advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

উৎপাদন বন্ধ সৈয়দপুর রেলসেতু কারখানায়

গোপাল চন্দ্র রায়, সৈয়দপুর (নীলফাামারী)
১৯ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২১ ১০:৪৯ পিএম
advertisement

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে ছয় বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সেতু উপকারখানাটি। ফলে বিশাল ইয়ার্ডজুড়ে থাকা হাজার কোটি টাকার কাঁচামাল (লোহা) মাটিতে মিশে যাচ্ছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান মেশিনপত্র।

জানা গেছে, অত্র কারখানার তিনটি উপকারখানার মধ্যে প্ল্য­­াটফরম শেড তথা নকশা ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ। ভেতরে আর্বজনার স্তূপ। পাশে মেশিন শেডটির চিত্র একই। পুরো ইয়ার্ডজুড়ে ৩ থেকে ৫ ফুট উচ্চতার জঙ্গলিগাছ। এদিকে উদাসীনতার কারণে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অ্যাঙ্গেল রড, স্কয়ার রড, কভারপ্লেট, মিটার ও ব্রড গেজ লাইনের সেতুর স্পেয়ার গাডার, তিস্তা ও পাকশী হার্ডিঞ্জ সেতুর পরিত্যক্ত লোহা-লক্কড়, রেললাইন, একটি বিকল স্টিম ক্রেনসহ নানা ধরনের লোহার মালামাল। বিক্ষিপ্তভাবে এসব মালামাল ফেলে রাখায় এর ভিতর দিয়ে গজিয়ে জঙ্গলি গাছ। একইভাবে মাটির নিচে চাপা পড়েছে ফ্রাঞ্চপ্লেট ও কভারপ্লেট। এসব কাঁচামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৫০ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়।

সূত্রমতে, ১৮৫৭ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ১১০ একর জমির ওপর নির্মাণ করেন দেশের সর্ববৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে

কারখানাটি। এরই এক পাশে ১৮ একর জমিতে নির্মাণ করা হয় সেতু উপকারখানা। শুরুতে এ কারখানার কর্মকা- পরিচালনায় মেশিন শপ, পয়েন্টস অ্যান্ড ক্রোসিং শপ এবং গার্ডার ইয়ার্ড শপ নামে তিনটি উপকারখানায় প্রায় এক হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। মূলত পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সব স্টেশনের প্ল্যাটফরম শেডের মালামাল, রেললাইনের পয়েন্ট অ্যান্ট ক্রোসিং, ব্রিজ গার্ডার, ট্রলি, মোটরট্রলি মেরামত ও তৈরি, মোর গার্ডার, পানির ট্যাংকি, ফুটওভার ব্রিজের মালামাল, ট্যাংস্টেজিংসহ ২৫ ধরনের মালামাল তৈরি করা হতো এ কারখানায়। ফলে সর্বদা থাকত কর্মচাঞ্চল্য। এদিকে ১৯৯১ সালে তৎকালীন সরকার বাধ্যতামূলক গোল্ডেন হ্যান্ডশেক ঘোষণা দিলে এবং নিয়মিত অবসরের কারণে জনবল শূন্য হয়ে পড়ে উপকারখানাটি। বর্তমানে ১২৭ জন মঞ্জুরিকৃত পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ৬ জন। এদের মধ্যে ২ জন কিছু দিনের মধ্যে অবসরে যাবেন। বাকি একজন প্রেষণে পাকশীতে এবং একজন সহকারী সেতু প্রকৌশলী তিনিও অফিসে নিয়মিত নন। এদিকে একজন স্টোরকিপার ও একজন কর্মচারী ফাইলপত্র টানাটানি করছেন। এভাবেই চলছে এ উপ-কারখানাটির কর্মকা-।

জানতে চাইলে সহকারী সেতু প্রকৌশলী মো. জুয়েল মিঞা জানান, দক্ষ জনবল সংকট এবং কাঁচামালের অভাবে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে সেতু কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি অনেক মেশিনপত্রও নষ্ট হয়ে গেছে। এসব দেশে মেরামত করা সম্ভব নয়, আর নতুন মেশিনপত্র ক্রয়ে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এদিকে দেশের একমাত্র সেতু উপকারখানাটির এমন অবস্থা দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

advertisement
advertisement