advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

শেয়ারবাজারে অস্থিরতা

৬ দিনে মূলধন কমেছে ১৩ হাজার কোটি টাকা # ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ২৭০ পয়েন্ট # আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ

আবু আলী
১৯ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২১ ০৯:১৩ এএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

শেয়ারবাজারে টানা দরপতনে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কে লোকসানে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন অনেকে। ফলে বিক্রি চাপে সূচকের বড় ধরনের দরপতন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কারসাজির তদন্ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি, মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাসহ বিভিন্ন কারণে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শহিদুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, পৃথিবীর কোথাও নেই একটানা দরপতন বা টানা বৃদ্ধি। এটি ম্যাচিউর বাজারের লক্ষণ নয়। বাজার যদি ফান্ডামেন্টালের ওপর ভিত্তি করে চলত, তা হলে এমনটি হতো না। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হওয়া উচিত। তারা যেন আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি না করে। তা হলে আল্টিমেটলি পুঁজিবাজার ভালো হওয়ার চেয়ে খারাপই হবে।’

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ৫ দিনের ধারাবাহিকতায় শেয়ারের বিক্রি চাপে গতকাল ঢাকার শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। এ নিয়ে টানা ছয় কার্যদিবসের পতনে ডিএসইর প্রধান সূচকটি ২৭০ পয়েন্ট কমেছে। বাজার মূলধন কমেছে ১৩ হাজার কোটি টাকা।

জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে তেমন প্রবৃদ্ধি না থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কারসাজির মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রেই কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকরাও কারসাজির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানি থেকেই মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আগেই বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করে শেয়ারের দর বাড়ানো হয়েছে। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে কিছু কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি খতিয়ে দেখতে তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হলে মূল্যসূচকের পতন ঘটিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে কারসাজিকারকদের একটি পক্ষ। এ ছাড়া কিছু শেয়ারের দর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ায় কৌশলী বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিতে শুরু করছেন। এটিও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশিদ লালী আমাদের সময়কে বলেন, সম্প্রতি যেসব বন্ড ইস্যু হয়েছে সেগুলোকে ব্যাংকের এক্সপোজারের মধ্যে

নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সুকুকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোনো ব্যাংক শেয়ারবাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে। এতে বাজারের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

গতকালের বাজার চিত্র : গতকাল সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সব কটি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের। লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সব কটি প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে লেনদেনের সময় পাঁচ মিনিট না যেতেই বদলে যায় বাজারের চিত্র। লেনদেনে অংশ নেওয়া একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন হতে থাকে। ফলে ২০ মিনিটের মাথায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৪৬ পয়েন্ট পড়ে যায়। এরপর সূচক কিছু বাড়লেও বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে টানা নিচের দিকে নামতে থাকে সূচক। একপর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ১৩০ পয়েন্ট কমে যায়। অবশ্য লেনদেনের শেষদিকে এসে কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ে। এতে সূচকের পতনের মাত্রা কিছুটা কম হয়। তার পরও ধসের হাত থেকে রক্ষা পায়নি শেয়ারবাজার।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮৯ পয়েন্ট কমে ৭ হাজার ৯৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি কমেছে ডিএসইর অপর দুই সূচক। এর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ ২১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫২৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৬৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া মাত্র ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। কমেছে ৩২৪টির, ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৯৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার। কোম্পানিটির ৮৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডেল্টা লাইফ ইন্সু্যুরেন্সের ৮১ কোটি ১৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৬৬ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ। এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, ফরচুন সুজ, বেক্সিমকো, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, জিনেক্স ইনফোসিসি এবং পাওয়ার গ্রিড।

অপর শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৩১৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩০৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ২৫৭টির আর ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

advertisement
advertisement