advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

চবিতে ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার

চবি প্রতিনিধি
১৯ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২১ ১০:৪৯ পিএম
advertisement

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রশাসন ক্যাম্পাসে মারামারিসহ নানা অপরাধে জড়িত অভিযোগে ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে। তাদের বেশিরভাগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন শেষের দিকে।

বহিষ্কৃতরা হলেন- ছাত্রলীগের সিক্সটি নাইনের আকিব জাভেদ, মো. নাঈম, সাইফুল ইসলাম, জুনায়েদ হোসেন জয়, ফরহাদ ও আসরাফুল আলম নাঈম এবং চুজ ফ্রেন্ড অ্যান্ড কেয়ারের মির্জা কবির সাদাফ, অহিদুজামান সরকার, আরিফুল ইসলাম, খালেদ মাসুদ, তৌহিদ ইসলাম, আরবি ও তানজিল হোসেন। তাদের মধ্যে মির্জা করিব সাদাফ ও আশরাফুল আলম নাঈমকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা

হয়েছে। অবশিষ্ট ১০ জনকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া আমাদের সময়কে বলেন, ১২ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা সংঘর্ষ ও মারামারিতে লিপ্ত হয়েছিলেন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এ শিক্ষার্থীরা বহিষ্কারের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থাকতে পারবেন না। গত রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি সভায় বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বহিষ্কৃতরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

গত বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত পুরনো ঘটনার জেরে সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগের চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি) ও সিক্সটি নাইন। তাদের মধ্যে সিএফসির নেতাকর্মীরা শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী। আর সিক্সটি নাইনের নেতাকর্মীরা সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। বর্তমানে সিএফসির নেতৃত্বে আছেন চবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী সিএফসির চার কর্মীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হেনস্তার অভিযোগ দেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে সিএফসির ওই চার কর্মী দুই ছাত্রীকে হেনস্তা করেন। অভিযুক্তরা হলেন আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জুনায়েদ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রুবেল হাসান, দর্শন বিভাগের ইমন আহাম্মেদ ও আর এইচ রাজু।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে পোস্ট দেন সিক্সটি নাইনের কর্মী শিহাব আরমান। তিনি বলেন, দুই ছাত্রীকে হেনস্তার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে পোস্টও দেন। মূলত এর জেরেই সিএফসির প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের নেতাকর্মীরা তাকে মারধর করেছেন। এটি থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

তবে সিএফসির নেতাকর্মীদের দাবি, সিএফসির কর্মী তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় বান্ধবীর সঙ্গে শহীদ মিনারে বসেছিলেন। এ সময় তার বান্ধবীকে শিহাব দুবার উত্ত্যক্ত করেন। পরে তারা শিহাবকে প্রতিহত করেন। ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার জন্য তাকে মারধর করা হয়নি।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৪ অক্টোবর সিক্সটি নাইনের কর্মী ও বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শিহাব আরমান শহীদ মিনার থেকে গোলচত্বর এলাকায় হেঁটে আসছিলেন। পথে সিএফসির প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের কর্মীরা তাকে মারধর করেন। সেখানে ছিলেন আরবি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ আরও বেশ কয়েকজন। পরে দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। গত রবিবার রাতে দুপক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা করে।

advertisement
advertisement