advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বাজার স্থিতিশীল রাখতে মিয়ানমারের পেঁয়াজই ভরসা

পরিবহন ও শ্রমিক সিন্ডিকেটে দাম বৃদ্ধি

আব্দুল্লাহ মনির, টেকনাফ
১৭ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২১ ০২:৩৪ এএম
advertisement

বাজার স্থিতিশীল রাখতে মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে আসছে পেঁয়াজের বড় চালান। সর্বশেষ গতকাল শনিবার আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। এসব পেঁয়াজ এনেছে আমদানিকারক এমএ হাসেম, এহতেশামুল হক বাহাদুর, শওকত আলম, মো. ফারুক ও মো. জব্বার। এর আগে চলতি অক্টোবরে গত বৃহ¯পতিবার পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয় সাড়ে ৮ হাজার মেট্রিন টন। আরও কয়েক হাজার মেট্রিক টন দুই-তিনদিনের মধ্যেই টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে পৌঁছবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রতিবেশী দেশটি থেকে পেঁয়াজ আমদানি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে গতকাল টেকনাফ স্থলবন্দরে বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

জানা যায়, স্থলবন্দরের পেঁয়াজ খালাসহ সব কার্যক্রম গতকাল শনিবার ঘুরে দেখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান। এর পর তিনি বেলা সাড়ে ১১টায় ইউনাইটেড ল্যান্ডপোর্টের কার্যালয়ে স্থলবন্দর ব্যবসায়ী এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেখানে ব্যবসায়ীরা টেকনাফ স্থলবন্দর, কাস্টম ও রোহিঙ্গা শ্রমিকসহ ট্রান্সপোর্ট সিন্ডিকেটের বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে আমদানীকৃত পেঁয়াজ বাজারে বেশি দামে বিক্রির কারণ হিসেবে অতিরিক্ত ট্রাকভাড়া ও স্থলবন্দর শ্রমিকদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন তারা।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরীর সভাপত্বিতে বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন টেকনাফ ২ বিজিবি উপ-পরিচালক লে. এম মুহতাসিম বিল্লাহ (সাকিল), স্থলবন্দর ইউনাইটেড ল্যান্ডপোর্টের ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী, টেকনাফ স্থলবন্দর কাস্টমস কর্মকর্তা আব্দুন নুর, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল আমিন, ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির খলিলুর রহমান ও আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা।

বৈঠক শেষে অতিরিক্ত সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে আরও বেশি পেঁয়াজ আমদানির লক্ষ্যে সরকার শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। বাজারে দাম স্থিতিশীল ও জনগণের চাহিদা মেটাতেই মূলত এখানে আসা। তবে বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে অতিরিক্ত ট্রাকভাড়া ও শ্রমিকদের সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকা গিয়ে এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ ছাড়া পচনশীল এই পণ্য বন্দর থেকে দ্রুত খালাস হয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধের আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানায়, চলতি মাসে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাড়ে ৮ হাজার ৫২২ দশমিক ৭৭ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে মিয়ানমার থেকে। এসব পেঁয়াজ এনেছেন মূলত ১০-১২ জন ব্যবসায়ী। এর আগে সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৯৮৮ মেট্রিক টন, আগস্টে ৭৬৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। টেকনাফ স্থলবন্দরের আমদানিকারক বলেন- ভারতের ওপর নির্ভর করে আমরা মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে থাকি। এবারও সেখানে (ভারত) পণ্যটির দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমরা মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আনা অব্যাহত রেখেছি।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ স¤পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, ‘মূলত ভারতের ওপর নির্ভর করে ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে থাকি। কিন্তু আমরা তেমন বেশি লাভবান হচ্ছি না। তা ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করলেও সেটি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি টেকনাফে।’ জানতে চাইলে টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ইউনাইটেড ল্যান্ডপোর্টের ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘বাজারের পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক রাখতে স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করছেন। তা ছাড়া পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য হওয়ায় রাত-দিন ২৪ ঘণ্টায় ডেলিভারি দিচ্ছি, যাতে বাজার স্বাভাবিক থাকে। শনিবারও আমরা ১৩শ মেট্রিক ট্রন পেঁয়াজ ডেলিভারি দিয়েছি।’

advertisement
advertisement