামের প্রতিবেদনে জানা যায়-অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকি তৈরি হয়েছে নদীর দুপারে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু, ঈশ্বরদী ইপিজেডসহ অনেক স্থাপনার স্থায়িত্ব নিয়েও। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় ভাঙন গিয়ে ঠেকতে পারে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানায়ও। নিজের স্বার্থ উদ্ধারের এসব ধ্বংসের পেছনে রয়েছে মূলত স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে গত বছরের ৭ অক্টোবর ইউপি চেয়ারম্যান ও দুই আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৭ জনের কাছে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে নোটিশ দেয় কুষ্টিয়ার রাজস্ব বিভাগ। কিন্তু প্রায় এক বছরেও সেই ক্ষতিপূরণের টাকা পায়নি জেলা প্রশাসন। গত ২৩ ডিসেম্বর একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সেতুর আশপাশে বালু উত্তোলন বা বালুমহাল করা যাবে না। এতে সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও এখন উপেক্ষিত করা হচ্ছে।

এতে মনে হচ্ছে অনেকটা মগের মুল্লুকের মতো। যার যা খুশি করছেন, কিন্তু কারও যেন কিছু বলার নেই। স্থানীয় প্রশাসন তা হলে কী করছে? অভিযোগ রয়েছে, সব কিছুই প্রকাশ্যে ঘটলেও স্থানীয় প্রশাসন কার্যত কোনো উদ্যোগ নেয় না। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রভাবশালী বলে কি তাদের যা খুশি তা করার অধিকার জন্মে গেছে? আইনের শাসন কি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়? ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’-এ আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। আর আইনভঙ্গকারী যদি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হন, তা হলে তো আইন প্রয়োগের কোনো প্রশ্নই নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বালু উত্তোলনের নির্ধারিত স্থান করে দেওয়া ছাড়া সমাধান নেই। তবে তা অবশ্যই পরিবেশগত সমীক্ষা করেই নির্ধারণ করতে হবে। এসব নির্ধারিত স্থানে বালু উত্তোলনের চুক্তি করতে হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এর ফলে বালু ও পাথর উত্তোলনের পরিমাণ যেমন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, তেমনি রাজস্বও আদায় করা সম্ভব হবে। অবৈধ বালু উত্তোলনের মাধ্যমে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ব্যাপকভাবে লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদী ও নদীর তীরবর্তী জনগণ। নদীর ভাঙন রোধে সরকারকে ব্যয় করতে হচ্ছে বিপুল অঙ্কের অর্থ। এ অবস্থায় অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সরকারের কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রভাবশালী বলে কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত হবে না।

advertisement