advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দারা কিছুই করতে পারল না : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ অক্টোবর ২০২১ ০১:৩৫ পিএম | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২১ ০৩:০৫ পিএম
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

বিএনপির নেতাকর্মীদের পাতাল থেকে ধরতে পারলেও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনায় কিছুই করতে পারল না সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা-এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ সোমবার জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত শেষে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ‘আজকে যারা সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগ তারা বিএনপি নেতাকর্মী মাটির পাতালে থাকলেও তাদের খুঁজে বের করে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠাচ্ছে। আর কুমিল্লা, হাজীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা কিছুই বলতে পারল না।’

এ সময় সরকারের মন্ত্রীরা স্মৃতিভ্রম রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।তিনি বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রীরা একের পর এক অকথ্য আজেবাজে মিথ্যাচার করছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যাচ্ছেন। কয়েকদিন আগে না ওবায়দুল কাদের সাহেব বললেন, বিএনপি আন্দোলন করতে পারে না, বিএনপির কোনো ক্ষমতা নাই। আবার গতকালকে ওবায়দুল কাদের সাহেব ও হাছান মাহমুদ সাহেব বলছেন, কুমিল্লার ঘটনার জন্য বিএনপি দায়ী।’

‘এখানে ডাক্তার সাহেবরা আছেন-ডিমেনশিয়া বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি কথা আছে। আমি দুদিন আগে বা দুই ঘণ্টা যে কথা বলেছি, সেই কথাটা আমি পরক্ষণে আবার ভুলে যাই। এই ডিমেনশিয়া, স্মৃতিভ্রমের মধ্যে পড়েছে ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদ সাহেবরা। ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম রোগে ভুগছেন তারা। পরশুদিন যা বলছেন আজকে সেটার পুরোপুরি উল্টো কথা বলছেন,’ যোগ করেন রিজভী।

বিএনপির এই বলেন, ‘আজকে এই নৈরাজ্যকর-ভয়-ভীতি-শঙ্কার যে পরিস্থিতি, এই পরিস্থিতি আজকে সরকার সৃষ্টি করেছে। অত্যন্ত কৃত্রিমভাবে তারা এটা সৃষ্টি করে সারা দেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি করেছে। কারণ করোনায় ব্যর্থতা, মানুষের সুচিকিৎসা দিতে না পারা, মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা, মানুষের জীবন-যাপন এবং তাদের নিরাপত্তা দিতে না পারা এবং দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন যে ঊর্ধ্বগতি, সেই ঊর্ধ্বগতিতে সারা দেশের মানুষ একেবারে দিশেহারা অবস্থায়।সেগুলোকে মোকাবিলা করতে না পারার কারণে আজকে কৃত্রিমভাবে কুমিল্লার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।যাতে মানুষের দৃষ্টি ওইদিকে যায় এবং ওইদিকে গিয়ে মানুষ ওটা নিয়ে পড়ে থাকে। সরকারের এই সমস্ত ব্যর্থতাগুলো যাতে মানুষ আলোচনা না করতে পারে, এটা নিয়ে যেন মানুষ দাঁড়াতে না পারে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তারা।’

সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘কুমিল্লার পূজামণ্ডপের ঘটনা যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা বলে এত ভালো পারেন, তারা বলে সমস্ত কিছু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারেন। তাহলে এই ধরনের একটি ঘটনা। আজকে মানুষের নিরাপত্তা নেই, আজকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তারা নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারছে না, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে জীবনযাপন করছে।আর ওইদিকে পবিত্র কোরআন অবমাননা হচ্ছে।’

এর আগে বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে যান রুহুল কবির রিজভী। তারা নেতার কবরে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময়ে বিএনপিরি যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (ড্যাব) অধ্যাপক হারুন অর রশীদ, ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, ডা. পারভেজ রেজা কাঁকন, সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, মাসুদ আখতার জিতু, মেহেদি হাসান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক কামরুল হাসান, অ্ধ্যাপক নুরুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

১৯৯৯ সালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন জিয়াউর রহমানের বড় ছেলে তারেক রহমান।

advertisement
advertisement