advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

জাল টিআইএন দিয়ে রেজিস্ট্রেশন বন্ধে কঠোর এনবিআর

লক্ষ্য রাজস্ব ফাঁকি ও জালিয়াতি বন্ধ

আবু আলী
১৪ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২১ ০৯:০০ এএম
advertisement

জাল টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে কর ফাঁকির মতো অনিয়ম বন্ধ করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০১৪ সালে জমি রেজিস্ট্রেশনে টিআইএন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে সরকার। আইনি এ বাধ্যবাধকতার কারণে অনেকে জমি ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় জাল টিআইএন ব্যবহার করছে। সাবরেজিস্ট্রার অফিস ও বিআরটিএর কাছে জমা দেওয়া টিআইএনের সঠিকতা যাচাই না করায় অসাধু উপায় অবলম্বনকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। এতে করদাতাদের সম্পদের হিসাব পাওয়া যায় না। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর জমি ও গাড়ি রেজিস্ট্রেশনকালে টিআইএন যাচাইয়ে নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক এবং বিআরটিএর কাছে চিঠি দিয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিবন্ধন অধিদপ্তরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী সিটি করপোরেশন ও জেলা সদরের পৌরসভার অন্তর্গত দলিল মূল্য এক লাখ টাকার ঊর্ধ্বে জমি, বাড়ি এবং অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল রেজিস্ট্রিকালে ই-টিআইএন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইনগত বিষয়টি সাবরেজিস্ট্রার কর্তৃক যথাযথভাবে পরিপালন করা হয়। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় ই-টিআইএন দাখিলের ক্ষেত্রে জমির ক্রেতা ও বিক্রেতা ভুয়া ই-টিআইএন দাখিল করে থাকেন। ফলে ভুয়া ই-টিআইএন দাখিলের কারণে করদাতা চিহ্নিত এবং রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। জমি রেজিস্ট্রেশনকালে দাখিল করা ই-টিআইএনের সঠিকতা আবশ্যিকভাবে যাচাই করা হলে জাতীয় রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি সাধিত হবে।

চিঠিতে বলা হয়, কর বিভাগ থেকে ইস্যু করা প্রতিটি টিআইএন সনদে কম্পিউটার জেনারেটেড কিউআর কোড থাকে। স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করলে টিআইএনধারীর যাবতীয় তথ্য বেরিয়ে আসবে।

অন্যদিকে গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের সময় দেওয়া ই-টিআইএন তথ্য যাচাই করতে বিআরটিএর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে এনবিআর। এ ছাড়া আয়কর রিটার্নে মালিকরা গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের তথ্য প্রকাশ এবং গাড়ির মূল্যের সঙ্গে প্রদর্শিত আয় সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে কিনা সেটিও যাচাই করা হবে।

কর বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, জাল টিআইএনের ব্যবহার রোধে এনবিআর ইতোমধ্যে সরকারি অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য-আদান প্রদান করতে সমঝোতা চুক্তি সই করছে। জমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এখনো ম্যানুয়ালি সম্পন্ন হয়, তাই নিবন্ধন অধিদপ্তরকে চিঠির মাধ্যমে টিআইএন যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আয়কর অধ্যাদেশে জাল টিআইএন ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীর ওপর আর্থিক জরিমানাসহ কারাদ-ের বিধান রয়েছে। ১২৪এ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের টিআইএন অথবা জাল টিআইএন ব্যবহার করেন বা আয়কর আইন অনুযায়ী যেসব ক্ষেত্রে টিআইএন ব্যবহার বাধ্যতামূলক, সেসব ক্ষেত্রে জাল টিআইএন ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে। অন্যদিকে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সেবা দেওয়ার সময় টিআইএন ভেরিফিকেশন না করলেও ওই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশের ১২৪এএ ধারা অনুযায়ী সেবা প্রদানকালে টিআইএন সনদ যাচাই না করলে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে আয়কর বিভাগ। ১৬৫এ ধারা অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে যদি কোনো ব্যক্তি জাল টিআইএন ব্যবহার করেন বা অন্যের টিআইএন ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদ- বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত করার বিধান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মার্চে জাল টিআইএন ব্যবহার করে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া বন্ধ করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়ে করপোরেশনের তথ্য ভা-ারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করে এনবিআর। শুধু তা-ই নয়, রিটার্ন জমার সংখ্যা বাড়াতে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের সময় টিআইএনের পরিবর্তে রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বাধ্যতামূলক করতে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করে। এ ছাড়া গত ২০ সেপ্টেম্বর জাল টিআইএনে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বন্ধে বিআরটিএর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই করেছে এনবিআর। এ চুক্তির ফলে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া আগের বিআরটিএ এনবিআরের ই-টিআইএন সার্ভার থেকে টিআইএনের সঠিকতা যাচাই করবে। পক্ষান্তরে এনবিআর গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) নম্বর দিয়ে বিআরটিএর সিস্টেমে সার্চ দিলে বিস্তারিত তথ্য পাবে।

এনবিআরের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশের টিআইএনধারী রয়েছে ৬১ লাখের বেশি। অথচ ২০২১-২২ করবর্ষে রিটার্ন জমা দিয়েছে ২৪ লাখ করদাতা। অর্থাৎ টিআইএনধারীর ৬১ শতাংশ রিটার্ন জমা দেয়নি। অথচ মোটা দাগে করযোগ্য আয় রয়েছে- এমন সব টিআইএনধারীর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ৩৮ ধরনের কাজের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ১২ ডিজিটের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিতে হবে।

advertisement