advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বিশ^ সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস আজ
পর্যায়ক্রমে সব দৃষ্টিহীন পাবে স্মার্ট ক্যান

দৃষ্টিহীন মানুষ ৩ লাখ ২৭ হাজার

ইউসুফ আরেফিন
১৫ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২১ ০৯:৩০ এএম
advertisement

 

বিশ^ সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস আজ। ‘ডিজিটাল সাদাছড়ি, নিরাপদে পথ চলি’ প্রতিপাদ্যে দিবসটি বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মিরপুরে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে পদযাত্রা, আলোচনাসভা এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্মাননা, অনুদান ও স্মার্ট হোয়াইট ক্যান বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া ৬৪ জেলায় আলোচনাসভা ও স্মার্ট হোয়াইট ক্যান বিতরণের কথা।

এদিকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারের নানা উদ্যোগ থাকলেও অসহায় ও দুস্থ সব দৃষ্টিহীনকে এখনো ‘স্মার্ট হোয়াইট ক্যান’ সুবিধার আওতায় আনতে পারেনি সরকার। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ‘চলন সহায়ক’ এ উপকরণটি বিতরণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৬০০টি ক্যান বিতরণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছর আরও ২ হাজার ৯২৪টি বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহফুজা আখতার। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল অসহায় ও দুস্থ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে স্মার্ট হোঢাইট ক্যান দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৩ লাখ ২৭ হাজার ১৮৪ জন। অসহায় ও দুস্থ দৃষ্টিহীনদের

মাঝে বিতরণের জন্য সরকারের এটুআই প্রোগ্রামের মাধ্যমে টেকসই ও উন্নতমানের প্রচলিত স্মার্ট হোয়াইট ক্যান তৈরি করার বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আনিছুজ্জামান আমাদের সময়কে বলেন, দেশে ডিজিটাল স্মার্ট ক্যান উৎপাদনের বিষয়ে আমরা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করেছি। বর্তমানে বিদেশ থেকে স্মার্ট ক্যান আনা হচ্ছে। আশা করছি, আগামী বছর থেকে দেশেই উৎপাদিত হবে স্মার্ট ক্যান। দেশে উৎপাদন হলে সহজেই দুস্থ ও অসহায় সব দৃষ্টিহীনের হাতে পৌঁছবে স্মার্ট ক্যান।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহফুজা আখতার আমাদের সময়কে বলেন, দৃষ্টিহীনসহ সব ধরনের প্রতিবন্ধীর জন্যই সরকারের নানা উদ্যোগ রয়েছে। তাদেরকে স্মার্ট হোয়াইট ক্যান দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীই এ ক্যান পাবে।

তিনি বলেন, দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের সমন্বিতভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেছে সরকার। বিনামূল্যে ব্রেইল বই ও অন্যান্য সহায়ক শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়াসহ হোস্টেল সুবিধা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম চালু রয়েছে।

মাহফুজা আরও বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেন লেখাপড়া শিখে সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রে অবদান রাখতে পারে সেজন্য তাদেরকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য যা যা দরকার সবই করা হচ্ছে। এক কথায় তাদেরকে জনসম্পদে রূপান্তরে সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। ২০১৯ সালে ৫ বছর মেয়াদি ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে সমাজকল্যাণ সচিব বলেন, এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিও যেন অবহেলা-অযতেœ না থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আনিছুজ্জামান বলেন, বর্তমানে স্মার্ট হোয়াইট ক্যান বিতরণ করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে আরও উন্নত সংস্করণের ডিজিটাল স্মার্ট ক্যান দেওয়া হবে। এই ক্যান দৃষ্টিহীনকে তার সামনে থাকা নানা (ব্যারিয়ার) বাধা সম্পর্কে অবগত করবে। ফলে তিনি বিপদ আপদ বা দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, সাভারে প্রতিবন্ধীদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে অন্যান্য প্রতিবন্ধীর মতো দৃষ্টিহীনরাও খেলাধুলা চর্চার বিশেষ সুযোগ পাবেন।

 

 

 

 

advertisement