advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ
প্রশংসনীয় কাজ, তবে দায়ও বড়

১২ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২১ ১১:৫৭ পিএম
advertisement

বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তির যুগের প্রবেশপথে পৌঁছেছে। গত রবিবার রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের প্রথম চুল্লিটি স্থাপিত হয়েছে, স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান সরকারের আমলে বাস্তবায়নাধীন অনেকগুলোর মধ্যে এটি বাজেটের বিচারে সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প। মোট ব্যয় হবে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা, যার ৯০ শতাংশ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া। তারাই এটি নির্মাণ করছে এবং এটি পরিচালনায় স্থানীয় জনবলও তৈরি করে দিচ্ছে। এ পর্যন্ত এই প্রকল্পের ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের দ্বিতীয় চুল্লিটিও এসে পৌঁছেছে। কাজ চূড়ান্তভাবে শেষ হলে এর এক একটি চুল্লি থেকে ১২০০ করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশে আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণাও দিয়েছেন, বলেছেন সেটি হবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে। বাংলাদেশ এখন চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। তবে এর অনেকগুলো কেন্দ্রই স্বল্পমেয়াদি কুইক রেন্টাল ধরনের। ফলে স্থায়ীভাবে ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা হিসাবে রেখেই আমাদের এগোতে হবে। তবে বাড়তি উৎপাদনের সুফল পেতে হলে এখনই পাওয়ার স্টেশন ও সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক সংস্কার ও উন্নতি ঘটাতে হবে। তা না হলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে না, বিভিন্ন খাতের উৎপাদনও ব্যাহত হবে।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৬১ সালে আইয়ুব খানের আমলে প্রথম এই প্রকল্পের প্রস্তাব পাস ও এলাকা নির্ধারণ হয়। কিন্তু তার পর আর প্রকল্প নিয়ে কাজ হয়নি। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু রাশিয়া সফরের সময় সেদেশের প্রেসিডেন্টের কাছে প্রসঙ্গটি নতুনভাবে তোলেন। কিন্তু ১৯৭৫-এর নির্মম হত্যাযজ্ঞ ঘটে গেলে এ প্রকল্পও ধামাচাপা পড়ে যায়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের লক্ষ্যে সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে মনোযোগ দেন। এতে দুটি খাত বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে- যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ। যোগাযোগের ক্ষেত্রে কেবল সড়ক নয়, সেতু নির্মাণ ও বন্দর সুবিধা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। দ্রুত শিল্পায়ন ও বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক কর্মকা- বাড়ানোর জন্য এই সুযোগগুলো নির্মাণ রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। সে কাজ অত্যন্ত দূরদর্শিতা, সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গেই এগিয়ে নিয়েছেন শেখ হাসিনা। তার হাতে বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক পুরনো মডেলের গ্রামীণ অর্থনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে নানামুখী বিকাশে এগিয়ে চলেছে।

অবকাঠামো, জ্বালানি, চলাচল এবং বন্দর সুবিধা অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি। দৃঢ়ভিত্তির বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। তবে পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে হলেও এতসব প্রকল্প তো আর বাংলাদেশের পক্ষে নিজের টাকায় করা সম্ভব নয়। বেশিরভাগ প্রকল্পই অন্য দেশের ঋণে হচ্ছে। তারা সচরাচর কারিগরি সহায়তা দিয়ে, বৃহৎ-ক্ষুদ্র সব যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে এ টাকা অনেকাংশে ফিরিয়ে নিচ্ছে। তবে বাংলাদেশকে একসময় ঋণের সবটুকু সুদসহ ফেরত দিতে হবে। তখন বাংলাদেশের বাজেটের একটি বড় খাত হবে ঋণ পরিশোধ। আশা করি আমাদের অর্থনীতি যথাসময়ে সেই সামর্থ্য অর্জন করবে। তবে সেই আশা সফল করে তুলতে হলে এখন থেকেই সরকারকে পরিকল্পনা করতে হবে। এটা মস্ত বড় চাপ, তা মেটাতে যেমন করের বোঝা বাড়াতে হবে, তেমনি তা বহন করার মতো মানুষের সংখ্যাও সেই হারে বাড়াতে হবে। মস্ত চ্যালেঞ্জ সন্দেহ নেই, তবে আমরা আশাবাদী।

advertisement