advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

এটাই আসিফ আকবরের জীবনের বিশাল আনন্দ

বিনোদন প্রতিবেদক
১৭ অক্টোবর ২০২১ ০১:৫৮ পিএম | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২১ ০২:১৬ পিএম
আনন্দজী বীরজী শাহ ও আসিফ আকবর। পুরোনো ছবি
advertisement

ভারতে বিখ্যাত সংগীত পরিচালক যুগল কল্যাণজী ও আনন্দজী। ২০০০ সালে ২৪ আগস্ট পৃথিবী থেকে বিদায় নেন কল্যাণজী। বেঁচে আছেন আনন্দজী বীরজী শাহ। জীবন্ত কিংবদন্তি এই সংগীত পরিচালক এবার ফোন করলেন বাংলা গানের যুবরাজ’খ্যাত সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরকে। আর সেকথা আসিফ নিজেই জানালেন তার ফেসবুকে।

দৈনিক আমাদের সময় অনলাইন’র পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘কুরবানী কুরবানী কুরবানী, আল্লাহ্ কি প্যায়ারি হ্যায় কুরবানী’- সুপরিচিত ব্লকবাস্টার হিন্দি মুভি ‘কুরবানী’র টাইটেল সং এটি। কল্যাণজী ও আনন্দজীর সুর সংগীতের অমর সৃষ্টি। কল্যাণজী গত হয়েছেন আরও আগে। বেঁচে আছেন উনার পার্টনার জীবন্ত কিংবদন্তি আনন্দজী। ‘ডন’, ‘কালাকার’, ‘মোকাদ্দার কা সিকান্দার’, ‘ত্রিদেব’, ‘লাওয়ারিশ’, ‘কুরবানী’-এর মতো প্রচুর মোঘল মুভির সংগীত স্রষ্টা এই অমর জুটি।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত বৃটিশ সংগীত পরিচালক রাজা কাশেফ আর তার স্ত্রী রুবাইয়াৎ জাহানের বদৌলতে শ্রদ্ধেয় আনন্দজীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি এক সপ্তাহ আগে। শারদীয় দুর্গাপূজা কেন্দ্রিক বিশ্রী হট্টগোলে মন খারাপ থাকায় আর শেয়ার করিনি।

আলাপের দুদিন আগেই লন্ডনে উনার মেয়ে প্রয়াত হয়েছেন। সেই শোক বুকে চেপেই তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। রাজা উনাকে রেকর্ডেড গান শুনিয়েছেন, তিনি আমার কণ্ঠ খুব পছন্দ করেছেন। গভীর রাতের ফোনে আমি একটু হাইপার হয়েই উনার সঙ্গে ইংরেজি, হিন্দি, বাংলা আর কুমিল্লার লোকাল ভাষায় কথা বলেছি।

আনন্দজী হুট করেই বললেন, উনার সুরারোপিত ‘কালাকার’ সিনেমার ‘নীল নীল আম্বর পার’ গানটি শোনাতে। প্রশ্ন কমন পড়ে যাওয়ায় আমি বিনা বাক্য ব্যয়ে গাওয়া শুরু করলাম, তিনি খুব মজা নিয়েই শুনলেন। এবার বললেন, আরেক অমর গান ‘পাল পাল দিলকে পাস তুম রেহতে হো’। আবারও প্রশ্ন কমন পড়েছে, জোশের চোটে গেয়ে শোনালাম এই গান শুনেও তিনি অনেক খুশী হলেন। একটু আফসোস করেই বললেন, আমি যদি এখন গান তৈরি করতাম, অবশ্যই তোমাকে দিয়ে আমার তৈরি গান গাওয়াতাম।

ভদ্রলোক ১৯৯৪ সালেই বলিউড মিউজিক এরিনা থেকে রিটায়ার করেছেন। আমি খুব আনন্দিত উনার মতো একজন গ্রেট কম্পোজারের সঙ্গে কথা বলতে পেরে। আমার খায়েশ কোনোভাবেই অনেক বিশাল নয়। ডিফিকাল্ট বাংলাদেশে বিনা শিক্ষায় গান গেয়ে করে কেটে খাচ্ছি। দেশের কিছু মানুষ আমাকে একটু চেনেন জানেন সম্মানও দেন। আল্লাহর রহমতে এটাই আমার জীবনের না চাইতে পাওয়া সেরা অর্জন।

প্রশংসা শুনতে সবার ভালো লাগে, আমিও এই বিষয়ে একটু লোভী অন্য যেকোনো সিভিলিয়ানের মতোন। আনন্দজীর মতো কিংবদন্তি একজন সংগীত স্রষ্টার সঙ্গে কথা বলতে পারবো- এই চিন্তাটাই তো মাথায় জীবনে আসেনি। আমি নিজের অর্জনের জন্য উঠতে-বসতে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ রাখি।

স্ক্রিনশট টাইপ ছবি তোলার লাইন-ঘাট বুঝি কম। ছবিটি তুলে দিয়েছেন ভাই রাজা কাশেফ, উনার প্রতি কৃতজ্ঞ। আনন্দজীর সুস্বাস্থ্য আর দীর্ঘায়ু কামনা করি। তিনি আমার গান শুনতে চেয়েছেন এবং শুনেছেন। উনার আশীর্বাদ পেয়েছি- এটাই এই ক্ষুদ্র আসিফ আকবরের জীবনের বিশাল আনন্দ।

advertisement
advertisement