advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সীমিত আয়ের মানুষদের বাঁচাতে কার্যকর ব্যবস্থা চাই : বাড়তি ব্যয়ে বেসামাল মানুষ

১৭ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২১ ১১:৩২ পিএম
advertisement

সাধারণ নাগরিকের জীবনে নিত্যব্যবহার্য পণ্যের মূল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ, যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আয় নির্দিষ্ট নয় তারা অবশ্যই সীমিত আয়ের মানুষ। সাধারণত তাদের পক্ষে সঞ্চয় করা সম্ভব হয় না। এদের জীবনে রোগ কিংবা ঘর-সারাইয়ের মতো বড় ব্যয় মেটানোই হয় কঠিন। তাই প্রায়ই দেখা যায় সঞ্চয় দূরের কথা, অধিকাংশের কর্জ থাকে। আর তার ওপর যদি নিত্যব্যবহার্য পণ্যের ব্যয় বাড়তে থাকে তা হলে তার জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অর্ধাহার এবং অপুষ্টি সঙ্গী হয়, যার ফল দাঁড়ায় কঠিন রোগভোগ ও বাড়তি ব্যয়ের সম্মুখীন হওয়া। আমাদের মতো দেশে এই শ্রেণির মানুষই সংখ্যায় বেশি। তাই সরকারের একটি বড় দায় হলো দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা। গত দুবছর ছাড়া এর আগে প্রায় এক দশক পেঁয়াজ বা কাঁচামরিচের মতো অল্প কয়েকটি পণ্যের মূল্য মৌসুমভেদে বাড়লেও মোটামুটি প্রধান প্রধান খাদ্যদ্রব্যের দাম স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের রাস কিছুতেই টেনে রাখা যাচ্ছে না। সরকার টিসিবির মাধ্যমে হ্রাসকৃত মূল্যে চাল-ডাল-তেল-নুন-চিনির মতো আবশ্যিক দ্রব্যের বিক্রি বাড়লেও বাজারে তার প্রতিফলন ঘটছে না। এর কারণ সরকারি উদ্যোগ ব্যাপক মানুষের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। তা ছাড়া কাঁচাবাজারের সমস্যা তো এতে মিটছে না। এ রকম পরিস্থিতিতে সরকারকে শুকনো ও কাঁচা উভয় বাজারই নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। যে কোনো জরিপে দেখা যাচ্ছে, দেশে কয়েকটি ছাড়া বাকি সব ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন বেড়েছে। উৎপাদন ব্যয়ও খুব বাড়েনি। অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা মূলত আড়তদার এবং মধ্যস্বত্বভোগী মজুদদারদের কারসাজিতেই দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। সরবরাহে ঘাটতি থাকার কারণ নেই বলেই শোনা যাচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পেঁয়াজ আমদানির ওপর সব ধরনের কর বিলোপ করেছে। প্রয়োজনে অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যেও আমদানি শুল্ক মওকুব রাখা দরকার। যেভাবেই হোক বাজার লাগামছাড়া হতে দেওয়া যাবে না।

আমরা মনে করি বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি অধিদপ্তরগুলো অনেক সাফল্য দেখিয়েছে। ঘাটতি বা সমস্যা হচ্ছে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। সেখানে নজরদারি ও খবরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে দোষীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সেই সঙ্গে খাত ও পণ্যের চাহিদা বুঝে উৎপাদন পরিকল্পনায় সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তার ফল মানুষ সহজেই পাবে। কারণ কৃষি হলো এমন একটি খাত যেখানে বিনিয়োগের ফল দ্রুতই পাওয়া যায়। আমরা আশা করব সরকারপ্রধান এসব দিকে ব্যক্তিগত তদারকির ব্যবস্থা করবেন এবং দেশের সিংহভাগ মানুষের কল্যাণে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়াবেন।

advertisement
advertisement