advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পাকিস্তানে উগ্রপন্থা বাড়ছে আফগানিস্তানে তালেবান উত্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২১ ০৯:০৫ এএম
পুরোনো ছবি
advertisement

দুই দশকের সন্ত্রাসীবিরোধী যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটার পর আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ফিরে এসেছে তালেবান গোষ্ঠী। এতে শুধু আফগানিস্তানে নয়, প্রতিবেশী পাকিস্তানেও উগ্রপন্থা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। গতকাল সংবাদমাধ্যম এপি এ নিয়ে বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

পাকিস্তানে তালেবানের পৃথক সংগঠন রয়েছে, যা তেহরিক-ই-তালেবান বা টিটিপি নামে পরিচিত। এই সংগঠনটি আফগান তালেবান থেকে আলাদা, এদের কর্মকাণ্ড পৃথকভাবে পরিচালিত হয়। আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতা নেওয়ার আগেও পাকিস্তানের তালেবানরা আফগানিস্তানকে নিজেদের ‘নিরাপদ এলাকা’ মনে করত। কিন্তু চলতি বছর আগস্টে তালেবানরা কাবুল দখলের পর সেই ‘নিরাপত্তা বোধ’ আরও বেড়েছে।

এ ছাড়া আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় তালেবানদের আধিপত্য বেড়েছে। এপির প্রতিবেদনে একটি উদাহরণ তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, সেপ্টেম্বর মাসে নুর ইসলাম দেলোয়ার নামে একজন ঠিকাদার পাকিস্তানের আফগান সীমান্তবর্তী শহর মীর আলিতে একটি খাল নির্মাণ করেন, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ডলার। তালেবানরা তাকে ডেকে ১ হাজার ১০০ ডলার ভাগ দাবি করে। দেলোয়ার সেই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এক সপ্তাহ পর দেলোয়ারের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ধরনের ঘটনা আরও আছে। এ বিষয়ে ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাসের অধ্যাপক ব্রায়ান গ্রিন উইলিয়ামস বলেন, আফগানিস্তানে তালেবানের সফলতা ও বিশ্বশক্তি আমেরিকাকে পরাজিত করার বিষয়টি পাকিস্তান তালেবানকে চাঙ্গা করেছে। এখন তারা বিশ্বাস করবে যে, তারাও পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে সফল হতে পারবে।

খবরে বলা হয়, টিটিপির শুরু হয় ২০০০ সালের শুরুর দিকে। এর পর থেকে তারা বহু হামলা পরিচালনা করেছে। এ ছাড়া অনেক নৃগোষ্ঠী অধুষ্যিৎ এলাকা দখল করেছিল তারা। কিন্তু ২০১০ সালে সরকার এসব এলাকায় অভিযান শুরু করে, এতে বেশ কিছু এলাকা উদ্ধার হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে টিটিপি হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে তিন শতাধিক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে তারা। এসব হামলার মধ্যে ১৪৪টি সেনাসদস্যকে টার্গেট করা হয়েছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি এ তথ্য জানিয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানভিত্তিক শান্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আমির রানা বলেছেন, আফগানিস্তানে তালেবান উত্থানের পর পাকিস্তানে অনেক ধর্মীয় দল উৎসাহিত হয়েছে। এই রাজনীতিক দলগুলো প্রকাশ্যে শিয়া সম্প্রদায়সহ অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সেøাগান দেয় এবং রাজপথে তাদের দাবি-দাওয়ার পক্ষে মিছিল করে।

তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তানে নামে একটি দল রয়েছে, যাদের একটি মাত্র দাবি রয়েছে, তা হলো- বিতর্কিত ব্লাসফেমি (ধর্ম অবমাননা) আইনকে রক্ষা করা। আইনটি সাধারণত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

advertisement
advertisement