advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মেলা ছাড়াই ১৭ হাজার কোটি টাকা আদায় করবে কর বিভাগ

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১৯ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২১ ১০:৪৯ পিএম
advertisement

জনগণকে আয়কর দিতে উৎসাহিত করার জন্য আয়োজন করা হতো আয়কর মেলা। কিন্তু করোনায় গত বছর এ মেলা হয়নি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে এবারও আয়োজন করা হচ্ছে না কর মেলা। তবে কর মেলার আদলে চট্টগ্রামের করাঞ্চলগুলোর প্রধান কার্যালয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু থাকবে। মেলা না করে চট্টগ্রাম থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করেছে আয়কর বিভাগ।

চট্টগ্রাম আয়কর বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে প্রথম আয়কর মেলা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ শুরু হয়। প্রথম দিকে এই উদ্যোগে খুব ভালো সাড়া না পেলেও পরবর্তী সময়ে সেটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ২০১০ সালে চট্টগ্রামে আয়কর মেলায় আহরণ হয় ৪০ কোটি ১২ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা মিলিয়ে চট্টগ্রামের চারটি কর অঞ্চলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে কর আদায় করা হয় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কর আদায় হয়েছে ১১ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ সালে বছর কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ১১২ কোটি টাকা।

এবার ২০২১-২২ করবর্ষে চট্টগ্রামের চারটি কর অঞ্চলে এবার করদাতার সংখ্যা ৫ লাখ ৭২ হাজার ৭৭১ জন। এবার ১৭ হাজার ১০০ কোটি টাকা আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এবার কর আদায় অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

তার মধ্যে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল ১-এর অধীনে করদাতা রয়েছেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭ জন। এসব করদাতার কাছ থেকে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আদায় করা হবে। চট্টগ্রাম কর অঞ্চল ২-এর অধীনে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬৬ জন করদাতা থেকে ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা আয়কর আদায় করা হবে। চট্টগ্রাম কর অঞ্চল ৩-এ করদাতা আছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৯১০ জন। এসব করদাতা থেকে

কর আদায় করা হবে ৩ হাজার কোটি টাকা। চট্টগ্রাম কর অঞ্চল ৪-এর অধীনে করদাতা রয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৭৮ জন। এসব করদাতার কাছ থেকে ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, ২০২১-২২ করবর্ষে গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত আয়ের ওপর কর দিতে হবে। এ সময়ে সাধারণ করদাতাদের মধ্যে যাদের করযোগ্য আয় ৩ লাখ টাকার বেশি তাদের কর দিতে হবে। এ ছাড়া নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা। প্রতিবন্ধী করদাতাদের বার্ষিক আয় সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতাদের আয় পৌনে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত। প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতামাতা বা আইনগত অভিভাবকদের করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে ৫ লাখ টাকা। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম কর অঞ্চল ৩-এর কর কমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ বলেন, আয়কর মেলার মূল উদ্দেশ্য- আয়কর সংগ্রহ নয়; বরং মানুষকে কর দিতে উৎসাহিত করাই আয়কর মেলার প্রধান উদ্দেশ্য। কোভিডের আগে মেলার জন্য একটি লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করা হতো। এবারও নিদির্ষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রতিটি কর অঞ্চল কাজ করছে।

চট্টগ্রাম কর অঞ্চল ১-এর কমিশনার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে এবারও মেলা করা হচ্ছে না। তবে প্রতিটি কর অঞ্চলের প্রধান কার্যালয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে রিটার্ন ফরম পূরণ, টাকা জমা দেওয়াসহ সব ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। করোনার আগে চট্টগ্রামের চারটি কর অঞ্চলের সেবা এক ছাদের নিচে বিনামূল্যে দেওয়া হতো। এবার প্রতিটি কর অঞ্চল তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই বিনামূল্যে সেবা দিচ্ছে। যেটি চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে আয়কর রিটার্ন ও টাকা জমা দেওয়া যাবে।

advertisement
advertisement