advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

স্বপনের স্মৃতিতে ‘বস’ আইয়ুব বাচ্চু

বিনোদন প্রতিবেদক
১৮ অক্টোবর ২০২১ ১২:৩৯ পিএম | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২১ ১২:৩৯ পিএম
পুরোনো ছবি
advertisement

‘আমি যাবো চলে দূরে বহুদূরে/ গান শুধু রবে আমার স্মৃতি নিয়ে’ গানের মতোই দূর আকাশে পাড়ি দিয়েছেন গিটার জাদুকর ও এলআরবি ব্যান্ডের প্রাণ আইয়ুব বাচ্চু। ২০১৮ সালের এই দিনে রুপালি গিটার ফেলে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন এই ব্যান্ড তারকা। আজ সোমবার তার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।

এদিকে, আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় গানগুলোর একটি ‘মা’। যার কথাগুলো এমন- ‘ওই দূর আকাশের তারারে/ বলে দে না কোনটা আমার মা/ মা কি আমায় দেখতে পায় না/ কতদিন দেখি না মায়ের মুখ। মাগো মা/ ও গো মা, তোমার মতো কেউ না।’ মা-পাগল বাচ্চু ২০০৪ সালে ডিসেম্বরে গানটি গেয়েছেন আর সেটি উৎসর্গ করেছেন পৃথিবীর সকল মাকে। গিটার লিজেন্ড বাচ্চুর এই গানটি আজও দর্শক-শ্রোতাদের চোখ ভিজিয়ে তোলে নিজ অজান্তেই।

ভালোবেসে সবাই আইয়ুব বাচ্চুকে ডাকতেন ‘এবি’ বলে। আর সংগীতাঙ্গনের মানুষরা সম্বোধন করতেন ‘বস’ বলে। মৃত্যুবার্ষিকীর আগমুহূর্তে আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গী গিটারিস্ট সাইদুল হাসান স্বপন তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। কথা বললেন, ‘মা’ গানটি নিয়ে।

তার ভাষ্য, ‘ডেটলাইন ১৬ অক্টোবর ২০১৬। কানাডার সাসকাটুন কনসার্টে শেষ গান করে হঠাৎ বাচ্চুভাই হল ভর্তি মানুষের সামনে ঘোষণা দিলেন “আজ সকালে আমাদের স্বপনের মা মারা গেছেন, আমি আমার “মা” গানটা এখন স্বপনকে উৎসর্গ করে গাইছি।’ এরপর স্টেজে দর্শক-শ্রোতাদের সামনে বাচ্চু গেয়ে শোনান তার ‘মা’ গানটি।

এ ছাড়াও মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করলেন স্বপন। ‘বস’কে উৎসর্গ করে প্রকাশ করলেন নতুন গান ‘ইন ম্যামরি অব আইয়ুব বাচ্চু’। হ্যাভেন ও রনির কথায় গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন রনি। আর বেজ গিটার বাজিয়েছেন সাইদুল হাসান স্বপন।

উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৭৮ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে সংগীতে তার পথচলা শুরু হয়। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সোলস ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে আইয়ুব বাচ্চু গঠন করেন এলআরবি ব্যান্ড। এর প্রথম অ্যালবাম ‘এলআরবি’ বাজারে আসে ১৯৯২ সালে। এটাই দেশের প্রথম ডাবল অ্যালবাম।

এলআরবির অন্য অ্যালবামগুলো হলো- ‘সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘ফেরারি মন’ (১৯৯৬), ‘আমাদের’ (১৯৯৮), ‘বিস্ময়’ (১৯৯৮), ‘মন চাইলে মন পাবে’ (২০০১), ‘অচেনা জীবন’ (২০০৩), ‘মনে আছে নাকি নাই’ (২০০৫), ‘স্পর্শ’ (২০০৮), ‘যুদ্ধ’ (২০১২), ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ (২০১৬)।

ব্যান্ডের বাইরে ১৯৮৬ সালে প্রকাশ হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’। দ্বিতীয় একক ‘ময়না’ বাজারে আসে ১৯৮৮ সালে। এরপর তৃতীয় অ্যালবাম ‘কষ্ট’। যার সব ক’টি গানই জনপ্রিয়তা পায় শ্রোতামহলে। তার অন্য একক অ্যালবামগুলো হলো- ‘সময়’ (১৯৯৮), ‘একা’ (১৯৯৯), ‘প্রেম তুমি কি’ (২০০২), ‘দুটি মন’ (২০০২), ‘কাফেলা’ (২০০২), ‘রিমঝিম বৃষ্টি’ (২০০৮), ‘বলিনি কখনো’ (২০০৯), ‘জীবনের গল্প’ (২০১৫)।
আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর তালিকায় আছে- ‘চলো বদলে যাই’, ‘শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’, ‘সুখ’, ‘রুপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’, ‘তারা ভরা রাতে’, ‘এখন অনেক রাত’ ইত্যাদি।

advertisement
advertisement