advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বিস্ময়কর গতিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

ড. আতিউর রহমান
১৫ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২১ ১০:৫৩ পিএম
advertisement

গত কদিন ধরে দেশি এবং বিদেশি উভয় সূত্র থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতির বিস্ময়কর গতিতে এগিয়ে চলার খবর পাচ্ছি। করোনাকালে পুরো বিশে^র অর্থনীতিই স্থবির হয়ে পড়েছিল। এমন দুঃসময়েও বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে ভালো করেছে। প্রধানমন্ত্রী ২০২০ সালের এপ্রিলের শুরুর দিকেই এক লাখ ত্রিশ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল কোনোমতেই অর্থনীতি যেন মন্দার কবলে না পড়ে, মানুষ যেন খেয়ে-পরে বাঁচে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংককে উৎসাহিত করেন পুরো অর্থনীতিকে তারল্য সংকট থেকে মুক্ত রাখতে। সরকারের রাজস্বনীতির সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়নমুখী কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে অর্থনীতি সমর্থন করার সংকুলানধর্মী যে ধারা এক যুগ আগে থেকে চালু করেছিল তাকে সঙ্গে নিয়ে আরও সচল করেছিল এ সময়। ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মাত্র দুই শতাংশ হারে গার্মেন্টকর্মীদের কয়েক মাসের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের সুদ-ভুর্তকিসহ সস্তায় চলতি মূলধন সমর্থন দিয়ে পোশাকশিল্পকে সর্বক্ষণ সচল রাখতে সচেষ্ট ছিল। পশ্চিমের দেশগুলোতে লকডাউনের কারণে রপ্তানি আদেশ কমে এলেও বাংলাদেশের কারখানাগুলো এই আশায় সচল ছিল যে, একদিন এই সংকট কেটে যাবে।

আশার কথা যে, খুব দ্রুতই সেই দিন ফিরে এসেছে। ইউরোপ ও আমেরিকায় বেশিরভাগ মানুষ করোনার টিকা নিয়েছেন। তাই তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য খুলতে শুরু করেছে। বিশ^ মোড়লরা আমাদের মতো দেশগুলোকে পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ না করায় আমরা বেশ খানিকটা চাপের মধ্যেই ছিলাম। কিন্তু আমাদের সাহসী প্রধানমন্ত্রী একদিকে যেমন টিকাকে বিশ^ গণপণ্যে রূপান্তরের দাবি করে চলেছেন, অন্যদিকে নানা সূত্র থেকে (যত টাকা লাগুক) আমাদের জন্য টিকা সংগ্রহে নিবেদিত ছিলেন। ফলে অন্য অনেক দেশের চেয়ে আমাদের কল-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য তাড়াতাড়ি খোলা সম্ভব হয়েছে। এর সুফল আমরা এরই মধ্যে পেতে শুরু করেছি। রপ্তানির হার বাড়ছে। এই অর্থবছরের সেপ্টেম্বর মাসে আমাদের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪.১৬ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের সেপ্টেম্বর থেকে তা ৩৮ শতাংশ বেশি। এই অর্থবছরের জুলাই- সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৯.০৫ বিলিয়ন ডলার। সামনেই বড়দিন। তা ছাড়া আগামী গ্রীষ্মের জন্যও প্রচুর নয়া অর্ডার আসছে। চীন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পোশাক আমদানি কমিয়ে ফেলছে। মিয়ানমার থেকেও পশ্চিমের দেশগুলো পণ্য কিনছে না। ভিয়েতনাম বড় লকডাউনের মধ্যে পড়েছিল। এসবই আমাদের পোশাক রপ্তানি চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করেছে। তা ছাড়া আমাদের পোশাকশিল্পের আকারও বেশ বড়। ‘ইকোনমি অব স্কেল’-এর পূর্ণ সুযোগ আমরা নিচ্ছি। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর সরকার, উদ্যোক্তা এবং বিদেশি ক্রেতাদের যৌথ প্রচেষ্টায় আমাদের পোশাকশিল্পের পরিবেশ ও সামাজিক কমপ্লায়েন্সের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। শত শত কারখানা এখন সবুজ। আর সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি ও আর্থিক সহায়তা তো চলমান। সব মিলে আমাদের এই শিল্পের পক্ষে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ানো সহজতর হয়েছে। মনে রাখা চাই, এই শিল্পে নারীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়।

এই রপ্তানিমুখী শিল্পটি তার কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য এবং মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর খুবই নির্ভরশীল। আমাদের নীতিনির্ধারকরা সেদিকেও খেয়াল রেখেছেন। ব্যাক টু ব্যাক এলসির সমর্থন ছাড়াও এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) এবং নানামুখী রাজস্ব ছাড় দিয়ে এই শিল্পের জন্য আমদানি উপকরণ ও মূলধন যন্ত্রপাতিতে বড় ধরনের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। করোনাকালে এই সমর্থন আরও বেড়েছে। তাই এ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ৯.৬১ বিলিয়ন ডলার আমদানি বাণিজ্য হয়েছে। এই বাণিজ্য গত অর্থবছরের চেয়ে ৪৬ শতাংশ বেশি। সামনের দিনগুলোতে রপ্তানি ও আমদানির পরিমাণ যে আরও বাড়বে তার ইঙ্গিত আমরা আমদানি এলসি খোলার ধরন থেকেই বুঝতে পারছি। চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাসে রেকর্ড পরিমাণ এলসি খোলা হয়েছে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা এই মাসে ৭.১৮ বিলিয়ন ডলার এলসি খুলেছেন। এর আগে এক মাসে এত বেশি পরিমাণ এলসি আর কখনো খোলা হয়নি। গত জুলাই ও আগস্ট মাসে যে পরিমাণ এলসি খোলা হয়েছে তা এর আগের অর্থবছরের ওই সময় থেকে ৪৮.৬০ শতাংশ বেশি। এই এলসির মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ছিল শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য। এই জুলাই-আগস্ট বাবদ আমদানি এলসি খোলা হয়েছে ৪.৪৭ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের ওই সময় থেকে তা ছিল ৫০ শতাংশ বেশি। মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানির হারও বাড়ছে। তবে এমন বিপুল হারে নয়। এই দুই মাসে আগের অর্থবছরের ওই দুই মাসের চেয়ে তা বেড়েছে ১১.৬৬ শতাংশ। তবে মধ্যবর্তী পণ্যের এলসি খোলার হার বেড়েছে এই সময়ে ৫৪.৫ শতাংশ।

শুধু পোশাকশিল্প নয়, এই সময়ে অন্যান্য শিল্পের যন্ত্রপাতির এলসি খোলা বেড়েছে ৪৯ শতাংশ। জ¦ালানি তেলের আমদানির এলসি খোলা বেড়েছে ৬২ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের এলসি খোলা বেড়েছে ৬৩ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়ার কথা। বাস্তবেও তাই হয়েছে। ফলে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। টাকার অবমূল্যায়ন খানিকটা ঘটেছে। তবে বাংলাদেশের রয়েছে ৪৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রিজার্ভ। সেখান থেকে বাড়তি ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকা-ডলার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। হালে প্রবাসী আয় প্রবাহ গত বছরের এই সময় থেকে বেশ খানিকটা কমেছে। তাতেও টাকার অবমূল্যায়নের চাপ বাড়ছে। আশা করা যায় আটকে পড়া প্রবাসীরা দ্রুত কাজে যোগদান করলে দু-তিন মাসের মধ্যে প্রবাসী আয় ফের বাড়বে। পাশাপাশি মাসে এক-দেড় হাজার ডলার পর্যন্ত প্রবাসী আয়ের ওপর আরও এক শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া যায় কিনা তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

যখনই রপ্তানি ও আমদানি বাড়ে তখন রাজস্ব আহরণের গতিও বাড়ে। রাজস্ব আহরণের গতি-প্রকৃতি দেখেও বোঝা যায়। বাংলাদেশের অর্থনীতি তার ছন্দ ফিরে পাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাসে (আগের বছরের আগস্ট থেকে) রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪.৫৮ শতাংশ। অথচ জুলাই মাসে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ শতাংশ। এই জুলাই-আগস্ট মিলে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪.৫৫ শতাংশ। আয়কর এবং ভ্যাট- দুই উৎস থেকেই রাজস্ব বাড়ছে। আয়কর থেকে এই সময়ে রাজস্ব মিলেছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। শুল্ক আহরণ করা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আহরণের নির্ধারিত টার্গেটের চেয়ে একটু পিছিয়ে থাকলেও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি- দুইই চাঙ্গা হচ্ছে। আশার কথা যে, রাজস্ব বিভাগ উৎসে কর কাটার প্রক্রিয়াকে এরই মধ্যে নিজস্ব জনবল ব্যবহার করেই ডিজিটাল করে ফেলেছে। আশা করা যায় খুব শিগ্গিরই তারা আয়কর ফাইল পুরোপুরি অটোমেশনেও সফল হবে। এনবিআর নেতৃত্বের পেশাদারিত্বের ওপর আমার ভরসা আছে। আশা করছি পুরো প্রতিষ্ঠানটি দ্রুতই চনমনে এক সংগঠনে পরিণত হবে।

এতক্ষণ ধরে যে আলাপ করলাম তা থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এক শক্ত পাটাতনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আর এই পাটাতন তৈরি করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সুদূরপ্রসারী নীতি-উদ্যোগের মাধ্যমে। মূলত কৃষির আধুনিকায়ন, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং ধারাবাহিকভাবে রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের মানুষের যেমনি ভোগ বেড়েছে, তেমনি তার বিদেশে অর্থনৈতিক শক্তিও জোরদার হয়েছে। আমাদের বাড়ন্ত প্রবৃদ্ধির পেছনে এই দুই শক্তিই কাজ করছে। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদাই বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল শক্তির উৎস। এর প্রমাণ এই করোনা সংকট সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বিক ও মাথাপিছু প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিক উন্নতি। পাঁচ বছর ধরেই মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির বিচারে এশিয়ার সবচেয়ে গতিময় দেশটির নাম বাংলাদেশ। করোনাকালেও গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ এই সূচকে তার পহেলা নম্বর অবস্থান ধরে রেখেছে।

করোনাকালেও বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৭.৮ শতাংশ হারে। চীনে তা বেড়েছে ৬.৯ শতাংশ। ভারতে ৩.১ শতাংশ। কৃষির অসামান্য সমর্থন ছাড়াও রপ্তানি ও প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ার কারণে প্রচুর টাকা গ্রামে যাচ্ছে। তাই গ্রামের অর্থনীতিতে ভোগ দ্রুতই বেড়েছে। গ্রামে কৃষি মজুরিও বাড়ন্ত। আর সেখানে মোট আয়ের ৬০ শতাংশ আসছে কৃষিসংশ্লিষ্ট অকৃষি খাত থেকে। গ্রামের অর্থনীতি আধুনিক ও বহুমুখী হওয়ার পেছনে এই অকৃষি আয়ের ভূমিকাও অসামান্য। তাই বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে গ্রামের মানুষের এই বাড়ন্ত ভোগ প্রবণতা। তবে করোনার থাবা না পড়লে গ্রামে বিনিয়োগও আরও বাড়ত। আর্থিক খাতের ডিজিটাল রূপান্তর, বিশেষ করে মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবা, বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতির এই গতিময়তাকে করোনাকালে দারুণ সমর্থন জুগিয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, এই অর্থবছরে আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৪ শতাংশ। কয়েক মাস আগেও তারা এর চেয়ে ঢের কম বলেছিল। এডিবি বলেছে আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ। আমি মনে করি চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার সাত শতাংশের বেশিই হবে। এই প্রবৃদ্ধি যেন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় সেজন্য কৃষি, এমএসএমই এবং সবুজ উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। এই খাতগুলোতে দেওয়া প্রণোদনা সুবিধা যাতে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয় সেজন্য মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের ম্যাক্রো-অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, বিশেষ করে নয় মাসের সমান আমদানি সক্ষম ৪৬ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ, এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা, স্থিতিশীল খাদ্য মূল্যস্ফীতি (যদিও খাদ্য ও খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দুইই এখন বাড়ন্ত), খুবই আশাপ্রদ ঋণ-জিডিপি অনুপাত (চল্লিশ শতাংশের নিচে), গত তিন মাসে পোশাকসহ রপ্তানির উল্লম্ফন (এগারো শতাংশের বেশি), বাড়তি রাজস্ব আয় (প্রায় পনেরো শতাংশ), দৃশ্যমান বৃহৎ ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্প, বিদেশি সহায়তার প্রাপ্তি বাস্তবায়ন, তরুণ আনুষ্ঠানিক শ্রমশক্তি (যার ৩৮ শতাংশই মোটামুটি লেখাপড়া জানা কম-বয়সী নারী) এবং সরকারের সুদূরপ্রসারী নীতির ধারাবাহিকতা ও সক্রিয়তা প্রবৃদ্ধির এই সাফল্য ধরে রেখেছে। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশের বেশি হবে বলে যে প্রক্ষেপণ করছি তা নিশ্চিত করতে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ যাতে আরও বাড়ে সেদিকে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাড়তি নীতি মনোযোগ দিতে হবে। ব্যক্তি খাতে ঋণের প্রবাহ এখনো মন্থর। ক্ষুদে অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো তাই খুবই জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক পাটাতনের নিচের দিকের মানুষগুলোর জন্য সরকার সামাজিক সুরক্ষা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এসব কিছুর জন্য নতুন করে প্রণোদনার রোডম্যাপ গ্রহণ করার প্রয়োজন রয়েছে। শুনেছি সরকার সেদিকেই হাঁটছে। সবশেষে বলব, আমাদের জনশক্তির দক্ষতা বাড়ানোই এই সময়ের সবচেয়ে বড় নীতি প্রণোদনা হতে পারে। এখনো আমাদের ৬২ শতাংশ প্রবাসী কর্মী অদক্ষ। মাত্র দুই শতাংশ দক্ষ। এদিকটায় জোরদার সরকারি সমর্থন জরুরি। অদক্ষদের অন্তত আধাদক্ষ না করে বিদেশে পাঠাব না- এমন সংকল্প আমরা নিশ্চয় নিতে পারি।

একইভাবে রপ্তানিমুখী শিল্পের আধা-দক্ষ কর্মীদের পুরো দক্ষ ও মেশিন দক্ষ করতে প্রয়োজনে করোনাকালে দেওয়া প্রণোদনার মতো বিশেষ সমর্থন নিশ্চয় সরকার দিতে পারে। কেননা এই বিশে^ সস্তা শ্রম নয়, উৎপাদনশীলতাই আমাদের তুলনামূলক সুবিধা এনে দেবে। দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং কর্মাবস্থায় দক্ষতা অর্জনের ওপর সমান জোর বিনিয়োগ বাড়ানো সময়ের দাবি। তবে সরকার মেগা প্রকল্প, কানেক্টিভিটি ও সব ধরনের কাঠামো নির্মাণে যেমন জোর দিচ্ছে তাতে মনে হয় বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিময়তা কেউই দাবিয়ে রাখতে পারবে না। এজন্য অবশ্য টেকসই অর্থায়নের কোনো বিকল্প নেই। প্রচলিত অর্থব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে বন্ড বাজারকে সচল করে সবুজ অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে নিশ্চয় আমাদের বাড়ন্ত অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও টেকসই করা সম্ভব।

ড. আতিউর রহমান : বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ও চেয়ারম্যান উন্নয়ন সমন্বয়

advertisement
advertisement