advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

গৃহবধূকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে ‘হত্যা’, স্বামী পলাতক

যশোর প্রতিনিধি
১৩ অক্টোবর ২০২১ ০৯:২৭ পিএম | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২১ ০৯:৪১ পিএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

যশোরে শিরিনা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূকে শরীরে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে যশোর সদরের আরবপুর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতের স্বামী জুয়েলকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ বলছে, গৃহবধূ মৃত্যুর ঘটনায় দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে, এটি স্পর্শকাতর ঘটনা, সে কারণে পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।

পুলিশ ও স্বজনেরা জানায়, যশোর সদর উপজেলার আরবপুর মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা জুয়েল সরদার প্রথম স্ত্রী পলি খাতুনের মৃত্যুর পর আড়াই বছর আগে পলির ফুফাতো বোন শিরিনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে সাংসারিক বিষয়াদি নিয়ে প্রায় গোলযোগ হতো।

শিরিনের বাবা ও ভাইদের অভিযোগ, পারিবারিক গোলযোগের জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিজ ঘরে শিরিনকে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে দেন তার স্বামী জুয়েল সরদার। এরপর তার চিৎকারে পাশের লোকজন ছুটে এলে জুয়েল প্রতিবেশীদের নিয়ে স্ত্রীকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে দুপুরেই তাকে খুলনায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখান থেকে আজ বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয় এবং এখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শিরিনের বাবা খলিলুর রহমানের দাবি, ‘মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং গা ঢাকা দিয়েছে জুয়েল। আমরা এ হত্যার বিচার চাই ‘

অবশ্য হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বামীর পরিবারের লোকজন। জুয়েলের মা আমেনা বেগম বলেন, ‘শিরিন নিজেই ঘরে থাকা মোটরসাইকেলের পেট্রোল নিজ গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আমরা খবর পেয়ে ছুটে আসি। এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

জুয়েলের ছেলে সিয়াম সরদার বলেন, ‘দুপুরে আব্বু আম্মু ঝগড়া করে। এরপর আম্মু ঘরে থাকা মোটরসাইকেলের পেট্রোল নিজ গায়ে দিয়ে গ্যাসলাইট দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।’

প্রতিবেশিরা জানিয়েছে, আগুন লাগার পর চিৎকার শুনে আমরা ঘর থেকে বের হই। শিরিন বলেছে, ‘ভাবি আমি কি ভুল করলাম। আমার ঘাড়ে শয়তান লেগেছিল। আমার ছেলের কী হবে।’

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ তাসমীম আলম জানান, পুলিশ মরাদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। দুটি পরিবারই পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জুয়েল পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

advertisement