advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ইভ্যালির জন্য বোর্ড
হাইকোর্টের আদেশ পিছিয়ে ১৮ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২১ ০২:২৫ এএম
advertisement

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি লিমিটেড ব্যবস্থাপনায় বোর্ড গঠনের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ পিছিয়েছে। আদালত আগামী ১৮ অক্টোবর আদেশের দিন রেখেছেন। তবে গতকাল হাইকোর্টের কাছে সাবেক তিন সচিবের নাম প্রস্তাব করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই তিন সচিব হলেন- ভূমি মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. রেজাউল আহসান এবং ভূমি সংস্কার বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত সচিব ইয়াকুব আলী পাটোয়ারী। সাবেক এই তিন সচিবের নাম দেখে হাইকোর্ট বর্তমান সচিবদের নামও দিতে বলেছেন। গতকাল বুধবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চ এ কথা জানিয়েছেন।

ইভ্যালির দুজন সদস্যই (চেয়ারম্যান ও সিইও) কারাগারে থাকায় ওই মামলার শুনানিতে গত মঙ্গলবার একই বেঞ্চ ইভ্যালির বিষয়ে চার সদস্যের বোর্ড গঠন করে

দেওয়ার কথা বলেন। আদালত বলেন, কোম্পানির দুজন সদস্য, দুজনই কারাগারে। কীভাবে বোর্ড মিটিং হবে? বোর্ড মিটিং করতে গেলেও তা করা যাচ্ছে না। বোর্ড মিটিং না করতে পারলে টাকা কোথায় কী আছে, সে বিষয়েও জানা যাচ্ছে না। সাবেক বিচারপতি, সচিব ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ চারজন রাখা যেতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইনজীবীকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে কথা বলে বর্তমান বা সাবেক সচিব, অতিরিক্ত সচিব- এমন তিনজনের নাম দিতে বলেন। এর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে একজনের নাম চূড়ান্ত করা হবে জানিয়ে আদালত বুধবার আদেশের জন্য দিন রাখেন।

গতকাল আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী তাপস কান্তি বল বলেন, কথা বলে অবসরপ্রাপ্ত তিনজন সচিবের নাম দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেন, কর্মরত সচিবদের নামও দেন, শুধু অবসরপ্রাপ্ত কেন? আইনজীবী তাপস বলেন, অনুমতি পেলে হলফনামা করে দাখিল করা যাবে। আদালত অনুমতি দেন। একপর্যায়ে আদালত বলেন, নামগুলো পেতে হবে, যাচাই-বাছাই করতে হবে। মন্ত্রণালয় ভালো লোকের নাম দেবে আশা করি। যাচাই-বাছাই করে চেষ্টা করব, তুলনামূলক ভালো ও সততা নিয়ে প্রশ্ন আসবে না- এ রকম লোককে দিতে। পরবর্তী তারিখে (১৮ অক্টোবর) আদেশের জন্য রাখা হলো।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পণ্য সরবরাহ করছে না- এমন অভিযোগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক গুলশান থানায় মামলা করার পরদিন ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান রাসেলের স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে দুজনই কারাগারে। এরই মধ্যে ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টের কোম্পানি আদালতে আবেদন করেন ইভ্যালির গ্রাহক ফরহাদ হোসেন। এতে ইভ্যালি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠনেরও আবেদন জানান। এ আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে গত ২২ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন আদালত। এ জন্য একটি নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় ৩০ সেপ্টেম্বর বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আদালত ইভ্যালির সব নথিপত্র ১১ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে রেজিস্ট্রার ফর জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মকে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী ইভ্যালির সব নথি হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে। জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রার এই নথি গত রবিবার হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেন। বিশাল আকারের এই নথি আদালতে জমা পড়েছে। তবে বিশাল আকৃতির এই নথি এখনো খতিয়ে দেখা হয়নি বলে জানিয়েছেন আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসাইন।

advertisement