advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

নাটক-সিনেমায় ভালো গল্পের অভাব
বিরক্ত দর্শকরা

জাহিদ ভূঁইয়া
১৯ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২১ ০৯:৪৩ এএম
advertisement

টিভি চ্যানেলের পাশাপাশি ইউটিউব চ্যানেলে নাটক প্রচারের পর থেকেই বেড়ে গেছে কাজের সংখ্যা। আবার করোনা একটু স্বাভাবিক হওয়ার পর হিড়িক পড়েছে সিনেমা নির্মাণে। কিন্তু ভালো গল্প নিয়ে নাটক কিংবা সিনেমা হচ্ছে কয়টা? ভালো গল্পের অভাব এতটাই প্রকট যে, রীতিমতো দর্শকরাও বিরক্ত। লিখেছেন- জাহিদ ভূঁইয়া

গত ১ বছরে প্রায় ৫ শতাধিক নাটক নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে ভালো গল্পের নাটক নেই বললেই চলে। হাতেগোনা কয়েকটি কাজ জনপ্রিয় হয়েছে। সেগুলো আবার গল্পের দিক দিয়ে তেমন ভালো নয় বলেই অনেকে মত দিয়েছেন। গুণী অভিনেতা আবুল হায়াত এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গল্পের উন্নতি ঘটাতে হবে, সেই সঙ্গে আনতে হবে বৈচিত্র্যতা। গৎবাঁধা গল্পের বাইরে গিয়ে ভাবনায় বৈচিত্র্য না আনলে, সিনিয়রদের চরিত্রের গুরুত্ব না বাড়লে শুধু প্রেম-ভালোবাসা দিয়ে নাটক চলতে পারে না। ভিনদেশি গল্পের আদলে কপি করা নাটক কখনই আমাদের নিজস্বতাকে বাঁচাবে না। আর নিজস্বতা না থাকলে কোনো কিছুর প্রতি মানুষের দায় কাজ করে না। তাই ভালো গল্পের বিকল্প নেই। আর যারা এখন নায়ক-নায়িকা হিসেবে পর্দায় আসছে, তাদেরও ভালো গল্পে গুরুত্ব দিতে হবে। সিনিয়রদের সংশ্লিষ্টতা বাড়াতে হবে।’

‘অনেক দিন হলো নতুন কোনো চলচ্চিত্রে আপনাকে দেখা যাচ্ছে না’- এই প্রশ্নের মুখোমুখি প্রায়ই হতে হয় সিনিয়র কিংবা জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের। আর উত্তরে সবার একটিই কথা- ‘ভালো গল্প পেলে নিশ্চয় অভিনয় করব।’ এই যে ভালো গল্পের অভাব, এটি দূর হবে কবে? নির্মাতা কাজী হায়াৎ বলেন, ‘একটা সময় চলচ্চিত্রপাড়ায় সাহিত্যিকদের বেশ আনাগোনা ছিল। সেসব সাহিত্যিক এখন হারিয়ে গেছেন। যারা সাহিত্য রচনা করতেন, তারা চলচ্চিত্রের জন্য গল্প লিখছেন না। দেশে এখন সাহিত্যিকদের অভাব না থাকলেও চলচ্চিত্রের জন্য গল্প লেখার মানুষ নেই। অনেক শিক্ষিত ব্যক্তি আছেন আমাদের চারপাশে- যারা চলচ্চিত্রের জন্য ভালো গল্প বা কাহিনি চাইলেই লিখতে পারেন। ভালো চলচ্চিত্রের জন্য মৌলিক গল্পের যেমন প্রয়োজন, ঠিক তেমনি ভালো চিন্তাচেতনার লেখকও প্রয়োজন।’

কাজী হায়াতের কথার সঙ্গে মিল রেখে প্রায় একই কথা বলেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান। তিনি বলেন, ‘এটা শতভাগ সত্যি, চলচ্চিত্রে ভালো গল্প কম পাচ্ছি। এখন যে ধরণের গল্প নিয়ে কাজ হয়, সেগুলোয় চরিত্র কম থাকে। বরেণ্য শিল্পীদের এতে রাখার সুযোগও খুব সীমিত। এজন্য আমাদের দেশের অনেক তারকাশিল্পী অভিনয় থেকে দূরে আছেন। প্রযোজক-পরিচালকরা চাইলেই তাদের নিয়ে কাজ করতে পারেন। শুধু প্রয়োজন চলচ্চিত্রের গল্পে তাদের গুরুত্ব রাখা।’

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অভিনেত্রী পূর্ণিমা কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে। এ পুরো সময়টাতেই চলচ্চিত্রকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। তার ধারণা, বর্তমানে মেধাবী নির্মাতা আর গল্পের অভাবে ভুগছে আমাদের চলচ্চিত্র। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরেই নানা মাধ্যম থেকে শুনে আসছি, বাংলা ছবি খুব শিগগির ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু এর কোনো বাস্তবচিত্র চোখে পড়ছে না। চলচ্চিত্র বারবার তার সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে এক সময় গল্পের বৈচিত্র্য ছিল। সেসব গল্পের ছবিগুলো দর্শককে প্রতিনিয়ত আকৃষ্ট করতে সক্ষম হতো। কিন্তু ইদানীং বাংলা ছবির গল্পে কোনো নতুনত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। ভালো গল্প একেবারে নেই বললেই চলে।’

ভালো গল্পের অভাব, এটি স্বীকার করলেও অভিনেত্রী পূর্ণিমার কথার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ভালো গল্পের অভাবে দর্শক চলচ্চিত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে- ব্যাপারটি এ রকম নয়। ভালো, খারাপ সব সময়ই ছিল। এখন ভালো কাজের চেয়ে খারাপ কাজের সংখ্যাটি বেড়েছে। গল্পের অভাবে ভালো মেকার, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা খুব বেশি কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। ভালো গল্পের কাজ যে হচ্ছে না, সেটি বলব না। কিন্তু খারাপের ভিড়ে ভালোটা হারিয়ে যাচ্ছে।’

একটি ছবির মূল উপাদান হলো মৌলিকত্ব। গল্পকে বলা হয় চলচ্চিত্রের হƒৎপি-। যে গল্পের মৌলিকতা আর নতুনত্ব যত বেশি, দর্শকের কাছে সেটি হয়ে ওঠে তত আকর্ষণীয়। এ সময়ে এসেও যেসব ছবি দেশে-বিদেশে সমাদৃত হচ্ছে, এর মূলে আছে গল্প। একটা সময় ছিল ভালো ও ভিন্ন গল্পের তাগিদে একাধিক মিটিং হতো। সবাই মিলে বসে গল্প ঠিক করা হতো। আর বর্তমানে বিদেশি গল্পই উল্টেপাল্টে দেওয়া হচ্ছে। অথচ এখন দর্শকের অগোচরে থাকে না কিছুই। ইন্টারনেটের এ যুগে দেশি-বিদেশি সব চলচ্চিত্র সম্পর্কেই থাকে তাদের ধারণা।

 

 

advertisement
advertisement