advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সম্পত্তির বিরোধে একই পরিবারে তিন খুন

মিরসরাইয়ে ঘর থেকে গলাকাটা লাশ উদ্ধার

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
১৫ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২১ ১০:২৪ এএম
নুরুল মোস্তফা সওদাগর ও আহমদ হোসেন
advertisement

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পরিবারের বড় ছেলে ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকা- ঘটেছে। নিহত তিনজন হলেনÑ স্থানীয় নতুনবাজারের মুদি দোকানি নুরুল মোস্তফা সওদাগর (৬০), তার স্ত্রী জ্যোৎস্না আক্তার (৫৫) ও মেজো ছেলে আহমদ হোসেন (২৫)। আটক দুজন হলেন বড় ছেলে সাদেক হোসেন ও তার স্ত্রী আইনুন নাহার।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি মো. নূর হোসেন মামুন গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, গতকাল ভোরে বড় ছেলে সাদেকের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে যান। সেখানে তিনজনের রক্তাক্ত লাশ দেখে লোকজন পুলিশে খবর দেয়। ওসি বলেন, ‘তিনজনকেই ধারালো
অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। ঘটনার সময় বাড়িতে বড় ছেলে সাদেক ও তার স্ত্রী আইনুন নাহার ছিলেন। সাদেকের শরীরে রক্তের দাগ থাকলেও কোনো জখম ছিল না। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।’
জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর মধ্যম সোনাপাহাড় ওয়ার্ডের সদস্য মনির আহম্মদ ভাসানী জানান, সম্পত্তি নিয়ে নুরুল মোস্তফার সঙ্গে বড় ছেলে সাদেক ও ছোট ছেলে আলতাফের বিরোধ চলছিল। এই দুই ছেলে পরিবারের ভরণপোষণের খরচ দিত না। মেজো ছেলে আহমদ হোসেন বাবার সঙ্গে দোকানদারি করত। মোস্তফা তার সম্পত্তি স্ত্রী, মেজো ছেলে আহমদ এবং মেয়ের নামে দলিল করে দেন। মূলত এর পর থেকে বিরোধের সূত্রপাত।
মধ্যম সোনাপাহাড় গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী হাসেম ভূঁইয়া বলেন, ‘মেজো ছেলে আহমদের বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক ছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বাকি দুই ছেলের কাছ থেকে কিছু টাকাপয়সা নিয়ে দিতে গত বুধবার বিকালে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হন নুুরুল মোস্তফা। আমাদের ধারণা, বুধবার রাতে এই বিষয়ে পরিবারের মধ্যে ঝগড়া বাধে। সেই ঝগড়া থেকেই খুনের ঘটনা ঘটতে পারে।’
জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) মোহাম্মদ লাবিব আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বাড়ির ভেতর ডাকাতির কোনো আলামত পাইনি। ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র ঠিক ছিল। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, পারিবারিক বিরোধ, বিশেষ করে সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।’
পুলিশ জানায়, নুরুল মোস্তফা ও তার স্ত্রী জোসনার লাশ একটি ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল। আহমেদের লাশ ছিল আরেকটি ঘরের মেঝেতে।

advertisement